Tepantor

সরাইল থানার ভিতরে বিচারপ্রার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

৯ নভেম্বর, ২০২২ : ৪:৫৬ অপরাহ্ণ ২৯৪

তেপান্তর রিপোর্ট: সালিশের জন্য থানায় ডেকে নিয়ে উল্টো পুলিশের দ্বারা যৌন নির্যাতনের স্বীকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। গত ১৪ অক্টোবর এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী ঝুমা আক্তার এই ঘটনার বিচার চেয়ে গত ৮ নভেম্বর ও ৯ নভেম্বর বিচার বিভাগ ও পুলিশ প্রধানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এবং মানবাধিকার সংস্থার কাছে অভিযোগ করেছেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে সরাইল থানার ওসি আসলাম হোসেন, এস আই সাইফুল ইসলাম, এ এস আই রুবেল আকন্দ, আখিতারা গ্রামের ওর্য়াড মেম্বার সোহাগ, থানার মুন্সি, আখিতারা গামের নারী মেম্বার সাহেদা এবং ঝুমার খালা হনুফাকে।

সালিশের নামে থানায় ডেকে নিয়ে সেই সালিশের রায় না মানায় কোন নারীকে থানার ভেতরে যৌন হয়ারানী করার অভিযোগ এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কখনো শোনা যায়নি। যদিও সরাইল থানার ওসি আসলাম হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী ঝুমা সরাইলের আখিতারা গ্রামের আমজাদ আলীর মেয়ে। তার বয়স আনুমানিক ২৫।

ঝুমার করা অভিযোগপত্র ঝুমা বলেন, আমি গত ১১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার আখিতারা গ্রামে আমার খালার বাসায় যাই। তখন সেখানে আমার ব্যাগে থাকা ৫৬০০০ (ছাপ্পান্ন হাজার) টাকা খালা চুরি করে নিয়ে যায়। তখন এই চুরির প্রতিবাদ করায় খালা তার মেয়েকে নিয়ে আমাকে আর আমার বোনকে মারধোর করে। ওইদিনই আমি সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই চিকিৎসার জন্য। পরে সেখানকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সোহাগ মেম্বারের পরামর্শে ১২ অক্টোবর আমি সরাইল থানায় যাই অভিযোগ করতে। কিন্ত থানা আমার অভিযোগ নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরের দিন ১৩ তারিখে আমি আবার থানায় যাই, কিন্তু তখনও অভিযোগ নেয়নি থানার ওসি আসলাম হোসেন। তখন আমি নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ ফোন দেই। তখন বাধ্য হয়ে ওসি আমার অভিযোগ নেয়। কিন্তু এর ফলে ওসি সহ থানার সবাই আমার প্রতি ক্ষেপে যায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই দিনই আমার খালার বাড়িতে তদন্ত করতে যায় পুলিশ।ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা রুবেল আকন্দ জানান, বিষয়টি নিয়ে ১৪ অক্টোবর থানায় সালিশ হবে।

১৪ অক্টোবর থানায় সালিশে যাওয়ার পর তারা আমার প্রতি অবিচার করছে বুঝতে পেরে আমি থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কারন, তারা সবাই বলছে যে, আমার খালা নিয়ে যাওয়া আমার ৫৬০০০ টাকা ও চেইন আর যেন দাবী না করি। উল্টো আমি যেন ১ লক্ষ টাকা দেই। আমি এ রায় মানিনি। তখন তদন্ত কর্মকর্তা রুবেল আকন্দ আমাকে ও আমার মাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তিনি দম্ভ দেখিলে বলতে থাকেন, “আমি একজন দাড়গা, আমার ডাক আপনারা মানছেন না। আপনার মেয়েকে বলেন আমাদের রায় মানতে”। কিন্তু সা স্বত্বেও আমি তাদের এই অযৌক্তিক রায় মানিনি। তখন ওসি ডেকে নিয়ে আমাদেরকে মারাত্নক গালিগালাজ করে। তখন ওসি আসলাম হোসেন ইউপি মেম্বার সোহাগকে ভিডিও করে সাক্ষী রাখে যে, আমরা তাদের রায় মানিনি। ভিডিও শেষ করার পর আমিসহ আমার মা ও বোনকে থানার একটি খালি রুমে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে নেওয়ার পর ওসি আসলাম হোসেন, তদন্ত কর্মকর্তা রুবেল আকন্দ, এস আই সাইফুল, ওয়ার্ড মেম্বার সোহাগ ও মুন্সি আমাকে, আমার মাকে ও আমার বোনকে যৌণ নির্যাতন করে। তখন তারা আমাদেরকে সারা শরীরে হাতিয়ে বিভিন্ন র্স্পশকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাদেরকে মারধোর করে। শেষে আমাদের শরীরের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে। তখন এর থেকে মুক্তি পেতে হলে ১ লক্ষ টাকা চাদা দাবী করে পুলিশ। তখন এই কথাগুলো আমি আমার মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করি। তারা ভিডিও রেকর্ডের বিষয়টি দেখতে পেরে আমার মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং তখন নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়ায় পুলিশ। আমার মোবাইল ফোনটি হলো, iphone 13 pro-max, IME number 359836510565785, mobile number- 01957888058.

এঘটনায় ১৪ তারিখেই পুলিশ আমার খালাম্মা হনুফাকে বাদী করে আমাকে, আমার মাকে ও আমার বোনকে আসামী করে মামলা দেয় পুলিশ। তখন থানা থেকে আমার মাথায় আমার ওড়না পেচিয়ে চোখ-মুখ বন্ধ করে আমাকে কোর্টে চালান করা হয়। সেই মামলায় আমার বোনের ৮ মাস বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে আমরা ৩ দিন জেল খেটে ১৭ অক্টোবর জামিন পাই।
ঝুমা বলেন, ১৭ তারিখে জামিন পাওয়ার পর ১৮ তারিখে আমার উকিলের পরামর্শে আমি থানায় যায় মোবাইল আনতে। তখন এ এস আই রুবেল আকন্দ ও এস আই সাইফুল আমাকে মোবাইল তো দেনইনি বরং মোবাইলের মেমো, আমার চিকিৎসার কাগজপত্র, গলার চেইনের মেমো এবং ১৩ তারিখে সরাইল থানায় দেওয়া অভিগপত্রের কপি তরা রেখে দেয়।
পরে গত ২৪ অক্টোবর আমি ওসি সহ ৬ জনকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা করি। কিন্তু ওসির প্রভাবে দুটি মামলাই খারিজ হয়ে যায়। এরপর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এবিষয়ে সরাইল থনার ওসি আসলাম হোসেন সব অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, এ ঘটনায় কোথাও আইনের বত্যয় ঘটেনি। তবে মেয়েটার মানাসিক সমস্যা থাকতে পারে। তার খালার সাথে বাড়িতে যখন তাদের সমস্যা হয় এই ব্যপারটি নিয়ে আমরা থানায় সালিশে বসি। সালিশে আমরা যখন রায় দিলাম তখন সে রায় মানেনি ঝুমা। স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেই সালিশে ছিলো। পরে আইন অনুযায়ী কোর্টে চালান করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, থানায় আমরা আইন মেনে কাজ করেছি তা স্বত্বেও তাকে সামাল দেওয়া যাচ্ছিলোনা। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানদের মানেনি, সে কঠিন একটা পাজি মেয়ে। মেয়েটা কাউকেই মানছিলোনা, তাকে থামানোই যাচ্ছিলোনা। তাই তাকে মামলার মাধ্যমে কোর্টে চালান করা হয়েছে।

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।