Tepantor

সরাইলে ভুয়া পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়ে ১০ কোটি টাকার জায়গা দখলের পর বিক্রি

৩ এপ্রিল, ২০২৪ : ৮:০৬ অপরাহ্ণ

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভুয়া পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দিয়ে ১০ কোটি টাকার জায়গা দখল করে তা অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে । শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করায় জায়গার মালিক কে একাধিক মামলা দিয়ে জেল পর্যন্ত খাটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। সেই অভিযোগে ওই পাওয়ার অব অ্যাটর্নিটি ভুয়া বলে দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগ আছে, ২০১০ সালে সরাইলের সৈয়দটোলা গ্রামের মৃত মীর আলীর ছেলে মীর কবিররের কুট্টাপাড়া মহাসড়কের সাথের ১০ কোটি টাকার জমি ভুয়া পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ব্যবহার করে দখলে নেয় কুট্টাপাড়ার মোঃ আবু তাহেরের পুত্র রোকন উদ্দিন।

দুবাইয়ে মীর কবিরের নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে থাকতেন কুট্টাপাড়ার মোঃ আবু তাহেরের পুত্র রোকন উদ্দিন। পরে রোকন উদ্দিন ২০১০ সালের ২৮ জুন একটি ভুয়া পাওয়ার অফ এটর্নি বা আমমোক্তারনামা তৈরি করে তা ব্যবহার করে জায়গাটি অন্য জনের কাছে বিক্রি করে দেন। অথচ, এই পাওয়ার অফ এটর্নি তৈরি হওয়ার তারিখে মীর কবির একটি চেক সংক্রান্ত মামলায় দুবাইয়ের কারাগারে ছিলেন।

এদিকে দেখা গেছে, যেই দিন আমমোক্তারনামা তৈরি হয়েছে তার একদিন পরেই অর্থাৎ ২৮ জুন ২০১০ তারিখে অন্য ব্যক্তির নামে দলিল তৈরি হয়েছে যা খুবই অস্বাভাবিক।

মীর কবির অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বিদেশ থেকে সম্পাদিত হওয়া কোন পাওয়ার অব এটর্নির মাধ্যমে জায়গা ক্রয় বিক্রয় হলে সেই পাওয়ার অব এটর্নি সঠিক কিনা তা যাচাই করবে সাব রেজিস্টার। একই সাথে জায়গার প্রকৃত মালিকের সাথেও সরাসরি কথা বলবেন তারা। কিন্তু এক্ষেত্রে সাব রেজিস্টার মোটা অংকের টাকা খেয়ে অপরাধীদের সহযোগিতা করেছে। কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে জায়গাটি অন্যের নামে দলিল করে দিয়েছে তখনকার সাব রেজিস্টার। এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন বিচার পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে তা তদন্তাধীন আছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালে এই ঘটনার পর আমি দেশে আসি এবং এর প্রতিবাদ করি। থানা সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেয়ার করি। থানা থেকে এই জায়গাটির উপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এবং প্রশাসনের উচ্চ মহলে আরেকটি অভিযোগ দেয়ার করি। কিন্তু এ ঘটনার পর তারা খেপি কি আমার নামে অন্তত আটটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে, এর মধ্যে একটি ছিল ৭০ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজির মামলা। তাদের এই মামলায় আমি জেল খেটেছি। চট্টগ্রামের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বাদী এই মামলা করে। এবং পুলিশ তাদের সহযোগিতা করতে গিয়ে আমাকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের মামলা এবং হামলায় আমি জর্জরিত হয়ে পড়ি।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রোকনউদ্দিন ও আহমদ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যসহ সংবাদের বিস্তারিত আগামী পর্বে তুলে ধরা হবে।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।