Tepantor

স্ত্রীর পরকীয়ার জেড়ে কলেজছাত্রীর বস্ত্রহরণের চেষ্টা

১৮ জুন, ২০২২ : ১০:২২ অপরাহ্ণ ৪৫৫

মোস্তাফিজ চৌধুরী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে স্ত্রীর পরকীয়ার জেড়ে পূর্ণিমা নামের এক কলেজছাত্রীর বস্ত্রহরণের চেষ্টা করা হয়েছে, এসময় তার শ্লীলতাহানি ঘটানো হয়েছে।এঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে কলেজছাত্রীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় অভিযুক্ত জসিম। উপজেলার কাশিনগর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকালে এঘটনা ঘটে।

Tepantor

জানা যায়, কাশীনগর গ্রামের জসিম মিয়া’র স্ত্রী মিতু বেগমের সাথে একই গ্রামের জয় নামক এক যুবকের সাথে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে কলেজছাত্রী পূর্ণিমা আক্তারকে শ্লীলতাহানি এবং বস্ত্রহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এসময় পূর্নিমার গায়ের পোষাক ছিড়ে ফেলা হয়েছে। ভুক্তভোগী পূর্ণিমা জয় এর বড় বোন এবং আখাউড়া জাহানারা হক মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

ভুক্তভোগী পূর্ণিমা তেপান্তরকে বলেন, আমি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার সময় কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে রাস্তায় যাওয়ার সাথে সাথে জসিম মিয়া ও ফারুক মিয়া আমার উদ্দেশ্যে তেড়ে এসে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই আমাকে চড় থাপড় মারতে থাকে এবং আমার গায়ের কাপড় টেনে ছিড়ে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। তখন আমাকে আখাউড়ায় নিয়ে যেতে আসা আমার অটোরিকশা চালক চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ দৌড়ে এসে ওদের কাছ থেকে বাচানোর চেষ্টা করে, আশেপাশের মানুষ বের হয়ে আসলে আসামীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। তারা পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমি সরকারি জরুরি সার্ভিস ৯৯৯ এ কল দেয়ার আধা ঘন্টা পর পুলিশ আসলে আমি ও আমার পরিবার তাদের সাথে যেয়ে থানায় মামলা দায়েরের জন্য অভিযোগপত্র জমা দেই।

হঠাৎ করে এমন আক্রমণ কেন করা হল জানতে চাইলে পূর্ণিমা আক্তার বলেন, জসিম মিয়ার স্ত্রী মিতু বেগমের সাথে আমার ছোট ভাই জয় এর সম্পর্কের জেরে গত কিছুদিন যাবত আসামীরা রাস্তাঘাটে অশ্লীল অশ্রাব্য গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেয়। আমি এসবে সাড়া না দেয়ায় তারা প্রতিহিংসা বশত আমার শ্লীলতাহানি ঘটানো ও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

অভিযুক্ত জসিম

ভুক্তভোগীর পিতা মামন মিয়া তেপান্তরকে বলেন, তারা কিছুদিন আগে আমার ছেলে জয়কে নিয়ে গাছে বেধে বেধড়ক পিটিয়েছে,তারপর এলাকার সর্দার সাবেক মেম্বার নান্নু, স্বপন, জামালসহ অন্যরা মিটমাট করে আমি এবং আমার ছেলের কাছ থেকে খালি স্টাম্পে সই রেখে ছেড়ে দেয়। এখন এই আসামীরা আমার অবলা মেয়েটার ইজ্জতের পিছে লেগেছে।

তার ছেলেকে মারধরের ব্যাপারে থানায় অভিযোগ কেন দায়ের করেননি জানতে চাইলে মামন মিয়া বলেন, “দেহেন আমরা ইহান নিরীহ গোষ্ঠী আর হেরা অইছে লাডিউলা, সব সর্দার মাতবররা সবসম হেরার লগেই থাহে। হেরা আমরারে হালি স্টাম্পে সাইন রাইখা শক্ত ভাবে কইছে ইডা লইয়া যাতে আর বাড়াবাড়ি না করি।” তিনি আরও বলেন, অহন আমরা মামলা করনে হেরা লিটন ডাক্তাররে দিয়া আমার মাইয়ারে বিয়ার প্রস্তাব দিছে।

