Tepantor

সাজিদুর ও তাহেরি সহ ১১৬ জন আলেমের নাম দুদকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

১৭ মে, ২০২২ : ৭:৪৯ অপরাহ্ণ ৭২৬

তেপান্তর ‍রিপোর্ট: জঙ্গি অর্থায়ন ও দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে কাজ করছে বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাওলানা সাজিদুর রহমান ও গিয়াসউদ্দিন তাহেরি সহ সারাদেশের ১১৬ জন কথিত আলেমের নামের একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে ‘গণকমিশন’। এই তালিকা জমা দেয়ার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সপ্তাহভর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। গত বুধবার দুপুর ১২ টায় দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লার হাতে একটি শ্বেতপত্র তুলে দেন গণকমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাওলানা সাজিদুর রহমান ও গিয়াসউদ্দিন তাহেরি সহ সারাদেশের ১১৬ সন্দেহভাজন ব্যাক্তির নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জঙ্গি অর্থায়ন ও ওয়াজের মাধ্যমে তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করছেন।

Tepantor

গণমাধ্যমকে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমরা নয় মাস তদন্ত করেছি। বহু ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য নিয়েছি। ২২শ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন গত মার্চে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। আপিল বিভাগের সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেন, তদন্তে আমরা ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছি। তারা মানি লন্ডারিং করেছে। জামায়াত ও ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে জঙ্গিবাদ ছড়াতে অর্থায়ন করা হচ্ছে। সেই দুর্নীতির তথ্য দিলাম। তাদেরকে বাড়তে দেওয়া যায় না।

দুদক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন অর্ধশতাধিক ওয়াজ ব্যবসায়ীর দুর্নীতির খোঁজ তারা শুরু করেছেন। আমাদের রিপোর্টে দুদক আইন মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এই শ্বেতপত্র দুদকের হাতে দেয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ জনগণের মাঝে সপ্তাহভর দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

শহরের মসজিদ রোড এর ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, সরকারের মদদে এই গণকমিশন আলেমদেরকে অপমানিত ও বদনাম করতে চাইছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপক এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, রাজনীতিবিদ, আমলা, প্রশাসন, পুলিশের লোকজন, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে সাথে ধর্মের নাম ব্যবহার করে যারা আয় করে তাদের সম্পদেরও হিসাব চাওয়ার অধিকার সাধারণ মানুষের থাকা উচিত,এবং সেই হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, গত বছর মার্চ মাসে মোল্লারা যে তান্ডব চালিয়েছে তাদেরকে অবশ্যই নজরদারিতে রাখতে হবে, তারা কোথা থেকে আয় করে এবং কোথায় ব্যয় করে সবকিছু।

শ্বেতপত্রে নাম প্রকাশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং মাওলানা গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

 

এমসি/এসকে

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।