সৌদিতে বাড়ছে বিকৃত যৌনাকাঙ্খা

১ অক্টোবর, ২০১৯ : ৪:০১ অপরাহ্ণ ১৮৮
ছবি প্রতীকি
ছবি প্রতীকি

তেপান্তর রির্পোট: হেই, হাউ আর ইউ? আই এম ফাইন, ইউ? ফাইন। আর ইউ এলন? ইয়াহ্, হোয়াই? আই এম অলসো এলন, সো আই ওয়ান্ট টু এনজয় উইথ ইউ। সরি, আই ডোন্ট আন্ড্রাসট্যান্ড ইউর টক।

সৌদি আরবের জেদ্দায় এভাবেই হাসান নামে এক লিবিয় নাগরিকের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। যিনি অনেকটা গায়ে পরেই একা বসে থাকা লোকদের সাথে কথা বলেন বেশি। উপরের কথাগুলো বলার পর ওই লিবিয় নাগরিক প্রতিবেদকের পাশে বসেও গেলেন। সিগারেট ও পানি খাইয়ে আপ্যায়নও করার চেষ্ট করলো। তিনি আলাপনের ব্যাপ্তি বাড়িয়ে ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন।এক পর্যায়ে তিনি আবারও বললেন, ‘চলো, আমার ঘরে আমি একা থাকি, ঘরে যাই’। কিন্তু কেন, প্রশ্ন করতে তিনি আবার বললেন, এনজয় করবো। যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি রীতিমতো জোর করার চেষ্টা করলেন। তখন কঠোর ভাষায় কথা বলে তাকে বিতারিত করা হলো।
সৌদি আরবে প্রবাসীদের মধ্যে অস্বাভাবিক যৌনাকাঙ্খা কাজ করে, এই কথাটি জানার পর প্রতিবেদক মাঠে নামেন বিষয়টির সত্যতা যাচায়ের জন্য। কিন্তু যেভাবে তার প্রমান পাওয়া গেলো তা ধারণার থেকেও বেশি।
জেদ্দা শহরের বাওয়াদি এলাকার প্রবাসী শফিক বলছিলেন, এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানিদের মধ্যে দেখা যায়। সেই অনুযায়ী অনুসন্ধান চালানো হয়। দেখা গেলো আসলেই পাকিস্তানিদের মধ্যে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। কোন পুরুষকে একা বসে থাকতে দেখলেই হলো। বেশির ভাগ পাকিস্তানি লোকটির কাছে বসে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথম পরিচয় হওয়ার ৪/৫ মিনিটের মধ্যেই সেই অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাব দেওয়ার আগে বিভিন্ন ভাবে আপ্যায়ন করার চেষ্টাও করা হয়। আবার অনেক পাকিস্তানি ধীরে সুস্থে কৌশল অবলম্বন করে সে তার কার্য হাসিলেন চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে বাসাই গিয়ে আড্ডা দেবো এই কথা বলেও ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়।ব্যাপারটা অদ্ভুত হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে পার্কে বা কোথাও কোন মেয়ে একা বসে থাকলে যেমন এক শ্রেণীর বখাটে তাকে বিরক্ত করার চেষ্টা করে, সৌদিতে ঠিক একই রকম আচরন হয় পুরুষের সাথেই। তারা পুরুষ হয়ে আরেক পুরুষের দিকে আড় চোখে তাকায়, মুচকি হাসে ও কিছু যেন বলতে চায়। শুধু তাই নয়, মুখে শিষ দিয়ে পর্যন্ত ইশারা করা হয়। শুধু একা বসে থাকলেই হলো, ব্যাস। অনুসন্ধানের ৭ দিনে অন্তত ৮ থেকে ৯ বার এর প্রমান পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি, এথিওপিয়া, লিবিয়া,মিশর ও কিছু সৌদিয়ানদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়। ফলে দেশটিতে যাওয়া নতুন প্রবাসীরা সহজেই বিপাকে পরেন। তবে এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের ইমেজ সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন। এছাড়াও সুদান ও আফ্রিকার মানুষদের মধ্যে এই প্রবণতা নেই বললেই চলে।
তাহলে কেন তারা এমন করেন, জানতে চাওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের এবোটাবাদ এলাকার বাসিন্দা আফজাল শাহ’র কাছে। তার সোজা উত্তর, ‘এটা শুধুই বন্ধুত্ব,বলা যেতে পারে ভালো বন্ধুত্ব’। বন্ধুত্বের এই নমুনা কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোন খারাপ কাজ নয়। একজন বন্ধু আরেকজন বন্ধুকে জরিয়ে দরতেই পারে। তার সাথে একটু দুষ্টুমি করতেই পারে। আফজাল বলেন, যারা এটাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে তারা আসলে সংকীর্ণ মানুষিকতার মানুষ।
এই বিকৃত যৌনাকাঙ্খার কারন কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে কথা হয় প্রায় ৩০ বছর যাবৎ সৌদিতে বসবাসকারী সিলেটের সেলিম নামে এক ব্যাক্তির সাথে। তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন নারীর র্স্পশ না পেয়ে অধৈর্য হয়ে অনেকে এই পথে পা দেন। আসলে ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। যদিও এই দেশে এই বিষয়ে আইন খুব কঠিন, কিন্তু তবুও এই দেশে পতিতা আছে। সুমালিয়া,সুদান, ফিলিপিনো সহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মেয়ে সৌদিতে এই ব্যাবসার সাথে জরিত। চাইলে রাতে ফোন করে মোবাইলে লোকেশন পাঠিয়ে দিলে সেই মেয়ে ঘরে পর্যন্ত চলে আসে। এছাড়াও গোপনে আরো অনেক ভাবেই দেহ ব্যাবসা চলে। তাহলে সেখানে এক্কেবারেই যে নারীর সঙ্গম না পাওয়ার কারনে এমনটা হচ্ছে ওইসব পুরুষদের ব্যাপারটা তা নয়। আসলে যারা এসব করে এক কথায় বলতে গেলে তারা সমকামী। তারা প্রকৃত পক্ষেই বিকৃত রুচীর এবং এটা তাদের অভ্যাস।অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে প্রবাসীদের মধ্যে সমকামীর সংখ্যা হয়ত বাড়ছে। বলেন সেলিম।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।