নারায়ে তাকবির বলে আওলাদকে অপসারণের দাবি

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ৪:১২ অপরাহ্ণ ৬৯

তেপান্তর রিপোর্ট: দুর্নীতির অভিযোগে মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আওলাদ হোসেনকে সরানোর দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিরা।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শতাধিক শিক্ষক কর্মচারি এ মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক চৌধুরীএমদাদুল করিম বলেন, “মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আওলাদ হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। তার অত্যাচার ও তার সেচ্ছাচারিতা আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে। শিক্ষক নির্যাতন আওলাদ হোসেনের প্রতিদিনের ঘটনা।

“তিনি অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে যাচ্ছে, যার ফলে ফান্ড শূণ্যের দিকে। এই দুর্নীতিবাজ আওলাদ হোসেনকে না সরালে আমরা অনশনসহ কঠোর কর্মসুচি ঘোষনা করবো।”

দুর্নীতির কোনো তথ্য-প্রমাণ আপনাদের কাছে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অামরা শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি প্রেস রিলিজ তৈরি করেছি। সেখানে সব কিছু লেখা অাছে। “কপিটি তবে সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ দেখাতে পারেননি শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার জাহান বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে আওলাদ হোসেন। নিয়মিত নিয়োগ বানিজ্য করে যাচ্ছেন তিনি। তার যন্ত্রনায় আমরা অতিষ্ঠ।”

আওলাদ হোসেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সহ সবাপতি। এর আগের কসিমটিতেও তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গভর্নিং বডির সভাপতি আওলাদ হোসেন তেপান্তরকে বলেন, “এগুলো একটা ষড়যন্ত্রের অংশ। কোচিং ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে শিক্ষকদের একটি অংশ আমার পিছনে লেগেছে।’

তিনি অারও বলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা যখন দেশকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে জামায়াত বিএনপির একটি চক্র একত্রিত হয়ে আমার পেছনে লেগেছে। ’

অাপনার বিরুদ্ধে কোটি টাকা অাত্মসাতের কথা বলছে শিক্ষকরা এমন প্রশ্নে প্রবীন এই রাজনীতিবিদ বলেন, বিদ্যালয় ফান্ডে এখনও ৪০ কোটি টাকার বেশি জমা অাছে, সেটা তারা লুটপাট করতে পারছ না বলেই অামাকে সরাতে চাইছে।

তিনি বলেন, “তারা একত্রিত হয়ে দুদকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। সেখানে দুদক আড়াই বছর পর আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি যে মিথ্যা সেই ক্লিয়ারেন্সও দিয়েছ। তারা কোর্টে গিয়েছে সেখানেও আমার পক্ষে রায় এসেছে। এখন সব কিছুতে ব্যর্থ হয়ে মানববন্ধন করছে। তাদের সঙ্গে স্কুরের বেশিরভাগ শিক্ষকরা নেই, গভর্নিং বডিররও কেউ নেই। আমাকে অপসারণের দাবিতে তারা প্রেসক্লাবের সামনে নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়েছে। এটা কিসের ইঙ্গিত বহন করে?’

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আনিসুল ইসলাম মানববন্ধনে বলেন, “এগারো বছর ধরে আওলাদ হোসেন নিয়ম নীতি না মেনে এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আওলাদ হোসেনকে সভাপতি পদ থেকে বাদ দিতে হবে। ‘

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।