Tepantor

বীরদর্পে মাদক চোরাচালান ইব্রাহীমের

২২ নভেম্বর, ২০২২ : ৪:৩৭ অপরাহ্ণ ৩০১
ছবি: মাদক সম্রাট ইব্রাহিম

ওপেন সিক্রেট মাদক – পর্ব ৫

তেপান্তর রিপোর্ট: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগা দিয়ে প্রতিনিয়ত মাদক পাচার করে যাচ্ছে বিজয়নগর উপজেলা কাশিনগরের মাদক সম্রাট ইব্রাহিম মিয়া।যেকিনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক মাদক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে মাদক কারবারি এবং মাদক চোরাচালানের লেবারদের নিয়ে সম্প্রতি বিক্ষোভ সমাবেশ করে পুনরায় আলোচনায় আসে। সূত্রমতে ভারতের আগরতলা নরসিংঘর এর বাসিন্দা মাদক সরবরাহকারী মিঠু ওরফে মিটু,সয়লা,পবীর,নারায়ণ দত্ত,পিয়া ওরফে প্রিয়,সেম্বু,প্রতীপ ওরফে প্রদীপ,সজল,অনীল দেব এবং নরেশ দেব থেকে অবৈধ পথে প্রত্যেক মাসে গড়ে প্রায় চার কোটি টাকার মাদক আমদানি করে ইব্রাহিম মিয়া। আর এসব মাদক বর্ডার গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগোচরে (অনেক সময় তাদের সহযোগিতায়) তথা তাদের নাকের ডগা দিয়ে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামী কাশিনগর গ্রামের মাদক সম্রাট ইব্রাহিম মিয়া।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে লগড়িয়া সীমান্তের ওপার থেকে মাদকের ক্যারেনম্যান একই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে ফর ইসলামের নেতৃত্বে মেরাজ মিয়া,বাবু মিয়া,সাব্বির মিয়া,সাব্বির খান,নাহিম মিয়া,রহমতুল্লাহ,ওয়াসিম,শামীম মিয়া,মাসুম মিয়া,জুলাস মিয়া সহ আরও প্রায় ১০/১৫ জন লেবার ইব্রাহিমের মাদকের চালান নিয়ে আসে। ওপার থেকে সাধারণত বিজিবি সদস্যদের সীমান্তে ডিউটির শিফট পরিবর্তন এর সময় মাদক আমদানি করা হয়, তবে সন্ধ্যার এবং মধ্যরাতের শিফট পরিবর্তন এর সময়ই পাচার বেশি হয়। আবার অনেক সময় কিছু অসাধু বিজিবি সদস্যও বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে মাদক চোরাচালানের জন্য সুযোগ প্রদান করে। সীমান্তরক্ষীদের দুর্বলতা এবং অবহেলার সুযোগ নেয় ইব্রাহিম এর মতো মাদক কারবারিরা। প্রত্যেক চালানে ৮০ থেকে ১০০ কেজি গাজা এবং ৮ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা আমদানি করে ইব্রাহিম মিয়া।

