Tepantor

কোটি টাকার কাজে দুর্নীতি,ওয়ার্নিং দিয়ে দায় সেরেছে এলজিইডি

২৫ জুন, ২০২৪ : ৩:১৮ অপরাহ্ণ

কাজী আশরাফুল ইসলাম: “এমুন চৈদ্দ নম্বর কাম আমার জীবনেও দেখছি না। এলজিইডি অফিসে জানাইলাম,কইলো দেখতাছি।হেরা অহনো দেখতেওই আছে,আর এমেদা কন্টেকটার ছেপ লেপদা কাম সাইরা যাইতাছে গা।” অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে তেপান্তর নিউজকে কথাগুলো বলছিলেন ফরহাদ মেম্বার। তিনি বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালাছড়া গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তার বাড়ির সামনে দিয়ে এলজিইডি’র অর্থায়নে প্রায় আটানব্বই লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ করছে মেসার্স সেলিনা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় বাসিন্দা এবং জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ সড়ক নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহৃত হচ্ছে। মানা হচ্ছেনা সরকার অনুমোদিত নকশার পরিমাপ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কালাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া ভারত সীমান্তঘেষা এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটিতে ব্যবহৃত হচ্ছে নয়টি কোম্পানির ইট এবং সবগুলোর মানই অত্যন্ত বাজে। রয়েছে পুরনো ইট,পুরে যাওয়া কালো ঝামা ইট এবং নিম্নমানের সুড়কি। কোথাও কোথাও বালির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে রাস্তা থেকে তুলা মাটি। সড়কের এজিং এর পরিমাপও অনেক জায়গায় শিডিউলের চেয়ে কম।

স্থানীয় বাসিন্দা মান্না মিয়া বলেন,” এই সড়ক ছয় মাসও টিকবে না।ঠিকাদার মনে হয় এই কামে অর্ধেকের বেশি লাভ করার ধান্দায় কাজ করতাছে।”

বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল ভূঁইয়া বলেন, ” আমি কিছুদিন আগে নির্মানাধীন রাস্তাটির বাগানের দিকের কিছু অংশ দেখে আসছি।রাস্তার কাজ অসম্ভব বাজে হচ্ছে।উপজেলা নির্বাচনের ব্যস্ততা আর ঈদের ছুটির কারনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় নি।কালই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করবো।”

এদিকে সড়কটির কাজ পুরোপুরি সঠিক হয়নি স্বীকার করে সড়কটি নির্মানের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেলিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক পত্তন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রতন মিয়া বলেন, ” পুরাপুরি সঠিক কাজ চাইলেও করা যায় না। মেম্বার আমারে কইছে ইটটি নাকি ভালো পড়ছে না, দেখি কী করা যায়। আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন,সবকিছু বুঝিয়ে বলবো নে।”

সড়ক নির্মাণে তদারকির দায়িত্বে থাকা বিজয়নগর এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিকুর রহমান ভূইয়া বলেন,” সড়কটির নির্মাণকাজে অসঙ্গতির ব্যাপারে স্থানীয় মেম্বার আমাকে জানানোর পর আমি পরিদর্শনে গিয়ে ত্রুটিপূর্ণ ইট গুলো ঠিকাদারকে সরিয়ে নিতে বলেছিলাম। তাছাড়া কাজের গুনগত মান ঠিক রাখতে ঠিকাদারকে সতর্কও করেছিলাম। আপনি যেহেতু নতুন করে তথ্য দিয়েছেন, আমি পুনরায় সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।”

এলজিইডি’র কোন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেলে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং প্রকল্প সাইট নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কোন নিয়ম আছে কি-না জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, ” প্রকল্প চলাকালীন অবশ্যই উপজেলা অফিসের কারও না কারও থাকার কথা। আমি এখনি খোজ নিচ্ছি,উপজেলা অফিসের গাফেলতি আছে কি-না যদি থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ  ব্যবস্থা নিবো। আর আগামীকাল আমার অফিস থেকে আমি লোক পাঠাবো।নির্মান সামগ্রী প্রয়োজনে ল্যাবে এনে পরীক্ষা করে যদি কাঙ্ক্ষিত মান না পাওয়া যায়, তাহলে ঠিকাদারের বিল আটকে দেয়ার পাশাপাশি টেন্ডার বাতিলের ব্যবস্থা করবো।”

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।