ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনাগত শিশুর লিঙ্গ জানা নিষিদ্ধে পাবলিক রিঅ্যাকশন

৩০ নভেম্বর, ২০১৯ : ৩:১৯ অপরাহ্ণ ৫৭৮

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আল্ট্রাসনোর মাধ্যমে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ জানা নিষিদ্ধ করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। গত ২৪ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে সদ্য জন্ম হওয়া এক শিশুকে বদল করে ফেলার অভিযোগ উঠে। বাচ্চাটির মা শিশু জন্মের আগে আল্ট্রাসনোর মাধ্যমে জানতে পাড়েন তার গর্ভে ছেলে সন্তান রয়েছে। কিন্তু জন্মের পর তাকে দেওয়া হলো কন্যা সন্তান। এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়।
তার ৪ দিন পর অর্থাৎ ২৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ পরিক্ষা করা নিষেধ করা হয়েছে।
সিভিল সার্জনের এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ কিভাবে দেখছেন? এবিষয়ে তেপান্তরের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পাঠকের মতামত চাওয়া হয়। এতে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকমেরই মতামত পাওয়া গেছে। ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা কমেন্টের মাধ্যমে তারা তাদের মতামত জানিয়েছেন। নিচে কয়েক জনের মন্তব্য তুলে ধরা হলো:

শাদমান খান সৌমিক লিখেছেন: ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে হিসেব করলে মনে হয় না বাচ্চার জন্যে আল্ট্রাসোনোর ব্যাপারটা জায়েজ আছে।আর এটা তো এমনিতেও ক্ষতিকর,তেজস্ক্রিয়তার কারণে। সম্ভবত সেই কারণেই নিষেধ করেছেন উনি।আমি সমর্থন করি।

আসাদুজ্জামান আসাদ লিখেছেন: সারা দেশেই চালু আছে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বন্ধ করাটা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই মনে হচ্ছে। বন্ধ করলে সারা দেশেই করতে হবে। এটা যদি বাচ্চা চোরদের সুবিধার জন্য করা হয় তাহলে আমি এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে।

ওয়ালিউল্লাহ সরকার লিখেছেন: এই আইন ‘চোর’দের জন্য আরো সুবিধা এবং নিরাপদ হবে।

ইয়াসমিন সুলতানা রিমি লিখেছেন: অবশ্যই সমর্থন যোগ্য। তবে সুস্থ / অসুস্থ দেখতে চাইলে ঠিক আছে।

আনিসুর রহমান সানি লিখেছেন: হসপিটালে সিজার করার আগে লিঙ্গ জানার পক্ষে, কারণ না হলে অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চা পরিবর্তন করার সম্ভাবনা থেকে যায়।
এটা না করে হসপিটাল গুলোর সিজার বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হোক।

হানিফ ইফতেখার লিখেছেন: যেহেতু সিজার করানোর কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাই অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধ করা উচিত।

মারিয়াম আক্তার লিখেছেন: এই সিদ্ধান্তের পক্ষে।

মনিরুল ইসলাম লিখেছেন: আমি এটার বিপক্ষে।

দেবুজিৎ রয় লিখেছেন: এতে আরো বাচ্চা চোরি বাড়বে।

পলাশ খান লিখেছেন: এটা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ, তাই আমি এটার বিপক্ষে ।

এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে শিশুর লিঙ্গ জানা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে শিশুর লিঙ্গ জানানো যাবে না। এ জন্য চিকিৎসকসহ জেলার সব হাসপাতালে চিঠি দেয়া হয়েছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।