Tepantor

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে দালালদের মাধ্যমে ঘুষ নেয় ডিএসবি, পজিটিভ দেয় মামলার আসামীদেরও

২১ জুন, ২০২৪ : ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

তেপান্তর রিপোর্ট: পাসপোর্টের আবেদনকারীরদের কাছ থেকে দালালদের মাধ্যমে ঘুষ খায় পুলিশের জেলা বিশেষ শাখা বা ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল ব্রাঞ্চ (ডিএসবি)। আর যেসব ব্যক্তি দালালের মাধ্যমে আবেদন না করে সরাসরি পাসপোর্টের আবেদন করেন সে ক্ষেত্রে ডিএসবি সরাসরিই আবেদন প্রার্থীর কাছ থেকে এই ঘুষ খায়। এছাড়াও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট আবেদনকারী বিভিন্ন মামলার আসামীদেরও পজিটিভ রিপোর্ট দেয় তারা। এর মাধ্যমে তাদের পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করে ডিএসবি। গড়ে প্রতিদিন এক হাজার পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ে। একটি আবেদন থেকে যদি পনেরো শত টাকা করে রাখা হয় তাহলে মাসে তা কত কোটি হয় তা হিসেব করলে সহজেই বুঝা যায়। এক্ষেত্রে তদন্ত করতে সরাসরি কোন প্রার্থীর বাড়িতে যান না ডিএসবি’র সদস্যরা। এই অবস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিএসবি’র। বছরের পর বছর এই অবস্থা চলতে থাকলেও এসবের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিএসবি তে অনিয়ম ও দুর্নীতি এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

ডিএসবি’র অন্যান্য কাজের মধ্যে পুরো জেলার খবরাখবর পুলিশ সুপারকে দেওয়া ডিএসবি’র অন্যতম কাজ। কিন্তু এই ডিএসবি’ই যখন দুর্নীতিতে আক্রান্ত তখন এই খবর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কে দেবে? যদিও ডিএসবি ও জেলার পুলিশ সুপারের মধ্যে ঘনিষ্টতা থাকে।

পাসপোর্টের আবেদন পাসপোর্ট অফিসে জমা হবার পর সরকার কোন ব্যক্তিকে পাসপোর্ট প্রদানের আগে আবেদনকারী ব্যক্তি পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য কিনা সেটা জানতে একটি পুলিশ ভেরিফিকেশন করে। আর এই সুযোগটিই নেয় ডিএসবি। তারা খুব সূক্ষ্মভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দালালদের মাধ্যমে প্রতি আবেদনে নূন্যতম ১৫০০ টাকা করে নিয়ে থাকেন। আর কোন ব্যক্তি দালালের দ্বারস্থ না হয়ে যদি সরাসরি পাসপোর্ট এর আবেদন করেন তখন ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে ডিএসবি পুলিশ ওই পাসপোর্ট প্রার্থীকে নানা রকম হেনস্থা করে। অযৌক্তিক ভাবে নানা রকম কাগজপত্র চায়, তারপর ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে ডিএসবি।

আর তাদের চাওয়া অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজ দিতে না পারলে অথবা সেই সব কাগজে একটার সাথে যদি আরেকটার দাড়ি-কমা অমিল পায় তাহলেতো সোনায় সোহাগা। তখন এই ব্যক্তির কাছ থেকে যে কত টাকা নেবে এই ডিএসবি পুলিশ তার কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই নাই। সাথে পুলিশের দুর্ব্যবহার তো ফ্রি।

ডিএসবি পুলিশকে দালালরা কিভাবে কত টাকা করে প্রতি ফাইলে দেয় তার কিছু রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে, যেখানে পাসপোর্ট দালালরা নিজেরাই একথা স্বীকার করেছে।

দালালের মারফতে তাদের কাছে না যাওয়ার কারণে পরবর্তীতে ঘুষ গ্রহণ, কাগজপত্রের বাহানা ও হয়রানির ইস্যু কে কেন্দ্র করে পাসপোর্ট প্রার্থীর সাথে দুর্ব্যবহার, হুমকি-ধামকি এমনকি পুলিশের দ্বারা মারমুখো আচরণের শিকার হয় সেবা প্রার্থীরা। এসব হয়রানীর কারণে সেবা প্রার্থীরা বাধ্য হয়ে দালালের কাছে যায় অথবা পরিচিত কারো রেফারেন্সে পাসপোর্ট আবেদন জমা করে।

এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করলে ডিএসবি’র দুর্নীতির চিত্র প্রতিয়মান হয় যে, কেবল দালালের মাধ্যমেই যারা পাসপোর্টের আবেদন করেন তাদেরকে ডিএসবি পুলিশ ফোন করে তাদের অফিসে নিয়েও যায় না, কাগজপত্রও চায়না, টাকাও নেয়না আর হয়রানিও করে না। ঠিক কোন দিক দিয়ে পাসপোর্ট রেডি হয়ে গেল প্রার্থী তখন টেরও পায়না। তাহলে কেবল সরাসরি যারা পাসপোর্ট এর আবেদন করে ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে তাদেরকেই কেন ডিএসবি পুলিশ এত ভোগায়? এর উত্তর দেওয়া হচ্ছে এবং হবে সংবাদের এই পর্বে এবং আগামী পর্বে।

চলবে…

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।