এখন মানুষের কাছে আমি লজ্জা পাই,আমার পদ কি?

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ৪:১৫ অপরাহ্ণ ৪৯৫

মোহাম্মদ দেওয়ান আলী,বয়স ৫৬। তিনি তরুন বয়স থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জরিত। অতীতে ছাত্রলীগ করেছেন পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়ীত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আওয়ামীলীগের কোন সংঘঠনের কোন কমিটিতে তার অবস্থান নেই। এ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও তার কথা বার্তায় রয়েছে কিছুটা অভিমানের গন্ধ। এসব বিষয়ে তেপান্তরের সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সীমান্ত খোকন

AL MADINA IT ad

তেপন্তর: কেমন আছেন?

দেওয়ান আলী: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

 

তেপান্তর: আমরা জানি আপনি দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী রাজনীতির সাথে জরিত, কিভাবে রাজনীতিতে আসলেন?

দেওয়ান আলী: আমি যখন ২য় শ্রেণীর ছাত্র তখনই দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়,৬৯ সালের যেই গণঅভ্যুত্থান। এই অভ্যুত্থানে আমার গ্রামের অনেকেই মারা গেছেন। সেই আন্দোলনের মিছিলে আামি ভালো স্লোগান দিতে পারতাম। সেই সুবাধে আমি মিছিলে অংশ নিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের পর আমি বাকাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। তখন থেকেই আমি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহন করতাম। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভোকেশনাল স্কুলের ছাত্র ছিলাম আমি ৮৩/৮৪ সালে। তখন মাহবুবুল আলম খোকন ভাইসহ আমাদের ছাত্রনেতা যারা ছিলেন তাদের নেতৃত্বে আমি মিটিং-মিছিল করেছি এবং ঢাকার প্রোগ্রাম গুলোতে আমি নিয়মিত অংশ গ্রহন করতাম। তখন থেকেই আমি ছাত্রলীগ করি। এরপর আমি যখন পড়াশোনা শেষ করেছি তখন আমার ছাত্র রাজনীতিও শেষ হয়ে এলো। এর আগে ছাত্রলীগে থাকা অবস্থায় এরশাদ বিরুধী আন্দোলন এলো, সেই আন্দোলনের অগণিত মিটিং-মিছিলে আমি অংশগ্রহন করি। তারপর ৯৬ এর পর তত্বাবদায়ক সরকারের সময় আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ মনে করলো আমাদেরকে আরো ভালো ভাবে আন্দোলে যুক্ত করা দরকার। তখন তৎকালীন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলী আজম আমাকে প্রস্তাব করে সিলেকশনের মাধ্যমে মজলিশপুর ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি বানিয়েছেন। তারপর থেকে আমার যুবলীগের রাজনীতি শুরু। তবে আমার প্রথম যুবলীগের নেতা হলেন সাবেক মেয়র হেলাল ভাই।

 

তেপান্তর: আপনি কতদিন যাবৎ মজলিশপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি ছিলেন?

দেওয়ান আলী: এই যুবলীগ করতে করতে আমি যুবলীগ থেকে স্থানান্তরিত হতে পারিনা। তারা আমাকে আওয়ামীলীগে নেয়না, কোন পদ দেয়না। তখন আরেক মরহুম আওয়ামীলীগ নেতা মেজর জহির, উনার সামনে আমি একদিন বলেছিলাম ‘আমি জানিনা যুবলীগের বয়স কত হলে আওয়ামীলীগে যাওয়া যায়’, তখন মেজর সাহেব বলেছিলেন আগামী কমিটিতে তোমার জন্য চিন্তা ভাবনা করবো। হ্যা, এর আগে নির্বাচন উপলক্ষে মরহুম সাবেক উপমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর আমাকে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের অতিরিক্ত সদস্য বানিয়েছিলেন ২০০৫ সালে। সেই কমিটি এখন বিলুপ্ত। পরে ২০১২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে আমি মজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়ীত্ব হস্তান্তর করেছি। তারপর ২০১৩ সালে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে আমাকে সহ-সভাপতি পদ দেওয়া হয়। পরে ২০১৬-১৭’র দিকে নতুন কমিটিতে আমাকে বাদ দেওয়া হয়।

 

তেপান্তর: আপনি যখন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হোন এর আগে কি সেখানে যুবলীগের কমিটি ছিল?

দেওয়ান আলী: আমি মজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আমার আগে কোন কমিটি ছিলনা।

 

তেপান্তর: আপনি যখন যুবলীগ ছাড়েন তখন আপনার মনের আখাঙ্খা কি ছিল?

