Tepantor

শুধুই অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে

২৩ নভেম্বর, ২০২২ : ৪:১০ অপরাহ্ণ ২১৫

তেপান্তর রিপোর্ট: শুধুই অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ যেন পিছুই ছাড়ছেনা। পুলিশ কর্তৃক হত্যা, থানায় যৌণ হেনস্থা, বাড়ি থেকে নারীদের বিনা দোষে গ্রেফতার করা, পুলিশ কর্তৃক চাঁদা চাওয়া, থানায় সামান্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে গেলেও ঘুষ নেওয়া, মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঘুষ নেওয়া, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ক্ষেত্র বিশেষ তাদের সাথে সখ্যতা সহ আরো নানা অভিযোগ আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ জেলার বাঞ্ছারামপুরে বিএনপি নেতাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

এঘটনায় ২৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন রেজা, বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম ও ওসি তদন্ত তরুণ কান্তি দে সহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়।

গত ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় ঝুমা আক্তার নামে এক বিচারপ্রার্থী অভিযোগ করতে গিয়ে উল্টো শালিসের নামে তাকে থানার ওসি ও এস আই দ্বারা যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠে। যা পরবর্তীতে ৮ ও ৯ নভেম্বর পুলিশ প্রধানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিচার বিভাগের কাছে অভিযোগ করেন ঝুমা আক্তার। সেখানে বলা হয়, যৌণ হেনস্থার পর নাকে মুখে ওড়না দিয়ে পেচিয়ে তাকে কোর্টে চালান করা হয়।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর সদর উপজেলার নাটাই গ্রামের একটি গ্রাম্য বিবাধকে কেন্দ্র করে বিনা অপরাধে বাড়ি-ঘর থেকে নারীদের ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এখানেই পুলিশ থেমে থাকেনি, ওই মহিলাদেরকে বিষ্ফোরক মামলায় আদালতে চালান দেয় পুলিশ, যার ফলে বেশ কিছুদিন জেল খাটে ওই নারীগণ। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন। এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গ ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করেন পুলিশের দ্বারা গ্রেফতার হওয়া নরীদের আত্নীয়রা।

১৬ নভেম্বর বিজয়নগর থানার এস আই আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার বরাবর অযথা ধরে নিয়ে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ করেছেন বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইকবাল। অভিযোগে প্রকাশ, ইকবাল চান্দুরা ডাকবাংলোর কাছে যাওয়ার পর এস আই রশীদ মামলা আছে বলে ইকবালকে ধরে নিয়ে যায়। ইকবাল তাকে জানায় যে, তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তা স্বত্বেও তাকে না ছেড়ে গাড়িতে করে চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নিয়ে গিয়ে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে রশীদ। টাকা দিতে না পাড়ায় তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং এই খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা থানায় গিয়ে ইকবালকে ছাড়িয়ে আনেন।

একাধিক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা, আশুগঞ্জ থানা ও নাসিরনগর থানায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে গেলে পুলিশকে কমপক্ষে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে যেই ব্যক্তির ক্লিয়ারেন্স দরকার তাকে বার বার থানা থেকে ফোন করা হয়, অথবা কাগজটি থানায় দিতে গেলে বলা হয় ওসি স্যারের অনুমতি লাগবে । অথচ, টাকা দিলে কারো অনুমতি লাগেনা কাজটি গ্রহন করতে। উদাহরন: প্রায় এক সপ্তাহ আগে আশুগঞ্জ থানায় মোজাম্মেল নামে এক ব্যক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন করা হয়, কিন্তু কোন প্রকার ঘুষ না দেওয়ায় সেটির এখনো কোন অগ্রগতি হয়নি বরং মোজাম্মেলকে থানা থেকে ফোন করা হয়েছে। টাকা না দেওয়ার সেটি এখনো পড়ে আছে।

মাদক ব্যবসার অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান হৃদয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা স্বত্বেও তাকে গ্রেফতার করছেনা পুলিশ। অথচ সে পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরছে। উদাহরন: স্বাভাবিক দিন ছাড়াও সম্প্রতি জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে স্টেজের সামনে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছিলো হৃদয়।

এছাড়াও গত ১ বছরের হিসেব টান দিলে নানা অভিযোগের ফিরিস্থি উঠে আসবে জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষ মনে করেন, বর্তমানে রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।