Tepantor

ঠিকাদারের অবৈধ গ্যাস কারবার

২২ নভেম্বর, ২০২২ : ৩:০৮ অপরাহ্ণ ১৩৬
ঠিকাদার হাবিবুল্লাহ আল মামুন

তেপান্তর রিপোর্ট: বাখরাবাদ গ্যাসের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিস্ট্রিবিউশনের ১.১ ক্যাটাগরির ঠিকাদার হাবিবুল্লাহ আল মামুন। কিন্তু তা স্বত্বেও মানুষকে অবৈধ গ্যাস লাইন দেন তিনি, বিনিময়ে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশ সরকারের এই গ্যাস তিনি অবৈধ ভাবে মানুষকে দিয়ে তার বিনিময়ে যেই টাকা আসে সেই টাকা তিনি ঢুকান নিজের পকেটে। তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স মামুন এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ সরকারিভাবে নতুন গ্যাস লাইন স্থাপন বন্ধ থাকায় তিনি এই সময় ধরে অবৈধ লাইন দিতে ব্যস্ত বলে অভিযোগ।

অবৈধ গ্যাস লাইন দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চলতি বছরের গত ৫ সেপ্টেম্বর “বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া”র পক্ষে বাদি হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) কিরন সংকর পাল।
সেই মামলায় বলা হয় চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ও পুলিশ সদস্যদের সমন্যয়ে গঠিত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শুরু হয়। সেই অভিযানে ঘটুরা পশ্চিম পাড়া এলাকায়ও অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় যার আয়তন ১০০০ ফুট। একই সময় ওই লাইনে ৩০টি অবৈধ গ্যাস চুলার সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই গ্যাস লাইন কে বা করা দিয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট জানতে চাইলে লাইন গ্রহীতারা প্রথমে ঠিকাদারের নাম বলতে অস্বীকৃতি জানায়, কিন্ত এক পর্যায়ে তারা হাবিবুল্লাহ আল মামুনের নাম বলেন।

মামলায় আরও বলা হয়, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ঠিকাদার হাবিবুল্লাহ আল মামুন এসব অবৈধ গ্যাস লাইন দেওয়ার জন্য প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন, এবং ভবিষ্যতে কোন অসুবিধা হবেনা বলে তার গ্রাহকদের আশ^স্ত করেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নিয়ে তাদের আমানতের ব্যপারে কোন বৈধ ব্যবস্থা না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সমস্ত টাকা আত্নসাৎ করে, যা বাংলাদেশ গ্যাস আইন এবং এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অপরাধ।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার হাবিবুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেখানে (ঘাটুরা পশ্চিম পাড়া) ৫/৬টি লাইন দিয়েছে তিতাসের সাবেক কর্মী দারু মিয়া। সেখানে আমি কোন লাইন দেইনি। তাছাড়া আমার যেই ১.১ ঠিকাদারী লাইসেন্স ছিলো সেটিও ২০১৪/১৫ এর পরে নবায়ন করা হয়নি। তদন্তের পর আপনারা সত্যটা জানতে পারবেন।

এবিষয়ে মামলার বাদী বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) কিরন সংকর পাল বলেন, হাবিবুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, বর্তমানে মামলাটি ডিবিতে তদন্তাধীন আছে। এছাড়া ওই ঘটনায় তাৎক্ষনিক ভাবে অনেককে জরিমানা করা হয়েছে। তবে তার লাইসেন্স যদি নবায়ন করা না থাকে তবুও তিনি বাখরাবাদের ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত।

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।