Tepantor

বিজয়নগরে প্রতিবেশীর প্রতিহিংসায় বিপর্যস্ত একটি পরিবার

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ : ৫:১৫ অপরাহ্ণ
ছবি: বামে শাহনেওয়াজ শানু এবং তার ভাই কাউছার

মোস্তাফিজ চৌধুরী: জেলার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের শাহনেওয়াজ শানুর পরিবারের প্রতিহিংসার হামলা মামলায় বিপর্যস্ত তাদের প্রতিবেশী মিজানুর রহমানের পরিবার। গত চার বছরে হেন কোন অপচেষ্টা নেই যা করেনি শাহনেওয়াজ শানু ও তার পরিবার। গর্ভবতীর গর্ভের সন্তান হত্যার মিথ্যা অভিযোগে মামলা, মাদক উদ্ধারের মিথ্যা নামের মামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, গাছপালা কেটে নিয়ে যাওয়া,পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা, গুম হত্যা করাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেয়া, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মিথ্যা প্রতিপক্ষ সাজিয়ে রাজনৈতিক ভাবে ফাসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে মিজানুর রহমান ও তার পরিবারকে। আর এতে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে তারা। অভিযোগ আছে, শাহনেওয়াজ শানু বিষাক্ত মাদক সর্বনাশা ইয়াবার অতিরিক্ত সেবন করায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে প্রতিহিংসা বশত প্রতিনিয়ত হয়রানি করে যাচ্ছে তাদের। গত ১০ ও ১১’ই ফেব্রুয়ারী গাছপালা কেটে নেওয়া, তাদের উপর এবং বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর ও ভাঙচুর চালিয়েছে শাহনেওয়াজ শানু, তার ভাই কাউছার, ও তাদের পরিবারের লোকজন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হরষপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের ছোট রহমানের মেয়ে ও শাহনেওয়াজ শানু’র বোন জোৎস্না ইসলাম ধর্মের শিয়া সম্প্রদায়ের ছেলে জাহাঙ্গীরের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন। সুন্নী সম্প্রদায়ের মেয়ে হয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের ছেলেকে বিয়ে করায় ছোট রহমানের পিতা মৃত আপতর আলী স্থানীয় জনসাধারণের ক্ষোভ ও চাপে তৎকালীন স্থানীয় ইউপি মেম্বার মরহুম মোয়াব আলীর সহযোগিতায় তার ছেলে ছোট রহমানের পুরো পরিবারকে বাড়ি ও গ্রাম থেকে বিতাড়িত করে। এবং মৃত্যুর কয়েক বছর আগে আপতর আলী তার সন্তান ছোট রহমান ব্যতীত অন্য সন্তানদের সকল জায়গা সম্পত্তি লিখে দেয়। এতে ছোট রহমান ও তার ছেলে শাহনেওয়াজ শানু, কাউছার ও তাদের দুই বোন সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়। তাদেরকে বাড়ি ও গ্রাম থেকে বিতাড়িত করতে সহযোগিতা করা তৎকালীন স্থানীয় ইউপি মেম্বার মরহুম মোয়াব আলীর প্রতি তৈরি হয় প্রতিহিংসা। মোয়াব আলী মৃত হওয়ায় তার সন্তান মিজানুর রহমান,জিল্লাল,ও সজীবকে বিভিন্নভাবে প্রতিহিংসার জিগাংসায় ফেলার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত লিপ্ত রয়েছে ছোট রহমানের ছেলে শাহনেওয়াজ শানু ও তার পরিবার।

শাহনেওয়াজ শানুর দাদা আপতর আলীর মৃত্যুর পর শানু ও তার পরিবার বাড়িতে ও গ্রামে অনেক আকুতি মিনুতি করে ফিরে আসে। আসার পর থেকেই ধীরে ধীরে বিভিন্ন ফন্দি আঁটে তারা। ২০২০ সালে করোনা মহামারী চলাকালে শাহনেওয়াজ শানুর ছোট ভাই কাউছার এর স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালীন তাদের পরিবারে মধ্যে মারামারি হয়, মারামারিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কাউছারের স্ত্রীর গর্ভের শিশুর মৃত্যু হয়। সে শিশুর মৃত্যুর মামলায় শাহনেওয়াজ শানু ও তার পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিজানুর রহমান ও তার পরিবারকে ফাসিয়ে দেয়। সে মামলায় মিজানুর রহমান বিনা অপরাধে প্রায় তিন মাস জেল হাজতে ছিলেন। কিন্তু মামলার চূড়ান্ত তদন্তে মিজানুর রহমান ও তার পরিবার নির্দোষ বলে প্রতীয়মান হয়। বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকৃত মাদকের মামলায় পলাতক হিসেবে মিজানের নাম ডুকিয়ে দেয়া হয়, যেখানে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মামলা রুজুকারী কর্তৃপক্ষকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে শাহনেওয়াজ শানুর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ আছে, বিষাক্ত মাদক সর্বনাশা ইয়াবার অতিরিক্ত সেবনে বিকৃত-মস্তিস্ক নিয়ে শাহনেওয়াজ শানু প্রতিহিংসা বশত মিজানুর রহমান, তার পরিবার ও পরিবারের নারীদের উপর হামলা চালাচ্ছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করছে,গালিগালাজ ও হত্যা গুম করাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি প্রদান করছে। শানুর ইয়াবা সেবনের ভিডিও ফুটেজ, তার এবং তার পরিবারের হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে প্রতিবেদনকের কাছে। এমনকি গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি প্রদানের রেকর্ডও রয়েছে প্রতিবেদকের কাছে।