একজনকে গাছে বেধে বেধড়ক পিটানোর পর খালি স্টাম্পে তার এবং তার পরিবারের সাইন রেখে মিটমাট করা কতটুকু আইনসম্মত জানতে সাবেক মেম্বার নান্নু মিয়ার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং স্বপন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সামাজিকভাবে হত্যা মামলারও সুরাহা হয়,আমরা সমাধানের চেষ্টা করেছি,তবে যে কেউ চাইলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।

অভিযুক্ত জসিম মিয়া এবং ফারুক মিয়ার বাড়িতে সরেজমিনে যেয়ে তাদের বাড়িতে ছোট বোন নীলুফার বেগম এবং ফারুকের স্ত্রীকে পাওয়া যায়। এঘটনা সম্পর্কে জসিম ও ফারুকের বোন নীলুফার বেগম তেপান্তরকে বলেন, “আমার ভাই যিডা করছে অন্যায় করছে। আসলে হের মাথাডা নষ্ট কইরা লাইছে হের বউ আর জয়ে। জসিমের দুইডা বাচ্চা আছে বড়ডার বয়স চার আর ছোডডার দুই,এই দুইডা বাচ্চা থইয়া অ মিতু হেই পুলার লগে যোগাযোগ করে।  আমার ভাই হেইরে কত বুঝাইছে, শাসন  করছে,এলাকার সর্দাররা শেষ কইরা দিছে,এরপরও হেরা সম্পর্ক রাখছে।

জয় এবং মিতুর সম্পর্কে কলেজছাত্রী পূর্ণিমার কি দোষ, তার উপর কেন আক্রমন এবং তাকেই কেন বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হল জিজ্ঞেস করলে জসিমের বোন তেপান্তরকে বলেন, মিতু নাকি জয়ের লগেই থাকবে তাইলে আমার ভাই হের দুইডা বাচ্চার লাইগা পূর্ণিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিছে।

এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, আসলে জসিম হয়তো এইটা প্রতিহিংসা থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী করছে, ব্যাপারটা এইরকম আমি ইজ্জত নিয়া আমি অই বিয়ার প্রস্তাব দিমু তাইলে শরমে আমার কাছেই বিয়ে দিব। আমার বউ তুই নিগগা তর বইন আমারে দেলা এমুন আরকি। আর এছাড়া হেরা হেডাম ওয়ালা লাডিওলা হেরার লগে লাগত আইব কেডা।

 

এব্যাপারে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মির্জা মোঃ হাসান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তেপান্তরকে বলেন, ঘটনার দিনই মামলা দায়ের করা হয়,এবং পরদিন একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুজন পলাতক আছে,দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। নারী শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের ঘটনায় সামাজিকভাবে মিটমাট করার কোন সুযোগ নাই। ভুক্তভোগীর ছোটভাই জয়কে মারধরের ব্যাপারে কোন অভিযোগ পূর্বে দেয়া হয়নি।

জয় এবং মিতুর সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে মিতুর বাবার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে সঠিক জানেননা বলে জানান, তিনি আগামীকাল বিজয়নগর গিয়ে এব্যাপারে খোজ খবর নেবেন বলে জানান।

পূর্ণিমার দায়ের করা মামলার আসামীগণ যথাক্রমেঃ

১, মোঃ জসিম মিয়া(৩৮), পিতা মৃত ফতেহ আলী।

২. ফারুক মিয়া(৩২), পিতা মৃত ফতেহ আলী।

৩. জিসান মিয়া(২২), পিতা মৃত মধু মিয়া,পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

 

এমসি/এসকে

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।