Tepantor

বিজয়নগরে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে জেতাতে মরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের একাংশ

৯ মে, ২০২৪ : ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

তেপান্তর রিপোর্ট: আগামী ৫ই জুন অনুষ্ঠিতব্য বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক এবং লিরিক গ্রুপের ডিরেক্টর আল জাবের(জাবেদ আহমেদ) -কে বিজয়ী করতে একাট্টা হয়েছে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেক হেভিওয়েট নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে রাত-দিন এই ছাত্রদল নেতার পক্ষে জমজমাট প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রদল নেতার নির্বাচনী সভাগুলোতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি এখন পুরো উপজেলায় টক অব দ্যা টাউন। তবে একে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নৈতিকতার পরাজয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কথিত রয়েছে ছাত্রদল নেতা মোটা অংকের অর্থ লগ্নি করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিজের দলে ভিড়িয়েছেন।এ বিষয়কে কেন্দ্র করে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে দলীয় কোন্দলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগে। জাবেদ আহমেদের উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতি।

সরজমিনে উপজেলার নোয়াগাও মোড়স্থ জাবেদ আহমেদ এর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে গেলে প্রতিবেদকের কথা হয় পত্তন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমানের সাথে। মুজিবুর রহমান তেপান্তরকে বলেন,”যেহেতু আমার দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয় নি,আমরা চাইলে যে কারোরই নির্বাচন করতে পারি। ইতিমধ্যে দশ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।আর জাবেদ ছাত্রদলের রাজনীতি করতো ঠিকই। বুখারীর সাথে উপজেলা ছাত্রদলের প্রার্থীও হয়েছিল।কিন্তু সে গত আট দশ বছর যাবত এলাকায় থাকে না।থাকলে তো তার নামে অবশ্যই সরকার বিরোধী মামলা থাকতো।বিরোধী দলের লিস্টে আমরাই তার নাম দিতাম,এরেস্ট করাইতাম।” ক্ষমতাসীনদের রোষানল থেকে বাচতে জাবেদ আহমেদ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান বলে নিশ্চিত করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

জাবেদ আহমেদের নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেপান্তরকে জানান,” জাবেদ ছাত্রদলের রাজনীতি করতো এবং বর্তমানে যুবদলে আছে সত্য।সে যুবদল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করছে না কারন বিএনপির নীরব সমর্থন তার প্রতি রয়েছে। যদি সে পদত্যাগ করে তাহলে বিএনপির সমর্থকেরা তাকে ভোট দেয়ার জন্য ভোট কেন্দ্রে যাবে না। এটা একটা রাজনৈতিক কৌশল বলতে পারেন।”

জাবেদ সভাপতি থাকাকালীন বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিকুল ইসলাম রাজভী। তিনিও জাবেদের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

উনাকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

আল জাবের(জাবেদ আহমেদ) এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে ঘন্টাখানিক পরে ফোন দিলে আর ফোন রিসিভ করেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, যারাই কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা চিঠি ইস্যু করেছি,আমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবিষয়ে পোস্ট দেয়া আছে।

তিনি আরও জানান, জাবেদ,লিটন মুন্সি, মোর্শেদ যেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তার বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে, প্র‍য়োজনে ডাকে চিঠি দেয়া হবে। এমনকি যারা কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণাও চালাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলার অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীর জাবেদের প্রতি সমর্থন দেয়াকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ ও সতর্কতা প্রকাশ করেন।

তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন,”আসন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী পরিবারের সদস্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেত্রী মানবতার মা ডিজিটাল নিরাপদ বাংলাদেশের রুপকার দেশরত্ন জননেত্রী জনাবা শেখ হাসিনা এমপি মহোদয় সহ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জনাব র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি মহোদয়ের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্তা বিশ্বাসের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত স্মার্ট অসাম্প্রদায়িক মাদক চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মানে কাজ করার জন্য যারা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার মেনে নিয়ে কাজ করছেন তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। যারা এসব মানেনা, পেট্রোল বোমা হামলা ও অগ্নি সন্ত্রাসী করে মানুষ পুড়িয়ে মারে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জন্মদিনের কেক কেটে উৎসব করে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করে এগিয়ে যাবেন – ইনশাআল্লাহ। ”

উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৪ এর চতুর্থ ধাপে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৯ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১২ মে। আর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১৬ থেকে ১৮ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ মে। ২০ মে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। আগামী ৫ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের আগেই আসন্ন বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে প্রতিনিয়ত গণসংযোগ, মিটিং,ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশিত হবে ভিন্ন প্রতিবেদনে।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।