Tepantor

ভেজাল খাদ্যের কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জেল-জরিমানা

১২ জুন, ২০২৪ : ১:২৮ অপরাহ্ণ

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার খৈয়াসারে বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং অনুমোদনবিহীন রঙ ব্যাবহার করে জুস,পুডিং, চিপসসহ ভেজাল ও নিম্নমানের শিশু খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন করার দায়ে মেসার্স সাইফুল ফুড প্রোডাক্টস নামের এক প্রতিষ্ঠানের দুটি কারখানা সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় কারখানার মালিক মোঃ হোসাইনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১০ দিনের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার খৈয়াসার এলাকায় অবস্থিত কারখানা দুটিতে অভিযান  পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিএসটিআইয়ের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাস্কফোর্সের সদস্যরা।


ভ্রাম্যমান আদালত ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শহরের খৈয়াসার এলাকায় দুটি কারখানায় বিএসটিআই – এর সীল নকল করে, অবৈধ ভাবে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে লিচি, জুস,সফট ড্রিংকস, চানাচুর, চিপস ও ডালসহ বিভিন্ন প্রকার নিম্নমানের শিশু খাদ্য তৈরী করে আসছিলেন কারখানাটির মালিক,জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার বাসিন্দা হোসাইন মিয়া। খাদ্যে পরিমাণমতো কেমিক্যাল মেশানোর জন্য সার্বক্ষণিক একজন কেমিস্ট থাকার কথা থাকলেও কোন ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়া হোসাইন মিয়া নিজেই কেমিস্টের কাজ করতেন বলেও জানা যায়।


অভিযান চলাকালীন টাস্কফোর্সের সদস্যরা কারখানায় গিয়ে দেখতে পান বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ন, নকল ও মানহীন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।কারখানার পাশে খোলা আকাশের নীচেই বড়ো কড়াইয়ে পুরনো কালচে তেল দিয়ে চিপস ভাজা হচ্ছে।এসময় তারা কারখানায় একাধিক শিশু শ্রমিককেও কারখানায় কর্মরত দেখতে পান। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত মানহীন এসব পন্য জব্দ করে ধ্বংস করেন ট্রাস্কফোর্স সদস্যরা।

পরে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও কারখানা পরিচালনার কোন ধরনের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মোঃ হোসাইনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করার পাশাপাশি কারখানা দুটি সিলগালা করে দেয়া হয়।


অভিযানের নেতৃত্বদানকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম তেপান্তরকে বলেন, “বিএসটিআইয়ের পরিমান মানদন্ড আইন ২০১৮ এর ২৪(১) এবং ৪১ ধারা লঙ্ঘন করার দায়ে কারখানার মালিক মোঃ হোসাইনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড  প্রদান করা হয়েছে।এধরনের ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। ”
উল্লেখ্য উক্ত কারখানাটিতে এক বছর আগেও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ একই অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করে কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছিল। পরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কারখানা মালিক পুনরায় আরও বড়ো পরিসরে এসব ভেজাল খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন শুরু করে।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।