Tepantor

দালাল,ডিএসবি ও পাসপোর্ট অফিসের কব্জায় সেবা প্রার্থীরা

১০ জুন, ২০২৪ : ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস কোটি কোটি টাকা সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ খায় মূলত দালালদের মাধ্যমে। শুধু পাসপোর্ট অফিস নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিএসবি ( পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল ব্রাঞ্চ) একই পন্থায় টাকা খায়। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাব-দালাল থাকে, আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে রয়েছে মূল দালালদের সিন্ডিকেট। তাদের সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ থাকে। গ্রামের সাব-দালালরা পাসপোর্ট আবেদকারীকে মূল দালালদের কাছে নিয়ে আসে, পরে তারা আবেদনকারীর ফরমে মূল দালালের নিজস্ব সাঙ্কেতিক চিহ্ন একে দিয়ে পাঠায় পাসপোর্ট অফিসে। তারপর সুন্দর ভাবে জমা হয়ে যায় ওই আবেদন। আর কেউ সরাসরি জমা দিতে গেলে সেটা গ্রহন করেনা পাসপোর্ট অফিস।

পাসপোর্ট আবেদনকারীকে ব্যাংক ড্রাফ্ট করার পর দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট অফিসে দিতে হয় কমপক্ষে ১৫০০ টাকা ও ডিএসবিকে দিতে হয় কমপক্ষে ১০০০ টাকা। তবে এই দুই প্রতিষ্ঠানেই ক্ষেত্র বিশেষ এর পরিমান বেশিও হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১০০০ পাসপোর্টের আবেদন জমা হয়। প্রতিটা আবেদনের জন্য ১৫০০ টাকা করে নিলে দিনে কত হয় এবং তা মাসে গিয়ে কত দাড়ায় সেটা ভাবার বিষয়।

পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে বিভিন্ন বাহানায় দোকান খুলে ওইখানে মূলত পাসপোর্টের কাজ করেন দালালরা। গাড়ির পার্টস, ফটোকপির দোকান, ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকান ইত্যাদির বাহানায় এসব দালালখানা চলে। এর মধ্যে দীর্ঘ ২০/২৫ বছর যাবৎ দালালী করেন এমন ব্যক্তিও আছে অনেক। এসব প্রবীন দালালদেরকে আইকন ভাবেন সাধারণ দালালরা। প্রবীনদের মধ্যে ভাটপাড়ার শরীফ, শহরের মসজিদ রোডের হাত কাটা জুয়েল, মসজিদ রোডের ফেলু, মেড্ডার আজাদ মোল্লা, শাহজাহান মোল্লা, আজহার, জাকির, রুবেল, সঞ্জয়, হেলাল, রুবেল, বকুল অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে মেড্ডার মহিউদ্দিন, সোহাগ ও ঘাটুরার মোজাম্মেল।

এদের কাছেই গ্রাম থেকে প্রতিদিন অসংখ্য লোক আসে পাসপোর্ট করতে। শুধু তাই নয়, মসজিদ রোডের জুয়েল ও ফেলু তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন মসজিদ রোডের অফিস বা দোকান থেকেই।

জানা গেছে, তাদের এই অফিসে কর্মী দিয়োগ দিয়ে এই বিশাল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তাদের এখানে চাকরিপ্রার্থীদের বলা হয়ে থাকে, “পাসপোর্ট অফিসে কাজ”, পাসপোর্ট অফিসের শাখা মসজিদ রোড। ডিউটি করতে হবে এখানেই।
সাধারণ মানুষ দালালদের কাছে যায় বাধ্য হয়ে। পাসপোর্ট অফিস যখন আবেদনপ্রার্থীদের ফিরিয়ে দেন তখন তারা পাসপোর্ট করতে বাধ্য হয়ে দালালদের কাছে যান। কিন্তু বিনিময়ে খরচ করতে হয় অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা।

এদিকে আরেক অবাক করা ব্যপার হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরীসহ অন্যন্য কর্মীকেও পাসপোর্ট আবেদনপ্রার্থীদের আবেদন গ্রহন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অফিসারের চেয়ারে বসে রাগববোয়ালদের প্রক্সি দেন তারা। তারা শুধু আবেদন গ্রহণই করেননা, প্রার্থীদের আবেদন ফেরতও দেন। এই অফিসে অফিসাররা তাকে দিয়েই সঠিক তথ্যকে ভুল দেখিয়ে ফেরত দেন। তবে ফেরত দেওয়ার কাজটা শুধু তিনি একা করেননা। উপরের কর্মকর্তাদের নির্দেশে এই কাজ করেন। মূলত তিনি নিরাপত্তারক্ষী এবং তিনি তার নিজ দায়ীত্বেই থাকতে চান। তবে পাসপোর্ট অফিসের এই সমস্ত লেনদেন কার্যক্রমের বেশির ভাগ দায়ীত্ব পালন করেন পাসপোর্ট অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূরুল আমীন।

তো এই যখন অবস্থা, পাসপোর্টের অনিয়ম নিয়ে যখন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন হয় তখনও দালালদের মাধ্যমেই টাকার বিনিময়ে ফাইল গ্রহণ করে পাসপোর্ট অফিস। দূর্নীতির এই রাগব বোয়ালদের থামানোর কেউ নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে একাধিক সামাজিক সংগঠন ও একাধিক ফেইসবুক ভিত্তিক সংগঠন থাকলেও তারা কখনোই কোন দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেনা। তাই বলা যেতেই পারে, অন্যায়-অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার মতো কোন সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন ও কোন ফেইসবুক ভিত্তিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেই।

পাসপোর্ট অফিস,ডিএসবি’র দূর্নীতি ও দালালদের দৌরাত্ম নিয়ে বিস্তারিত থাকছে সংবাদের আগামী ধাপে।

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।