Tepantor

নবীনগর বাঙ্গরা বাজারে নৈশপ্রহরীর বেতনের লক্ষ লক্ষ টাকা কমিটির আত্মসাৎ

১৫ জানুয়ারি, ২০২৩ : ৩:৫১ অপরাহ্ণ ৮৩

মো.সফর মিয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজারে বছরে নৈশপ্রহরী বেতনের নামে তোলা লক্ষ লক্ষ টাকা বাজার কমিটি’র নেতাদের পকেটে চলে যাচ্ছে। কোন রকম রশিদ ছাড়াই উক্ত বাজারে তিনটি শপিংমলসহ প্রায় সহশ্রাধীক দোকান ও গোডাউন মিলিয়ে ছোট বড় দোকান থেকে প্রতিমাসে বিভিন্ন হারে নৈশপ্রহরী বেতনের নামে মোটা অংকের টাকা তোলা হচ্ছে। বাজারের পাহারায় কর্মরত মাত্র ৮জন পাহারাদারকে যতসামান্য বেতন দেওয়া হয়। বাকী টাকা চলে যাচ্ছে নেতাদের পকেটে ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নে বাঙ্গরা এলাকাটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ন বানিজ্য এলাকা। ওই বানিজ্যিক এলাকার বাঙ্গরা বাজারে মোবারক প্লাজা,নিউওয়ে চেয়ারম্যান প্লাজা,মোর্শেদ প্লাজা নামে তিনটি শপিংমল রয়েছে। ওই শপিংমলগুলোতে প্রায় সাড়ে ৪শত দোকান রয়েছে। চলমান দোকান রয়েছে প্রায় ৩শতটি। শপিংমলের এসব চলমান প্রতিটি দোকান থেকে রশিদ ছাড়া ১০০ ও ১৫০ টাকা করে প্রতিমাসে নৈশপ্রহরীর নামে তোলা হয়। বাজরের অনান্য বাকী প্রায় ৬০০ দোকানের প্রতিমাসে প্রতিটি দোকান থেকে ৩০০ টাকা করে তোলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজারের সহশ্রাধীক দোকান থেকে বছরে ২৫ লাখ টাকার অধিক টাকা নৈশপ্রহরীর নামে তোলা হয়। এসব দোকান পাহারা দেওয়ার জন্য মাত্র ৮জন প্রহরীকে জনপ্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা করে বছরে তাদের দেওয়া হয় ৮,৪৬০০০ হাজার টাকা। বছরের বাকী প্রায় ১৭ লাখ টাকা বাজার কমিটির নেতা ও ম্যানেজ হওয়া বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পকেটে চলে যাচ্ছে। দোকান মালিকরা অভিযোগ করেন,বাজার কমিটি লোকজন কোন সচ্ছতা ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছেমতেই বাজারটাকে নিয়ন্ত্রন করছে। কমিটির কোন মিটিং হয় না তারা কোন হিসাব নিকাশ দেয় না। রশিদের মাধ্যমে টাকা তোলার কথা থাকলেও সেটা তারা মানছেন না। বাজারের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ,কেশব,সনাতন,জানান,প্রতিটি গোডাউন ও দোকান থেকে ৩০০টাকা পাহারার জন্য তুলে নিয়ে যায় কিন্তু কোন রশিদ দেয় না। নিউওয়ে চেয়ারম্যান প্লাজার ব্যবসায়ী বাছির,মোর্শেদ প্লাজার ব্যাবসায়ী মাসুদ,মোবারক প্লাজার ব্যাবসায়ী ইব্রাহিম জানান,মাকের্টের প্রতিটি দোকান থেকে ১০০/১৫০ টাকা করে পাহারার বিল দিতে হয়। বাজারের প্রবীন পাহারাদার আবদুস সালাম জানান, তারা ৮জন পুরো বাজারে পাহারা দেয়,৯হাজার টাকা যে বেতন দেওয়া হয় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না ।

বাঙ্গরা বাজারের দোকান মালিক মোঃ নাছিম বলেন,পাহারাদারের নামে যে টাকা তোলা হয় সেটা প্রতিমাসেই ভাগবাটোয়ারা করা হয়। কোন আয় ব্যায়ের হিসাব নেই ,রশিদ ছাড়াই টাকা তোলা হয়। রশিদ না থাকার কারনে দেখা যায় মাসে একাধিকবারও টাকা তোলা হয়। এ ব্যাপারে বাজার কমিটির সেক্রেটারী আবদুল কুদ্দুছ শপিং প্লাজার দোকানগুলো থেকে টাকা তুলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,ছোট বড় দোকান মিলিয়ে যে টাকা তোলা হয় তা দিয়ে অনেক মাসেই তাদের বেতনের টাকা উঠে আসে না। এ ব্যাপারে বাজার কমিটি সভাপতি রবিউল আউয়াল রবি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে কড়া ভাষায় বলেন, কোন্ দোকান থেকে ৩০০ করে নেওয়া হয় আমার সামনা সামনি এসে বলুক। বাজার কমিটির কোন আয় নেয়, সর্দারের কাছে রশিদ বই দেওয়া আছে সে রশিদ দিয়ে টাকা তুলে কি না আমি জানিনা।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।