গত ১০’ই ফেব্রুয়ারী মিজানুর রহমানের বাড়িতে শাহনেওয়াজ শানুর নেতৃত্বে তার ভাই কাউছার ও তাদের পরিবার হামলা ও ভাঙচুর চালায়। মিজানের ভাই সজীব ও জিল্লাল বাধা দিলে তাদেরকে মারধর করে জখম করা হয়। কিন্তু এঘটনায় উল্টো মিজান,সজীব, ও জিল্লালের নামে শাহনেওয়াজ শানুর প্ররোচনায় তার ভাই কাউছার রাজনৈতিক প্রভাবে থানায় মামলা দায়ের করে এবং জিল্লালকে গত ১৩’ই ফেব্রুয়ারি এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তবে একই ঘটনায় আহত সজীব অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো মামলা রুজু করা হয়নি। শানু ও তার ভাই কাউছার মামলা রুজু করে পরেরদিন ১১’ই ফেব্রুয়ারি আবারও মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করতে থাকলে মিজানের স্ত্রী হাফিজা বেগম বিজয়নগর থানায় জানালে থানা পুলিশ আসলে তারা চলে যায়। এঘটনায়ও এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ভাঙচুরের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় মামলার বাদী আহত কাউছার বাম হাতে প্লাস্টার লাগিয়ে ডান হাতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মিজানের বাড়ি ভাঙচুর করছে। তবে কাউছার তার মামলার স্বপক্ষে চিকিৎসা পরীক্ষার যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে সেখানে তার দুটো হাতই নরমাল রয়েছে কোন গুরুতর ইনজুরি হয়নি বলে উল্লেখ রয়েছে।

মিজানের স্ত্রী হাফিজা বেগম বলেন, আগেরদিন মিথ্যা মামলা দিয়ে পরেরদিন আবার ভাঙচুর করেছে। আমি মহিলা মানুষ একা দরজা বন্ধ করে কেবল আল্লাহকে ডেকেছি আর থানার ওসি স্যারকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করেছি। স্যার পুলিশ না পাঠাইলে সেদিন তারা আমাকে মেরেই ফেলতো। প্রায় ২০ বছর আগে শানু, শানুর বাপ ও তাদের পরিবারকে বাড়ি ও গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছে এলাকাবাসী। কিন্তু তারা কেবল আমার স্বামী ও তার পরিবারকে টার্গেট করে এরকম হামলা মামলা ও হয়রানি করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই,সুবিচার চাই।

তিনি আরও জানান, শানু ইয়াবা খেতে খেতে অসুস্থ হয়ে গেছে। সে তার ছেলে সন্তানকে পর্যন্ত ইয়াবা খেয়ে খেয়ে মারধর করতো। এজন্য তার বউ বাচ্চা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এখন ইয়াবা খেয়ে খেয়ে আমাদের পরিবারের উপর অত্যাচার শুরু করেছে। সে এখন নৌকার বড় নেতা হয়েছে। আমাদেরকে কেচি মার্কার বানাইয়া নেতাদের উল্টো পালটা বুঝানোর চেষ্টা করছে। সে দাবি করে এমপি রবিউল তার পকেটে থাকে,এসব বাজারে মার্কেটে বলে বলে মানুষকে ভয় দেখায়। অথচ আমার ভাসুর ও স্বামী নৌকা মার্কার জন্য,এমপি রবিউলের জন্য জান জীবন দিয়ে কাজ করছে।

শাহনেওয়াজ শানুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনি এলাকায় খবর নিয়ে দেখেন।

হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সারওয়ার রহমান ভূইয়া অসুস্থ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার এনাম খা বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে তাদের ঝগড়া বিবাদের কথা জানতে পেরেছি। তারা কেউ আমাকে জানায়নি। শানুর বোন অনেক আগে শিয়া ছেলের সাথে বিয়ে করেছিল বলে জানি।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম বলেন, এসব ঘটনায় একটি অভিযোগে মামলা হয়েছে, আরেকটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। এছাড়া পরের দিন ভাঙচুর ও ক্ষতি সাধনের ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাজীপুর গ্রামে বসবাসকারী অধিকাংশের অভিমত শাহনেওয়াজ শানু ও তার পরিবার মিজান ও তার পরিবারের সাথে প্রতিহিংসা বশত যে জুলুম, অত্যাচার ও হয়রানি করছে তার সমাপ্তি হওয়া প্রয়োজন। শাহনেওয়াজ শানু ও তার পরিবারের মতো যেনো কারো এরকম প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রতিবেশী না হয় তারা সে প্রত্যাশা করে। এবং মিজান ও তার পরিবার যেন সুবিচার পায় সে আশা রাখে।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।