Tepantor

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিএসবি’র দুর্নীতির কোন জবাবদিহিতা নেই

২ জুলাই, ২০২৪ : ৪:১২ অপরাহ্ণ

তেপান্তর রিপোর্ট: (পূর্বে প্রকাশের পর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (ডিএসবি)’র অনিয়ম দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট। শুধুমাত্র এক পাসপোর্ট সেক্টর থেকে মাসে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খায় ডিএসবি। তারা অনেকটা নিশ্চিন্তে এগুলো করতে পারছে কারণ, পুলিশ সুপার বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে তাদের কিছু বলেন না। অনেকে মনে করছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান পুলিশ সুপারের আমলে জেলা পুলিশ সবচেয়ে বেশি অনিয়মিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে ১০ টি অভিযোগ উঠলে ২ টির বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেন না তিনি। এমন কি এসব বিষয়ে কোন বিবৃতিও প্রকাশ করা হয় না পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে।

এদিকে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ইস্যুতে ডিএসবি’ই মূলত দালালদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুর্নীতি করে যাচ্ছে।
দালাল ছাড়া কেউ সরাসরি পাসপোর্ট জমা দিলে তাদের ভেরিফিকেশনের সময় যেভাবে হয়রানি করে ডিএসবি: জেলা শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলের জাকির হুসাইন রকি। বছর খানেক আগে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্টের আবেদন জমা করেছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় ডিএসবি পুলিশ তার রিপোর্ট নেগেটিভ দিয়ে দেয়। ফলে পাসপোর্ট আটকে যায় তার। নেগেটিভ দেওয়ার কারন? তার এনআইডিতে ঠিকানা দক্ষিণ মৌড়াইল থাকলেও বর্তমানে পৈরতলায় তারা জায়গা কিনেছে বাড়ি নির্মানের জন্য। তাহলে ঠিকানা পৈরতলা নয় কেন? এই কারনে রিপোর্ট নেগেটিভ। যদিও পরবর্তীতে তদবির করে পুনরায় তদন্ত এনে এটাকে পজিটিভ করতে সক্ষম হয়েছিল রকি।

মাস ছয়েক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকার তিতাস পাড়ার সালমান। তিনিও সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট জমা করেছিলেন। ভেরিফিকেশনের সময় অন্যান্য কাগজের সাথে জায়গা জমির দলিলও চায় ডিএসবি। এখন এনআইডি’র ঠিকানায় গ্রামের নাম লিখা আছে তিতাস পাড়া, দলিলে কেন গ্রাম তিতাস পাড়ার পাশাপাশি ঘাটুরা মৌজা লিখা এজন্য তার ভেরিফিকেশন আটকে দেয় পুলিশ। তবে এজন্য পাঁচ হাজার টাকা দবী করে ডিএসবি’র ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে সালমানের মা ওই অফিসারের হাতে পায়ে ধরেও কোন কাজ হয়নি। পরে সালমান ওই পুলিশ অফিসারকে বলে টাকা না দিলে যদি আমি পাসপোর্ট না পাই তাবে তাই হোক। এ কথা বলায় সালমানকে মারতে যায় ডিএসবি’র ওই এসআই। যদিও পরে সালমানের এক বড় ভাইয়ের অনুরোধে ভেরিফিকেশন পজেটিভ দেয় ওই অফিসার।

আবার দেখা যায়, কোন ব্যক্তির নিজের বাড়ি নেই জায়গা জমি নেই এমন ব্যক্তিদেরও ভেরিফিকেশন দেয়না, কিন্তু টাকা দিলে সবই হয়। এগুলো কেবল সামান্য উদাহরন। এরকম অগনিত কেইস পাওয়া যায় ডিএসবি’র ক্ষেত্রে।

নিজে আবেদন করা পাসপোর্ট প্রার্থীদের ডিএসবি অফিসে ফোনে ডেকে নিয়ে নানা কাগজপত্র চায়, নানান অমিল খুজতে থাকে ও নানা ভাবে ওই প্রার্থীকে কথা প্যাচাতে থাকে। কোন একটা কথার প্যাচে ফেলতে পারলে বা কাগজে কোন দাড়ি কমা ভুল পেলেই ব্যাস। এই কার্যকলাপটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে করা হয় এসপি অফিস সংলগ্ন তাজু হোটেলে বা সাথের খাবার হোটেলগুলোতে বসে।

অথচ দালালের মাধ্যমে গেলে তাদেরকে ডিএসবি পুলিশ ফোন করে তাদের অফিসে ডাকায়না, কাগজপত্রও চায়না, টাকাও নেয়না আর হয়রানিও করে না। ঠিক কোন দিক দিয়ে পাসপোর্ট রেডি হয়ে যায় প্রার্থী তা টেরও পায়না। তাহলে কেবল সরাসরি যারা পাসপোর্ট এর আবেদন করে ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে তাদেরকেই কেন ডিএসবি পুলিশ এত ভোগায়?

মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মামলার আসামীদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন দেয় ডিএসবি। এক্ষেত্রে পুলিশ অনেক সময় তাদের নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে তাদের পরামর্শে দালালের মাধ্যমে আদালত থেকে একটি কাগজ নেয় যেই কাগজে লিখা থাকে আসামীর চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন।

নবীনগরের গুড়িগ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে ইসমাইল। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকা স্বত্বেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে ভেরিফিকেশন পজিটিভ দিয়েছে ডিএসবি।

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিএসবি’র এসব কর্মকান্ডের কোন জবাবদিহিতা নেই।

চলবে…

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।