আখাউড়ায় স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও অরক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা সহ ২৫০ শহীদের গনকবর

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ১:৪৩ অপরাহ্ণ ৪৬১

আশরাফুল মামুন: লক্ষ লক্ষ প্রান ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে মাতৃভূমি কে শত্রুমুক্ত করার ৪৯ টি বছর পেরিয়ে গেলেও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের গুরুত্ব এতটুকু ও কমেনি বরং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি বেড়েই চলেছে কোটি কোটি বাঙ্গালির হৃদয়ের মনিকোঠায়। মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিভিন্ন কর্মকান্ডের পরও উন্নয়নের ছিটেফোঁটা ও পড়েনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার থেকে কয়েক গজ পূর্বে একটি পুকুরপাড়ে গাছগাছালি আর ঝোপঝাড় লতাপাতায় ঘেরা প্রায় ৫০ শতাংশ জায়গায় ২৫০ শহীদদের গনকবরটি। এ পবিত্র সমাধি এলাকাটি আখাউড়া চেকপোস্টের দক্ষিণ পাশে সেনারবাদী গ্রাম আর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রামনগর গ্রামের মধ্যবর্তী সীমান্তের শূন্যরেখায় (সীমানা পিলার থেকে ১৫০ গজ)। এখানে মুক্তিযোদ্ধা সহ প্রায় ২৫০ জন শহীদের কবর। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের এই কবর স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও অযত্নে -অবহেলায় পড়ে আছে। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবছর সীমান্তের এই এলাকার বাংলাদেশ অংশে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। আখাউড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে আখাউড়া, কসবা, মনতলা, কুমিল্লা, বিলোনিয়া, বাসরুমসহ ত্রিপুরা সীমান্তের অদূরে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার জিবি হাসপাতালে। যুদ্ধাহত যাঁরা সেখানে মারা গেছেন, তাঁদের গাড়িতে করে পাঠানো হতো আগরতলার রামনগর গ্রামে। আর সেখান থেকে তাঁদের মরদেহ এনে আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়নের সেনারবাদী গ্রামের কবরস্থানে সমাহিত করা হতো।
আখাউড়া উপজেলার বাউতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাড়ির পাশেই ওপারে প্রায় ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে। এত কাছে থেকেও সহকর্মীদের কবরগুলোর জন্য কোনো কিছু করতে পারছি না।
তিনি আরো বলন, একাত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার দক্ষিণ রামনগরে একটি ইটভাটা ছিল। ওই ইটভাটায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একটি যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে যেসব মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে আহত হন তাদের আগরতলা জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অনেকে মারা যান। তাদের ওই স্থানে কবর দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব মুক্তিযোদ্ধা হানাদার বাহিনীর গুলি খেয়ে ও গ্রেনেডের আঘাতে মারা গেছেন তাদের পাকিস্তানিদের ভয়ে আগরতলা নিয়ে জানাজা শেষে ওই স্থানে কবর দেওয়া হয়। তিনি কবরগুলো পরিচর্যা করে সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে স্থানীয়এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন জানান, এই গনকবরটির সংরক্ষণের দাবিতে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অনেক আগে থেকেই তৎপর রয়েছে। গনমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল কিন্তু এরপরেও শহীদদের গনকবর টি সংরক্ষণে উদ্যেগে না নেওয়া টা দুঃখজনক। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিদের এমন অনাদর অবহেলায় পড়ে থাকা আমাদের পীড়া দেয়।

গনকবরটির জমির পাশের বাড়ীর মালিক প্রকৌশলী মোঃ শাহ জামান বলেন, এই বধ্যভুমটি সীমান্তের জিরো পয়েন্টেে হওয়ায় এবং কোন রাস্তাঘাট না থাকায় ওখানে কেউ কখনো যেতে পারে না, চারপাশে ঘন ঝোপঝাড় ও পরিত্যাক্ত জলাশয় হয়ে একটি ভূতুরে অবস্থায় আছে। তিনি আরো বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কাছে আমাদের আকুল আবেদন জাতীয় বীরদের আত্মার শান্তির জন্যে হলেও অনতিবিলম্বে যেন সংরক্ষণের উদ্যেগ নিয়ে এই স্থান টি তে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মান করা হয়।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে গণকবর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। গণকবরে থাকা শহীদদের নাম ও এর ইতিহাস জানতে কাজ করবে একটি উপকমিটি। একই সঙ্গে কবর বাংলাদেশের ভেতরে আনার জন্য আশপাশের এলাকায় খাসজমি পাওয়া সম্ভব কি না, তা ঠিক করতে সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।