Tepantor

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার উগ্রতা

৩০ মে, ২০২২ : ৭:৪৩ অপরাহ্ণ ৪৮৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর সাথে অসংলগ্ন ও উগ্র আচরণের অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

Tepantor

সোমবার (৩০ মে) সকালে জেলা প্রশাসকের কাছে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা সংবাদদাতা আল মামুন এই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২৯ মে ২০২২ বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেডিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুর্ধ্ব ১৭ গোল্ডকাপ এর আশুগঞ্জ উপজেলা বনাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার খেলা চলছিল। এসময় অভিযোগকারী সাংবাদিক আল মামুন, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুসসহ আরো অনেকেই অথিতি মঞ্চে বসে খেলা দেখছিল। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে কাকে যেন কল করে জোরে জোরে “আশুগঞ্জ এর ছেলেদের ভিডিও করে রাখ, এরা বেয়াদব, সামনে যেন আর জেলার কোন খেলায় অংশ নিতে না পারে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার” এসব কথা বলছিল। ওনার কথাগুলো আশাপাশের সবাই শুনছিলেন।

দ্বিতীয়বার আবারও কল দিয়ে বলছিলেন যে, আশুগঞ্জের ছেলেরা বেয়াদব, ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, ওরা রেফারির সিদ্ধান্ত মানে না, খেলায় রেফারির সিদ্ধান্তনই চূড়ান্ত, না মানলে ওদের ঘাড়ধরে মাঠ থেকে বের করে দেয়া দরকার”। এই কথাগুলোও আশাপাশের সকলেই শুনছিলেন। মোবাইলে কথা শেষ হলে ওনার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সাংবাদিক মামুন তাকে এই রকম কথা বাইরের কাউকে না বলতে অনুরোধ করেন। মাঠে দু’দলই ভাল খেলছে। মাঠে এবং মাঠের বাইরে কোন ঝামেলা হচ্ছে না। বাহিরের কাউকে এই রকম বার্তা দিলে পরে ভিতরে এসে ঝামেলা হতে পারে। যদি কোন ঝামেলা হয় এই দায় কে নেবে? এই কথা বলার সাথে সাথে তিনি সাংবাদিক মামুনের পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার সাথে সাথে তিনি খারাপ আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি ও তার সাথে থাকা পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারি একত্রিত হয়ে সাংবাদিক মামুন, আশুগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহিন শিকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদিন, আশুগঞ্জ উপজেলা দলের ম্যানেজার এনামুল হকসহ সকলকে মারতে আসেন। পরে সবাইকে দাড় করিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে অতিথি মঞ্চ থেকে তিনি ও তার সঙ্গীয়রা সাংবাদিকসহ সকলকে নামিয়ে দেন।

এই বিষয়ে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, আশুগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার খেলাটি কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই শেষ হয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস তিনি আশুগঞ্জের সাথে পৌরসভার একটি ঝামেলা তৈরি করছে চেয়েছিলেন। মোবাইলে তিনি উস্কানি দিচ্ছিলেন। প্রতিবাদ করলে তিনিসহ তার অধিনস্থ ৩০/৪০ জন আমাদের মারতে আসেন। একপর্যায়ে আমাদের অতিথি মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। যা খুবই বিব্রতকর ও অপমানজনক। তার আচরণ কোন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার মত নয়। সাংবাদিকবিরোধী, সন্ত্রাসী ও মারমুখি আচরণ কোন কর্মকর্তার কাছেই আমরা আশা করি না। এলাকাভিত্তিক কোন বৈরী আচরণ কোনভাবেই সহ্য করা হবে না।

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগের ব্যপারে আমি কিছু জানিনা। আমার কাছে এসে অভিযোগ পৌছালে আমি এটার উত্তর দিবো।

২৯ মে এমন কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

 

এএম/এসকে

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।