Tepantor

এই বর্ষায় ঘুরতে যেতে পারেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যেসব জায়গায়

১৫ আগস্ট, ২০২৩ : ১২:১৩ অপরাহ্ণ
ছবি: শেখ হাসিনা সড়ক

কাজী আশরাফুল ইসলাম: শান্ত নদী তিতাসের অববাহিকায় ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি জেলার নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া।উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পর্যটনের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত না হলেও এই জেলাতেও রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান।এসব স্থানে মানুষের আনাগোনা কম থাকায় আপনি কোলাহল মুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পারবেন।বিশেষ করে বর্ষাকালে কিছু জায়গায় প্রকৃতি যেন অপরুপ সৌন্দর্যের ডালা সাজিয়ে রাখে। এই মুহূর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ঘুরে আসার মতো দর্শনীয় স্থান গুলোর তালিকা এবং সেখানে যাতায়াতের উপায় নীচে দেয়া হলো।

১.নাসিরনগর মেদিনী হাওর:
মেদিনী হাওর নাসিরনগর উপজেলা সদরের উত্তর দিকে লঙ্গন নদীর পাড় থেকে শুরু করে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সীমানায় গিয়ে শেষ হয়েছে। বর্ষাকালে মাইলের পরম মাইল শুধু পানি দেখা যায়। সে এক অপরূপ দৃশ্য। নাসিরনগর ডাকবাংলোর অদূরে হাওরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা পুরনো দোল মন্দিরের ওপর জন্ম নেওয়া অশ্বত্থ গাছটি ইতোমধ্যেই দেশে-বিদেশে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বর্ষাকালে দোল মন্দির-অশ্বত্থ গাছ দেখে কোনো পর্যটকই মুগ্ধ না হয়ে পারে না।

২.কচুয়া মাজার,চাতলপাড়:
নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় বাজারের পশ্চিম দিকে পায়ে হাটার দুরত্বে কচুয়া মাজার।নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় বিধায় আসা যাওয়ার পথে এই বর্ষায় মেঘনা নদীর ভরা যৌবন আপনার চোখকে তৃপ্ত করবে।

৩.মেড্ডা শশ্মানঘাট ও কালভৈরব মন্দির:
মেড্ডা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পূর্ব পাশে অবস্থিত কালভৈরব মন্দিরে স্থাপিত অতিকায় কালভৈরব মূর্তিটি (উচ্চতা ২৮ ফুট) আপনাকে বিস্মিত করবে।তাছাড়াও মন্দিরের পূর্ব পাশে তিতাস নদী পেরুলেই উপভোগ করতে পারবেন অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার জন্য বর্তমানে আদর্শ স্থানে পরিনত হয়েছে তিতাস নদীর দ্বীপ বলে পরিচিত এলাকাটি।

৪.খরমপুর কেল্লা শহীদ মাজার:
আখাউড়া পৌর শহরের খরমপুর এলাকায় তিতাস নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত সৈয়দ গেছুদারাজ কেল্লা শাহের মাজার শরীফ ও এর আশেপাশের এলাকায় ঘুরতে যেতে পারেন।এই মাজারে মানত করলে মনের আশা পুরন হয় বলে লোক মুখে প্রচলিত আছে। কাউতলী থেকে লোকাল বাস ও সিএনজি যোগে কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে কোন জায়গা থেকে নৌকাযোগে সহজেই যাওয়া যায়।তিতাসের পাড়ে অবস্থিত দেশবিখ্যাত এই মাজারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন হাজারো ভক্ত আশেকান ভীড় করেন।রঙ বেরঙের বিভিন্ন ধরনের মানুষের উপস্থিতি আপনাকে বিস্মিত করবে।

৫. হরিপুর জমিদার বাড়ি:

