Tepantor

বাখরাবাদের দূর্নীতি প্রীতি

১৯ এপ্রিল, ২০২২ : ৭:০৩ অপরাহ্ণ ২৯০

সীমান্ত খোকন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের গ্যাস অবৈধ ভাবে ব্যবহার করার অপরাধে ২৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) কিরণ শংকর পাল। ওই মামলায় সবার শেষে অর্থাৎ ২৩ নম্বর আসামী করা হয়েছে শহরতলীর ঘাটুরা এলাকার মহসীন খন্দকার নামে এক সাবেক মেম্বারকে, যিনি প্রকৃত পক্ষে বাড়ি বাড়ি অবৈধ গ্যাস লাইন দেওয়ার মূল হোতা। অনেকে তাকে অবৈধ গ্যাস লাইনের গডফাদারও বলে থাকেন। এমনকি মামলার এজাহারে লিখা আছে যে, “অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন কালীন সময় অনেক আসামী জানায় তারা লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ২৩ নং আসামী মোঃ মহসীন খন্দকারের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থাপন করে ব্যবহার করে আসছে”।

Tepantor

কিন্তু তা স্বত্বেও বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ অবৈধ গ্যাসের এই মূল হোতাকে কেন সবার শেষের আসামী বানালো তা একটি রহস্য। অনেকে মনে করছেন, মহসীনকে ১ অথবা ২ নম্বর আসামী না করে ২৩ নম্বর আসামী করার মাধ্যমে তাকে গুরুত্বহীন আসামী বুঝানো হয়েছে। এর দ্বারা আবারও প্রমান পাওয়া গেলো, বাখরাবাদের ভিতরেই আসল দূর্নীতিবাজরা লুকিয়ে আছে। তারা দূর্নীতিবাজদের সাথে প্রীতি দেখিয়ে চলছেন। কেন এই প্রীতি?

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ সংযোগ প্রদানকারী অন্যরাও তাদের কাজে পার্টনার হিসেবে রাখে মহসীনকে। থানা পুলিশসহ সবকিছু ম্যানেজ করার দায়িত্ব থাকে তার ওপর। মহসীন বাখরাবাদে কখনো ঠিকাদারি করেননি। তার কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও নেই। তার বাড়ি লাগোয়া বাখরাবাদ অফিস। এটি তার বড় শক্তি। তার ওপর আছে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের পদ। আর এসব শক্তিতেই অবৈধ গ্যাস সংযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেন মহসীন। ২০১৩ সালে অন্যের লাইসেন্সে এই কারবারে নাম লেখান প্রথম। তখনই বৈধ সংযোগের নাম করে গোটা সুহিলপুরে জালের মতো অবৈধ লাইন সম্প্রসারণ করেন। অবৈধভাবে সম্প্রসারণ করা এসব লাইন থেকে শত শত গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। অনেক সময় কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধ গ্যাস গ্রাহকদের জন্য বিল বইও ভাগিয়ে নেয় সিরিয়াল ভঙ্গ করে। এমন তথ্যও আছে।

এত কিছুর পরও মহসীন বীরদর্পে অবৈধ গ্যাস সংযোগের কাজ করে যাচ্ছে। এসব অবৈধ কাজের জন্য তাকে কখনো শাস্তি পেতে হয়নি। বরং বাখরাবাদের কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তা তাকে গোপন সহযোগীতা করে আসছে। এর প্রমান গত ১৭ এপ্রিলের মামলায়। অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী বা মূল হোতাকে যখন সবার নিচের আসামী করা হয় তখন তার কোন শাস্তি না হওয়ায় স্বাভাবিক।
৫ বছর আগে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ হলেও বসে নেই মহসীন। নিয়মিত অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যাচ্ছেন এখনো। মহসীন ছাড়াও বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ অবৈধ গ্যাস সংযোগের হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলো বাশার আলী তালুকদার, জাকির,ফয়সল, শামীম, মঞ্জু, হাসান, এমরান আলমগীরসহ আরো কয়েকজনকে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে সংযোগ বন্ধ হওয়ার আগে ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস লাইন সম্প্রসারণ করা হয় অবৈধভাবে। তখনই গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের সিন্ডিকেট। ৬০/৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় একেকটি সংযোগের জন্য। অবৈধ সংযোগে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য হয় তাদের। কিন্তু এসবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না বাখরাবাদ। অবৈধ সংযোগের সিন্ডিকেট কোম্পানির বিকল্প শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলেও কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান।

মামলায় অবৈধ গ্যাসের হোতা মহসীনকে ২৩ জন আসামীর মধ্যে কেন সবার শেষের আসামী করা হলো জানার চেষ্টা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অফিস থেকে জানানো হয়েছে মামলার বাদী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) কিরণ শংকর পাল দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের ডিজিএম শফিউল আলম এ ব্যপারে কোন বক্তব্য দেননি।

 

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।