Tepantor

পুরনো মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন করে ফিরে আসার বিষয়ে সিরিয়াসলি কাজ করছি

৮ জুন, ২০২৩ : ১:৫৫ অপরাহ্ণ

সীমান্তবর্তী এবং দাঙ্গা প্রবণ জেলা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে মাদক চোরাকারবার এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড প্রতিনিয়তই ঘটছে। জেলার সীমান্ত ঘেষা উপজেলা তথা থানা হচ্ছে বিজয়নগর, বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রাজু আহমেদ প্রায় একবছর যাবত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। গত মাসে জেলা পুলিশ তাকে শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ৯টি থানার মধ্যে তার সামগ্রীক কর্মতৎপরতায় বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাজু আহম্মেদ শ্রেষ্ঠ হয়েছেন।
বিজয়নগর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে তার মুখোমুখি হয়েছিল তেপান্তর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোস্তাফিজ চৌধুরী

তেপান্তর: শুভ সন্ধ্যা, কেমন আছেন?
রাজু আহমেদ: আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি।

তেপান্তর: পুরো জেলায় অনলাইন জুয়ার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে,যার প্রভাব বিজয়নগরেও দৃশ্যমান। এর ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্কুল পড়ুয়া কিশোর থেকে তরুণ-যুবক এমনকি মধ্যবয়সী ব্যাক্তিরা এতে ভয়ানক আসক্তিতে পড়ছে। অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আপনারা কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

রাজু: জুয়ার ব্যাপারে যেখান থেকেই আমরা তথ্য পাচ্ছি সেখানেই অভিযান পরিচালনা করছি,আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তেপান্তর: বিট পুলিশিং-এ সাইবার বুলিং,অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয় কি?

রাজু: অবশ্যই, প্রতিনিয়ত এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এবং জনসচেতনতায় এর কুফল ও আইনগত বিধি নিষেধ সম্পর্কে সবাইকে অবগত করা হয়।

তেপান্তর: এসব ক্ষেত্রে স্থানীয়দের কাছ থেকে কি রকম সহযোগিতা বা সাড়া পাওয়া যায়?

রাজু: স্থানীয়দের কাছ থেকে মোটামুটি ভাল সহযোগিতা এবং সাড়া পাওয়া যায়।

তেপান্তর: বিজয়নগর তথা পুরো জেলা জুড়েই ইয়াবার সেবন ও আসক্তি ভয়াবহ রকমে বিস্তার লাভ করছে। এবং দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে এগুলো মায়ানমার থেকে নয়,বরং আখাউড়া, কসবা, ও বিজয়নগর ঘেষা ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসছে। এর প্রতিকারে আপনারা কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

রাজু: শুধু ইয়াবা নয়,সকল ধরণের মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নেতৃত্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে কাজ করে যাচ্ছি। যখনই মাদক চোরাচালানের সংবাদ বা তথ্য পাচ্ছি তৎক্ষনাৎ অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর, ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নাই।

তেপান্তর: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পর অনেক মাদক ব্যবসায়ীই স্বেচ্ছায় আত্নসমর্পণ করে নতুন পেশা বেছে নেয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তারা তাদের পুরনো পেশা তথা মাদক চোরাকারবারে ফিরে আসছে। সম্প্রতি এবিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিক সংবাদও প্রকাশ করে। এব্যাপারে কি বলবেন?

রাজু: এসব বিষয়ে আমরা সিরিয়াসলি কাজ করছি।

তেপান্তর: বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক নির্মূলে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে কি?

রাজু: অবশ্যই, প্রত্যেক সংস্থা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। নিয়মিত আমরা যৌথ অভিযানও পরিচালনা করে যাচ্ছি।

তেপান্তর: প্রায়ই দেখা যায়, স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি কিংবা তাদের পরিবার, আত্নীয় ও ঘনিষ্ঠজনেরা মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে। সেক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করতে গেলে কোন জনপ্রতিনিধি বা ক্ষমতাবান কেউ প্রভাব বিস্তার করা কিংবা বাধা প্রদান করার চেষ্টা করে কি?

রাজু: আমি দায়িত্ব নিয়ে বিজয়নগর থানায় আসার পর এরকম কখনো হয়নি। উল্টো প্রত্যেকেই আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।

তেপান্তর: সম্প্রতি আপনার থানাধীন ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ আছে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব মূলক আচরণ করেছে। দাবি করা হচ্ছে পুলিশ চাইলে চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার না করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতো।

রাজু: পুলিশ কারো পক্ষপাতিত্ব করেনি,আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের অভিযোগ কিংবা দাবি সঠিক নয়।

তেপান্তর: সম্প্রতি আপনার থানাধীন বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক হারে গবাদিপশু বিশেষত গরু চুরি হচ্ছে। চুরির ফলে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাবার পথে, এতে সাধারণ খামারি এবং অসহায়-নিরীহ মানুষজন ভয় ও আতঙ্কে আছে। গবাদি পশু পালনে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। চুরি নিরোধে পুলিশ বিশেষ কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

রাজু: মাননীয় জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে,ইতিমধ্যে সফলতা আসতে শুরু করছে, চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার হচ্ছে।

তেপান্তর: সাধারণ মানুষজন বলছে এটা একটা চক্র,পুলিশ কি এর মূলে যেতে পেরেছে?

রাজু: খুব দ্রুতই মূল উৎপাটিত হবে, সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে। মাননীয় এসপি মহোদয় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন, তিনি সরাসরি তদারকি করছেন।

তেপান্তর: দাঙ্গা নিধনে জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন থানাধীন গ্রাম পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে। বিজয়নগর থানায় এরকম অভিযান পরিচালিত হবে কি?

রাজু: অলরেডি দাঙ্গা নিধনে টেটা-বল্লমসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, এবং অভিযান আরও জোড়ালো ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

তেপান্তর: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
জনাব রাজু: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।