Tepantor

বিজয়নগরে বীর নিবাস বরাদ্দে অনিয়ম

২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ : ৮:০০ অপরাহ্ণ ৭১

সীমান্ত খোকন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে অসচ্ছল মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য সরকার থেকে “বীর নিবাস” নামক যেই ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রকল্প শুরু হয়েছে সেক্ষেত্রে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি সরেজমিনে অনুসন্ধান করে এর সত্যতা পেয়েছেন প্রতিবেদক। দেখা গেছে, সরকার অসচ্ছল মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ঘর নির্মান করে দেওয়ার চেষ্টা করলেও কিছু ক্ষেত্রে সচ্ছল মুক্তিযুদ্ধাদের সেই ঘর নির্মান করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু মাত্র বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়নেই এরকম ২ জন মুক্তিযুদ্ধা পাওয়া গেছে যারা সচ্ছল হওয়া স্বত্বেও তাদের বীর নিবাস তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এরকম আরও কিছু সচ্ছল মুক্তিযুদ্ধার নাম শোনা গেলেও সেগুলো গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি।

এদিকে চান্দুরা ইউনিয়নের আব্দুল্লাহ পুর গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধা হোসেন আহমেদ অভিযোগ করে বলেছেন, তিনি বীর নিবাসের জন্য আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই কমিটি যাচাই করে সবকিছু ঠিক পাওয়ার পর ইউএনও তা উপরে পাঠিয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারনে সচ্ছল মুক্তিযুদ্ধাদের ঘর নির্মান করে দিলেও তার নাম প্রথম দফায় সুপারিশকৃত হওয়ার পরও তিনি ঘর পাননি। বর্তমান ইউএনও তা বাতিল করেছেন। যদিও এবিষয়ে বর্তমান ইউএনও এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ প্রথমে জানিয়েছেন, প্রথম দফার তালিকা তিনি আসার পর সংশোধন করা হয়েছে, পরক্ষণেই তিনি আবার জানিয়েছেন, সংশোধন করা হয়নি শুধু তার (ইউএনওর) সই পরিবর্তন করা হয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, চান্দুরা ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আহাদের বাড়িতে দুইটি পাকা বিল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে তার রয়েছে দুইটি বাড়ির জায়গা। এর মধ্যে একটি ৭ শতক ও আরেকটি ১৭ শতক। তার ৭ ছেলে, এর মধ্যে ১ জন পুলিশে চাকরি করেন আরেকজন প্রবাসে। বাকিরা বিভিন্ন কর্মে ব্যস্ত আছেন। উনাকেই অসচ্ছল মুক্তিযুদ্ধা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকার ঘর। তিনি জানিয়েছেন, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার ধবির আহমেদ তার ঘর করে দিতে সহযোগীতা করেছেন। যদিও বিজয়নগরের এসিল্যান্ড মেহেদী হাসান খান শাওন ইউএনও’র কাছে এক প্রত্যয়নপত্রে লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আহাদের বাড়িতে কাচা মাটির ঘর।
এবিষয়ে এসিল্যান্ড মেহেদী হাসান খান শাওন জানিয়েছেন, ইউএনওর কাছে পাঠানো প্রত্যয়নপত্রে তিনি মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আহাদের বিষয়ে কি মন্তব্য করেছিলেন তা তার মনে নেই।

মুটামুটি একই অবস্থা দেখা গেছে ইউনিয়নের সাতগাও গ্রামের মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ মতি মিয়ার বাড়িতে গিয়েও। তার বাড়িতে আছে ২টি টিনের ঘর এবং তার বাড়ির আয়তন ১৭ শতক। তিনি দুই সন্তানের জনক ও দুই সন্তানই প্রতিষ্ঠিত। এই ঘরটিও উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার ধবির আহমেদ করে দিতে সহযোগীতা করেছেন বলে জানিয়েছেন মতি মিয়া।

এসব বিষয়ে বিজয়নগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, চান্দুরা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযুদ্ধা হোসেন আহমেদের নাম সুপারিশ তালিকায় ছিলো, সেই তালিকা পাঠিয়েছিলাম আমারা, কিন্তু বীর মুক্তিযুদ্ধাদের আবাসনের ঘর তিনি পাননি কারন উনার জমি ছিলোনা। পরবর্তীতে আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম যেন উনি জায়গা জোগাড় করেন, কারন আমাদের বীর নিবাসটি তৈরি করতে ৪ শতক জায়গা লাগে। উনার জায়গা না থাকায় মন্ত্রনালয় থেকে সুপারিশ করা হয়নি। প্রথম ধাপে আমরা ১২ জনের নাম সুপারিশ পেয়েছিলাম, তার মধ্যে ১১ জনের ঘর ইতোমধ্যে নির্মান করা হয়েছে। আর ১টাতে সমস্যা হওয়ার কারনে আপাতত বন্ধ আছে।

আর জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল আহাদের বিষয়ে ইউএনও বলেন, এসিল্যান্ড আমাকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন যে, মুক্তিযুদ্ধা আহাদের বাড়িতে কাচা মাটির ঘর, সেই হিসেবে তিনি অসচ্ছল। যেহেতু এসিল্যান্ড নিজে সেখানে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট দিয়েছেন এবং ওই কমিটিতে দুই জন বীর মুক্তিযুদ্ধাও একই প্রত্যয়ন দিয়েছেন তাই এখন আরেকটু তদন্ত করে দেখতে হবে ওই মুক্তিযুদ্ধা সচ্ছল অবস্থায় বীর নিবাস পেয়েছেন কিনা। আমরা অসচ্ছল মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকা দিয়েছি, ক্ষেত্র বিশেষ আমি নিজেও সরেজমিনে গিয়েছি পরিদর্শন করার জন্য। প্রত্যেকটি ঘরই আমাদের অফিসাররা দেখে প্রত্যয়ন করার পরই আমরা ঘরগুলো বরাদ্দ করেছি।

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।