হরিপুর বড়বাড়ি একটি দুই গম্বুজ এবং ত্রিতল বিশিষ্ট বাড়ি। বারিটির আয়তন এবং আড়ম্বরপূর্ণ স্থাপত্য ঐতিহাসিক যুগের শৈল্পিক নৈপুণ্যের স্বক্ষর বহন করে। প্রাসাদটি প্রায় ৫ একর জমির উপর নির্মিত যাতে ৬০টি কক্ষে নাট্যশালা, দরবার হল, গুদাম, গোশালা, রন্ধনশালা, প্রমোদের কক্ষ, খেলার মাঠ, মঠ, মন্দির, মল পুকুর ইত্যাদি বিদ্যমান। দ্বিতলে আরোহণের জন্য ছয়টি সিঁড়ী এবং ত্রিতলে আরোহণের জন্য দুইটি সিঁড়ী রয়েছে। এর উত্তরপশ্চিম পার্শ্বে ছয়টি শয়ন কক্ষ, চারটি পূর্ব পার্শ্বে এবং চারটি রয়েছে পুকুরের পশ্চিম পার্শ্বে। বাড়িটির পশ্চিম পার্শ্বে সান বাঁধানো ঘাট রয়েছে যা নদীতে গিয়ে নেমেছে এবং এর উভয় পার্শ্বে মঠদ্বয় সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে তার একটি উত্তর পার্শ্ব কৃষ্ণপ্রসাদ রায় চৌধুরী ও অপরটি দক্ষিণ পার্শ্বে গৌরীপ্রসাদ রায় চৌধুরীর।  এ অঞ্চলের জনপদ যাতায়তের সুবিধা তথা আরামদায়ক ভ্রমনের জন্য নদীপথ ব্যবহার করতো, হয়তো তাই মূল ফটক হিসাবে আকর্ষণী ঘাটটি নির্মিত হয়েছিল। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলাস্থ  হরিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। ১৮শ শতাব্দীতে প্রাসাদটি জমিদার কৃষ্ণপ্রসাদ রায় চৌধুরী (১৮৭০-১৯৩৬) কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল।

৬.শেখ হাসিনা সড়ক:
তিতাস নদীর বুক চিড়ে বয়ে চলা সড়কটি বর্তমানে শহরবাসীর এক নতুন গন্তব্যে পরিনত হয়েছে।সদর উপজেলাকে বিজয়নগর উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সাড়ে নয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটিতে প্রতিদিন সৌন্দর্য পিপাসুদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতন। যানবাহন চলাচলের জন্য এখনো পুরোপুরি খুলে না দেয়ায় নিরিবিলি পরিবেশে হাটাহাটি করার জন্য চমৎকার স্থান শেখ হাসিনা সড়ক।পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি থেকে বিজয়নগর উপজেলার পত্তন পর্যন্ত সড়কের দুপাশে তিতাস নদীর অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এবং খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে চলে যেতে পারেন নবনির্মিত শেখ হাসিনা সড়কে।

৭.শ্রী শ্রী নটরাজ শিব মন্দির,নাটঘর:
নবীনগর উপজেলার নাটঘর গ্রামে পাওয়া আনুমানিক ৪০০ বছর আগের কষ্টিপাথরের ভগবান নটরাজের (শিব) প্রতিমাটি সম্প্রতি পুনর্স্থাপিত করা হয়েছে এবং মন্দিরটি সংস্কার করে পুনরায় উদ্বোধন করা হয়েছে।মন্দিরের ভেতরের চোখ ধাধানো স্থাপত্য নকশা আপনাকে পুলকিত করবে।নবীনগর থানার নাটঘর গ্রামে নবীনগর সদর থেকে রিক্সা করে যাওয়া যায়।মন্দিরের আশেপাশের সম্পুর্ন গ্রামীণ জনপদের সৌন্দর্যও চোখে পড়ার মতন।

৮. আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর:

জেলা শহর থেকে মাত্র ত্রিশ মিনিটের দুরত্বে আখাউড়া স্থলবন্দরটি অবস্থিত। সুলতানপুর থেকে আখাউড়া বাইপাস হয়ে সীমান্ত পর্যন্ত সড়কের দুপাশের খাল বিলে থৈথৈ পানির সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।এছাড়াও স্থল বন্দরে প্রতিদিন বিকেলে অনুষ্ঠিত (বিএসএফ) ও (বিজিবি) এর যৌথ কুচকাওয়াজ দেখার জন্য অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভীড় করেন।

৯.মেলা রসুলপুর ও অজগর বাড়ি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্নঘাট বাজারের দক্ষিণ দিকে নবীনগর থানার আওতাধীন রসূলপুর গ্রামের নৈসর্গিক দৃশ্য ভ্রমন পিপাসুদের মুগ্ধ করবে। কুরুলিয়া খালের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা সড়কের দুপাশে গড়ে উঠেছে একাধিক পার্ক।এর মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত মেলা রসুলপুর ও অজগর বাড়ি অন্যতম। পরিবার পরিজনদের সাথে নিয়ে চলে যেতে পারেন মেলা রসুলপুর কিংবা অজগর বাড়ি পার্কে যেখানে শিশু কিশোরদের জন্য স্বল্পমূল্যে একাধিক রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে।