জানা যায়, সম্প্রতি গাজার প্যাকেটের ভিতর ইয়াবা নিয়ে আসে সে। ফর ইসলামের নেতৃত্বে লেবাররা নলগড়িয়া জিরো পয়েন্ট থেকে বৃটিশ রোড হয়ে কাশিনগর গ্রামে মাদক পৌঁছে দেয়ার পর এগুলো জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বহিষ্কৃত নেতা রুবেলের মাধ্যমে ইব্রাহিম মিয়ার পাশের বাড়ি মাইনুলের বাড়িতে,সেমেদ মিয়ার বাড়িতে,এবং সিঙ্গারবিল বিজিবি ক্যাম্পের পাশে ইব্রাহিমের ছোট ভাই আলমগীরের লিচু বাগানের পাশে গুদামজাত করা হয়। তারপর সুযোগ বুঝে সেখান থেকে ইব্রাহিম ও রুবেলের নেতৃত্বে মোহন, মাইনুল,কাদির সহ আরও ৮/১০ জন লেবার মাদকগুলো বহন করে সিঙ্গারবিল বাজারের বেকারির পিছন দিয়ে অথবা আমোদাবাদ শ্মশান ঘাট দিয়ে চান্দির বিল/ সিঙ্গারবিল পৌছায়,সেখানে আগে থেকেই চান্দি,দুবলা ও পাইকপাড়া গ্রামের লেবাররা মাদক বহনের জন্য উপস্থিত থাকে। তারা মাদক বহন করে হেটেই দুবলা, পাইকপাড়া, চান্দি,এবং খেওয়াই হাজী মার্কেট পর্যন্ত নিয়ে যায়। দুবলা, পাইকপাড়া, চান্দি যেতে প্রায় একঘন্টা এবং খেওয়াই হাজী মার্কেট যেতে প্রায় দু’ঘন্টা সময় লাগে লেবারদের। চান্দি গ্রামে আতাউল্লার বাড়িতে (বর্তমানে মৃত),দুবলা গ্রামে এরফানের বাড়িতে,পাইকপাড়া রয়েল ভূইয়ার বাড়িতে, খেওয়াই হাজী মার্কেট মিনারের বাড়িতে মাদক গুদামজাত করা হয়। সেখান থেকে পরিবহন যোগে সারাদেশে মাদক সরবরাহ করা হয়। পরিবহন যোগে মাদক সরবরাহ করার সময় সাবেক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা রুবেল (বর্তমানে মাদক ব্যবসায় ইব্রাহিম মিয়ার সাথে অল্প পরিসারে অংশীদারিত্বে রয়েছে) এবং ইব্রাহিমের মাদক ব্যবসায়ের দীর্ঘদিনের অংশীদার নুরপুরের শাজাহানের নেতৃত্বে দুটো মটর সাইকেল মাদকবাহী গাড়ির সামনে থেকে চেক দিয়ে নিয়ে যায়,যদি মটর সাইকেল আরোহীরা চলতি পথে কোন চেকপোস্ট দেখে তার সাথে সাথেই তারা গাড়িতে থাকা ব্যক্তিকে সতর্ক করে দেয়। সাধারণত রাত আটটা থেকে রাত একটা পর্যন্ত কাশিনগর গ্রাম থেকে সিঙ্গারবিল বাজার ও চান্দির বিল (মৎস ব্যবসার নামে মাদক চোরাচালান সহজ করতে যে বিলের জলাশয় ইজারা নিয়েছে ইব্রাহিম) হয়ে চান্দি,দুবলা,পাইকপাড়া, এবং খেওয়াই হাজী মার্কেট পর্যন্ত পাচার করা হয়। এবং রাত তিনটা থেকে ভোর পাচটার মধ্যে মাদক গাড়িতে লোড করে পাচারের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়। উল্লেখ্য সীমান্তবর্তী এলাকায়, কাশিনগর গ্রামের বিভিন্ন জায়গায়, এবং আঞ্চলিক সড়ক মহাসড়ক গুলোতে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কোন না কোন বাহিনী তথা বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর,র‍্যাব,ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট টহলে থাকে। কিন্তু তারা থাকার পরও তাদের নাকের ডগা দিয়ে মাদক চোরাচালান খুব সহজেই চালিয়ে যাচ্ছে মাদক সম্রাট ইব্রাহিম মিয়া এবং তার সহযোগিরা। সূত্রমতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথা মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো প্রত্যেকটা বাহিনী কিংবা সংস্থার অনেক অসাধু উচ্চপদস্থ এবং নিম্নপদস্থ সদস্যরা মাদক সম্রাট ইব্রাহিম মিয়ার কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের দেয়া সুযোগেই বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর,র‍্যাব,ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের নাকের ডগা দিয়ে মাদক চোরাচালান করে যাচ্ছে কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া। বর্তমানে ইব্রাহিম মিয়া অসুস্থতার কারণে মাদক কারবার পরিচালনা করতে না পারায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য তার মেঝো ছেলে জনি মিয়া প্রবাস থেকে দেশে এসেছে।

সম্প্রতি পাওয়া তথ্য মতে বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর,র‍্যাব,ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের টহল এবং অভিযানকে উপেক্ষা করে ইব্রাহিম মিয়ার ছোট ভাই আলমগীর মিয়া এবং তার মেঝো ছেলে জনি মিয়া তার মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে।  ইব্রাহিমের অবৈধ অর্থের বিস্তারিত, মাদক চোরাচালানের পানি পথের বিস্তারিত,মাদক সরবরাহের বিস্তারিত,মাদক ব্যবসায় তার সহযোগীদের বিস্তারিত,এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,সচেতন মহল,প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিমত প্রকাশিত হবে পরবর্তী পর্বসমূহে।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।