ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে কি অপরাধ হচ্ছে?

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ১১:৩৯ অপরাহ্ণ ৩৪০৩

ফাইল ছবি।
তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে উঠতি বয়সী তরুন ও যুবকদের দ্বারা যেসব অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে তার বেশির ভাগই হচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে। এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের। সম্প্রতি “কাউকে পরোয়া করেনা ট্যাংকের পাড়ের বখাটেরা” শিরোনামে তেপান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সংবাদ প্রকাশের পর ফেইসবুকে এমন অনেক মন্তব্য পাওয়া যায় যেখানে ইভটিজিংসহ নানা অপরাধের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের দোষারোপ করা হয়েছে। নিচে কিছু ফেইসবুক মন্তব্য হুবহু তুলে দরা হলো:

কাজী আশরাফুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, এই এলাকার ইভটিজার ছেলেপেলেগুলো কথিত কিছু ছাত্রলীগের নামধারী নেতাদের প্রশ্রয় পেয়ে এবং নাম ভাঙ্গিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে । আর কথিত এইসব নেতাদের নাম ট্যাংকেরপাড়ের গাছেরাও জানে। কিন্তু তারা এতই বেশি নিকৃষ্ট পর্যায়ের যে তাদের সাথে কেউ ঝামেলায় জড়াতে চায় না। বেশিরভাগই ছিনতাইকারী আর ইয়াবাখোর আর গ্যাং টাইপ চলাফেরা করে।এই গ্যাংটাইপ চলাকে তারা সম্মানের মনে করে।এই ধরনের অনেক অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত দলীয় পরিচয়ধারী এইসব মানুষদের সাথে আপোষ করতে হয়েছে। এখন আর প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে হয় না।কারন এইসব ছেলেপেলেদের বিচার করতে গেলেই কথিত বড় ভাইদের উদয় হয়।আর থানায় নিলে এক বেলার মধ্যেই তারা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনে।আমার কথা যাদের মিথ্যে মনে হয়,তারা ইনবক্সে আসেন,নামসহ, ঘটনাসহ প্রমাণ দেই।

এমডি সাব্বির ইসলাম লিখেছেন, কিছু জারজ আছে যেগুলো তাদের রাজনৈতিক বড় ভাইদের কারণে বেঁচে যায়। ভয়ে মানুষ কিছু বলতে পারেনা।আগে তাদের ভাইদের শায়েস্তা করতে হবে।

আসাদুজ্জামা রাফি লিখেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোন নেতার ছেলে এরা?
কুত্তার মত পিটায়লে **

মোঃ আসিফ শহিদ ওমি লিখেছেন, এই বিষয়টা শুধু ট্যাংকের পাড় না, সারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরেই ইভটিজিং বেড়েছে।

এস এফ রোমান লিখেছেন, এরা পলিটিক্যাল পাওয়ারে চলে।

আকরাম খান লিখেছেন, ছবি তুলার পর আবার ভিক্টিম মেয়েকেই থ্রেট দিয়ে বলে “পুলিশ আমাদের কিছুই করতে পারবেনা”।
পলিটিক্যাল শেল্টার না থাকলে এতটা বেপরোয়া হওয়ার কথা না।
এদের মদদদাতা কারা বের করে সেগুলোকে আগে শিক্ষা দেওয়া দরকার।তাইলে চামচা গুলো এমনিতেই মানুষ হয়ে যাবে।

জুনায়েদ হোসেন লিখেছেন, ছেলেগুলো রাজনীতি করে, তাই মেয়েগুলো অসহায়।

অভি হক মানিক বাবু লিখেছেন, সারা বাংলাদেশে শহর গুলোতে কিশোর গ্যাং দীর্ঘ দিন যাবতৎ চলে আসছে। রাজনীতি ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য তাদের স্থানীয় বড় ভাই থাকে। পরিবারের অভিভাবক থেকে বিপদে এইসব বড় ভাইয়েরা বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

আশরাফুল ইসলাম লিখেছেন, ওরা নিশ্চয় কোন রাজনৈতিক বড় ভায়ের আশ্রয়ে আছে,নয়ত এত বড় সাহস পেত না,?
আজ ওনি হয়েছে কাল আমার কোন আত্মীয় স্বজনরা ও এরকম পরিস্থিতির স্বীকার হতে পারে,এর তীব্র নিন্দা ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

যেহেতু এখানে রাজনৈতিক নেতাদের দোষারোপ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ভাবে ছাত্রলীগের নাম এসেছে, তাই এ বিষয়ে মতামত জানতে তেপান্তরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ শোভনের সাথে।
শোভন বলেছেন, অপরাধীদের ক্ষেত্রে কোন ছাড় নয়। কেউ ইভটিজিং, ছিনতাই বা অন্য কোন অপরাধ করে ধরা খেলে তাকে ছাড়াতে তার পরিবার যেতে পারে কিন্তু আমি যাইনা। কেউ আমার নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ করলে তাকে বেধে রেখে যেন আমাকে খবর দেয়।
এবিষয়ে মুক্তিযুদ্ধমঞ্চের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শাখার আহবায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেছেন, স্কুল লেবেলে কোন ছাত্র রাজনীতি নেই, তাই তাদের কোন বড় ভাই বা রাজনৈতিক ভাই থাকার কথা নয়। স্কুল ছাত্ররা যাদের নাম ভাঙ্গাবে তাদের আগে গ্রেফতার করতে হবে।
আর কলেজ লেবেলের ছেলেরা যারা ইভটিজিং এর মত ঘৃন্য কাজে জরিত হবে তাদের পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তাই তাদের যেইখানে পাওয়া যাবে সাথে সাথে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। অন্যায়কারী কখনো কারো ভাই বা বন্ধু হতে পারে না।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।