১০.আবি রিভার পার্ক:
জেলা শহরের ভাদুঘর এলাকায় তিতাসের তীরে নির্মিত এই পার্কে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইডের পাশাপাশি একটি মিনি চিড়িয়াখানাও রয়েছে।এছাড়াও আপনি চাইলে পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দৃষ্টিনন্দন ভাবে নির্মিত নৌকা ভাড়া নিয়ে নৌবিহারেও যেতে পারেন।প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকে।পার্কে প্রবেশের টিকিট মূল্য জনপ্রতি একশো টাকা।

১১.লালপুর জেলে ও শুটকি পল্লী:
জেলেপল্লী কমবেশি সব উপজেলাতে আছে।তবে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আশুগঞ্জ থানাধীন লালপুর বাজারের পেছনে রয়েছে অনেক বড় জেলে ও শুটকি পল্লী।লালপুর বাজারের রসগোল্লারও অনেক খ্যাতি রয়েছে।শুটকি পল্লী এবং বাজারের পশ্চিম পাশের নৌকা ঘাটে গিয়ে উপভোগ করতে পারেন মেঘনা নদীর অথৈ জলরাশি।

১২.কৃষ্ণনগর ব্রীজ:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে গাছতলা বিরামপুর হয়ে নবীনগর উপজেলায় যাতায়াতের জন্য যে নতুন সড়ক নির্মিত হয়েছে তার কৃষ্ণনগর অংশে এই ব্রীজের অবস্থান।হাওর বেষ্টিত খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতিদিন অনেক মানুষ মোটরসাইকেল ও সিএনজিযোগে কৃষ্ণনগর ব্রীজ এলাকায় ঘুরতে যায়।

১৩.কালাছড়া ভুট্টা বাগান:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একমাত্র চা বাগান অন্য নাম ‘হরিহর টি এস্টেট’ বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কালাছড়া গ্রামে ছিল।বর্তমানে চা বাগানটি বিলুপ্ত করে এর স্থলে ভুট্টা চাষ করা হয়।ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা কালাছড়া গ্রামে ছোট খাটো টিলার উপর পেয়ারা,কাচা মরিচ, কাঠাল ও মাল্টা বাগানসহ বিভিন্ন সবজির বাগানের বৃষ্টি ভেজা স্নিগ্ধ প্রকৃতি আপনাকে মুগ্ধ করবে।

১৪.আড়িফাইল মসজিদ, সরাইল:
আরিফিল মসজিদ (আড়িফাইল মসজিদ নামে পরিচিত) বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য, যার অবস্থান সরাইল উপজেলার আরিফাইল গ্রামে।এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষিত। স্থানীয়ভাবে এটি আইড়ল কিংবা আড়িফাইল নামেও পরিচিত।

১৫.শাহবাজপুর অর্কিড বাগান:
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন অর্কিড প্রজেক্ট – সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে অবস্থিত।এছাড়াও শাহবাজপুর এলাকায় গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া আশিক টি স্টলে যেখানে পাবেন শতাধিক ধরনের চায়ের সমাহার। আরেকটু সামনে গেলেই চোখে পড়বে চমৎকার একটি সেতু যেটি ঢাকা সিলেট হাইওয়েতে গুরুত্বপূর্ণ সেতু বলে বিবেচিত। সেতুর দুপাশের দিগন্ত বিস্তৃত থৈথৈ পানির দিকে তাকালে আপনার দুচোখ জুড়িয়ে যাবে।

১৬.গাও গেরাম রেস্তোরা ও রিভার পার্ক:
পৌর শহরের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই পার্কটি নদীর সৌন্দর্য উপভোগের জন্য কিছুদিন আগেও ছিল শহরবাসীর একমাত্র বিনোদনের স্পট।বর্তমানে পার্কটির প্রতি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ কিছুটা কমে গেলেও সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে একটি শিশু পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে।বর্ষায় তিতাস নদীর সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এটি একটি চমৎকার স্পট।

১৭.শহর ওভারপাস ও অবকাশ শিশুপার্ক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ এলাকায় নির্মিত রেলওয়ে ওভারপাসটিতেও প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীকে দলবেঁধে সময় কাটাতে দেখা যায়। ঝুম বৃষ্টির সময় ওভারপাসের উপরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভেজা আপনাকে স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দিবে।এছাড়াও ওভারপাসের দক্ষিণ প্রান্তের অবকাশ শিশু পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ এলাকাটি বিভিন্ন সরকারি ছুটি উপলক্ষে সবসময়ই দর্শনার্থীদের ভীড়ে জমজমাট থাকে।শহরের মধ্যখানে হওয়ায় ও যাতায়াতের জন্য সুবিধাজনক হওয়ায় দর্শনার্থীদের ভীড়ে এখানে হরেক রকম পন্যের ছোট খাটো মেলা বসে যায়।

