Tepantor

নিজের দুর্নীতি ঢাকতে জেলা শিক্ষা অফিসের উপর দায় চাপালেন টিইও

২০ অক্টোবর, ২০২৩ : ৬:২৬ অপরাহ্ণ

তেপান্তর রিপোর্ট: ভালুকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমদ নিজের সীমাহীন দুর্নীতি ঢাকতে জেলা শিক্ষা অফিসের উপর দায় চাপাচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি গনমাধ্যমে ‘জেলা শিক্ষা অফিসের গাফিলতিতে ভালুকায় ২ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদে টিইও সৈয়দ আহমদের দেয়া সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মকর্তা ছাড়াও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসাইনের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করে ৭১ নং কাদিগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক, দাতা, ও এলাকাবাসীরা। সেই খবর বিভিন্ন গনমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হলে চাপের মুখে পড়ে ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসের এই দুই কর্মকর্তা। তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মকে ধামাচাপা দিতে এখন তারা নতুন করে জেলা শিক্ষা অফিসের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর থেকেই এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এতদিন কোন না কোনভাবে পার পেয়ে গেলেও এবার এলাকাবাসীর ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়েছেন তারা। এ নিয়ে জনরোষ ক্রমেই বাড়ছে, এই দুই কর্মকর্তার অপসারনের আগে কোনভাবেই পরিস্থিতি শান্ত হবেনা এমনটাই জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ তদন্ত হয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হবার পরও সেই তদন্ত প্রতিবেদন গোপন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আমূল পরিবর্তনকারী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নূপুর আক্তারকে কোন কারণ ছাড়াই একটি মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাড়ি থেকে ১৮ কি.মি দূরের একটি স্কুলে বদলীর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ দানা বাধে এলাকাবাসী এবং অভিভাবকদের মধ্যে। নূপুর আক্তার এর বদলী বাতিল করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে বহাল রাখতে স্কুলের শিক্ষক, কমিটি এবং অভিভাবক ও এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর নিয়ে আলাদা তিনটা আবেদন করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর। এসবের কোন কিছুকে পাত্তা না দিয়ে টিইও সৈয়দ আহমদ একটা পক্ষকে খুশি করতে নূপুর আক্তারকে জেলা শিক্ষা অফিস বরাবর বদলীর চিঠি প্রেরন করলে উক্ত খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনরোষ সৃষ্টি হয়। টিইও সৈয়দ আহমদ এর এই অবৈধ পক্ষপাত মূলক বদলীর চিঠি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার এবং উক্ত জনরোষ বুঝতে জেলা শিক্ষা অফিস তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলে এলাকায় সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। স্কুলের অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসছে বুঝতে পেরে মিথ্যা অভিযোগকারী পক্ষের হয়ে নূপুর আক্তারকে কোন কারণ ছাড়াই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে আবার শিক্ষার পরিবেশ অস্থিতিশীল করেন টিইও সৈয়দ আহমেদ। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকগণ টিইও সৈয়দ আহমেদ কে এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখতে নূপুর আক্তার এর ভূমিকা উল্লেখ করে দায়িত্বে রাখার জন্য লিখিত এবং মৌখিকভাবে আবেদন জানান। এসবের কোন কিছু কর্ণপাত না করে তিনি নূপুর আক্তারকে প্রথমে দায়িত্ব থেকে সরালে এলাকা স্বাভাবিক হবে এমন মিথ্যা, কাল্পনিক, বানোয়াট, মনগড়া কথা প্রচার করেন। প্রকৃতপক্ষে স্কুলের শিক্ষার যুগান্তকারী পরিবেশ কে উপেক্ষা করে একটা পক্ষের স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে শিক্ষা অফিসকে এলাকাবাসীর মুখোমুখি দাড় করান টিইও সৈয়দ আহমেদ। এর পর উক্ত বিষয়কে শিক্ষা অফিসের গাফলতি হিসেবে একটি গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে দায় চাপানোর চেষ্টা করেন তিনি।

সুশীল সমাজ ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের এমন কান্ডজ্ঞানহীন কাজের জন্য বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। এসব বিষয়ে ভালুকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ বলেন, উনি উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশেই এ কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।