দেওয়ান আলী: আমার আশা ছিল যুবলীগ ছাড়ার পর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে আমাকে হয়ত সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদ দিবে। কিন্তু তা হয়নি। তখন আশা করেছিলাম উপজেলায় একটা ভালো পদ দিবে কিন্তু তাও দেয়নি। যখন আমাকে কোন কমিটিতে দেওয়া হয়নি তখন শান্তনা হিসেবে এমপি মহোদয় আমাকে উপজেলা যুব ক্রীরা স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এটি শুধু কাগজে-কলমেই দিয়েছেন। এর থেকে আমাকে কখনো দাওয়াতও করা হয়নি এবং কোন কর্মসূচীতেও ডাকা হয়নি। এখনো যে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি হয়েছে সেখানেও রাখা হয়নি। তবে একটা কথা বলি, আমি অতীতে যখনই যে পদ পেয়েছি সেটা কখনো আমি নিজে চেয়ে আনিনি। তারাই আমার কাজের উপর খুশি হয়ে দিয়েছেন। তাই আগামীতেও কারো কাছে কোন পদ চাইবোনা। দলের প্রয়োজনেই আমাকে ডাকবে।

 

তেপান্তর: দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে আছেন, সেই হিসেবে আপনি ন্যায্য মূল্যায়ন পেয়েছেন বলে কি মনে করেন?

দেওয়ান আলী: উপযুক্ত মূল্যায়ন আমি পাইনি।

 

তেপান্তর: কি কারনে মূল্যায়ন পাননি:

দেওয়ান আলী: আমি সেটা জানিনা।

দেওয়ান আলীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তেপান্তর সম্পাদক সীমান্ত খোকন।

তেপান্তর: কি হলে আপনার মনে হতো যথেষ্ট ম্যূায়ন পেয়েছেন?

দেওয়ান আলী: আমিতো আপ্রাণ কাজ করি, কিন্তু আমি পাইনা। গত জেলা কমিটির সময় আমি আশ্বস্ত ছিলাম অন্তত এখানে কিছু একটা হবে। জেলার নেতৃবৃন্দরা বললেন তারা আমাকে নিয়ে শোডাউনে আসবেন, কিন্তু যথা সময়ে তাদের আগ্রহে ভাটা পরলো। পরে শুনলাম আমাদের মৈন্দের সাবেক মেজর সাহেবকে নাকি জেলা কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করেছে।

 

তেপান্তর: তৃণমূলের রাজনীতি মূল রাজনীতির উপর কেমন প্রভাব ফেলে?

দেওয়ান আলী: যে যত বড় নেতাই হোক, আসলে নির্বাচনের ফলাফল হলো আসল। প্রত্যেকেরই ইউনিয়ন,গ্রাম বা কেন্দ্র আছে। সেই কেন্দ্র সফল হলে রাজনীতি সফল আমি মনে করি। তবে জেলা কমিটিতে অর্ন্তভুক্তির ব্যপারে আমি আশাবাদি। আমার সাথে যারা রাজনীতি করেছে তারা থাকতে পারলে আমি থাকতে পারবোনা কেন? আমি আগেই বলেছি আমি কোন লবিং করিনা। এবারও সদর উপজেলার সম্মেলন যখন শেষ হয়ে গেছে তখন আমি আল মামুন সরকার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি বলেছেন ‘তুমি এমন সময় এসেছো যখন কমিটির কাজ সম্পন্ন’। তবে আগামীতে দেখবো।

 

তেপান্তর: আপনার অনেক বয়স হয়েছে, রাজনীতিতে মৃত্যুর আগে আপনার শেষ চাওয়া কি?

দেওয়ান আলী: আমি ওইদিন আবুল কালাম ভাই ও সদরের নব-র্নিবাচিত সভাপতি মাহবুব ভাইকে বলে গিয়েছি যে, আপনারা আমাকে এই কমিটিতে রাখতে পারেননি কিন্তু আগামীতে এমন একটা ব্যবস্থা করুন যেন আমি মরলেও যেন মাইকে এই কথাটা বলতে পারে যে আওয়ামীলীগের ওমুক মারা গেছে। এখন মানুষের কাছে আমি লজ্জা পাই। এত পরিশ্রম করি, প্রত্যেকটা মিটিং-মিছিলে থাকি, আমার কি পদ?

 

তেপান্তর: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

দেওয়ান আলী: ধন্যবাদ আপনাকেও।

  • 43
    Shares
ZamZam Graphics