১৮.উলচাপাড়া মসজিদ:
জেলা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া গ্রামে অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।মসজিদটিতে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে অনুমান করা যায় সপ্তাদশ শতাব্দীতে অর্থাৎ ১৭২৭-২৮ খ্রিষ্টাব্দে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

১৯.বিদ্যাকুট সতীদাহ মন্দির:
বিদ্যাকুট গ্রামের সতীদাহ মন্দিরটির বয়স ৩০০ বছরের বেশি। নবীনগর উপজেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিদ্যাকুট গ্রামে নবীনগর থেকে রিক্সা করে যাওয়া যায়।

২০.কোল্লাপাথর শহীদ সমাধিস্থল:
এই স্থানটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে সিএনজি দ্বারা পরিদর্শন করা যেতে পারে। এটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে কসবা উপজেলার বাকাইল ইউনিয়নের কোল্লাপাথর গ্রামে অবস্থিত। এখানে ৫২ জন মুক্তিযোদ্ধার সমাধি রয়েছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে সিএনজি নিয়ে যাওয়া যায় ।

২১.লক্ষীপুর শহীদ সমাধিস্থল,কসবা :
কসবা উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে সমাধিস্থলটি অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এই স্থানটিতে গেলে মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হতে পারবেন।

২২.কসবা সীমান্ত হাট:
কসবা উপজেলায় তারাপুর সীমান্তে রয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাট ।যেখানে গেলে আসল ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন ভারতীয় পন্য নিশ্চিন্তে ক্রয় করতে পারবেন।প্রতি রবিবার তারাপুর সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা পঞ্চাশটি পঞ্চাশটি করে একশোটি দোকান দিয়ে এই সীমান্ত হাটের আয়োজন করে থাকেন।

উপরোল্লিখিত স্থান গুলো ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থান রয়েছে যেখানে এই বর্ষায় কিংবা আপনার যে কোন ছুটির দিন কাটবে পরম আনন্দে।শহরের কোলাহল থেকে দূরে সুন্দর কিছু জায়গার নাম আপনাদের সুবিধার্থে  নিম্নে দেয়া হলো:

*গঙ্গাসাগর দিঘী – আখাউড়া
*হাতিরপুল ও ওয়াপদা রেস্ট হাউস (শাহবাজপুর, সরাইল)
*অদ্বৈত মল্লবর্মনের বাড়ি (গোকর্ণ ঘাট)
*জিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (আশুগঞ্জ)
* বাংলাদেশের প্রথম গ্লাস মসজিদ(খাড়াসার,আশুগঞ্জ)
*জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা
*ব্রাহ্মনবাড়ীয়া সরকারি কলেজ
*কাইতলা জমিদার বাড়ী (নবীনগর)
*ধরন্তি (সরাইল)
*ভাদুঘর শাহী জামে মসজিদ (১৬৬৩ খ্রীষ্টাব্দ)
*কাজীপাড়া সৈয়দ কাজী মাহমুদ শাহ মাজার
(১৬০০ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত)
* মেঘনার তিন সেতু (আশুগঞ্জ)
*আর্কাইভ জাদুঘর (কসবা)
*বাসুদেব মূর্তি (সরাইল)
*কৈলাঘর দূর্গ (কসবা)
*বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের কবর (আখাউড়া, দরুইন),
*তোফায়েল আজম মনুমেন্ট
*মঈনপুর মসজিদ (কসবা)
*বাঁশী হাতে শিবমূর্তি (নবীনগর)
*আনন্দময়ী কালীমূর্তি (সরাইল)
*লোকনাথ দীঘি (টেংকের পাড়)
*গোকর্ণ নবাব বাড়ি কমপ্লেক্স (নাসিরনগর)
* খানেপাড়া জমিদার বাড়ি ( বাঞ্ছারামপুর)
*চর সোনারামপুর (আশুগঞ্জ)
*বাঞ্চারামপুরের জমিদার বাড়ি
*আশুগঞ্জের তালশহর গ্রামেও রয়েছে দ্বিতল জমিদার বাড়ি ও কয়েকশত বছরের পুরনো ঘাটলাসহ পুকুর।

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।