ঋণগ্রস্ত মানসিক ভারসাম্যহীন বাংলাদেশি যুবকের কান্ডে অতিষ্ঠ মালয়েশিয়া পুলিশ

২১ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ২:৪৩ অপরাহ্ণ ২০২

আশরাফুল মামুন,মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বাংলাদেশী যুবকের কান্ডে অতিষ্ট দেশটির সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ বিভিন্ন লোকজন । মোঃ হারিস(৩০) নামের ওই বাংলাদেশি যুবক কুয়ালালামপুর এর বাণিজ্যিক এলাকা বুকিত বিন্টাং এ তার পাগলামি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তার পাগলামির কারণে পুলিশ তাকে কয়েকবার আটক করেও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে । সর্বশেষ মঙ্গলবার দেশটির পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা তাকে একটি বিপজ্জনক উঁচু বিলবোর্ড থেকে বহু কষ্টে উদ্ধার করে দেশটির সরকারি হসপিটাল কুয়ালালামপুরে ভর্তি করা হয়েছে । এখন সে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে । তাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য হারিছ এর পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা দাবি জানিয়েছেন । মোহাম্মদ হারিস টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার পাঁচগাও গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল লতিফ মিয়ার পুত্র । তার স্ত্রী ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে ।

বাংলাদেশে যোগাযোগ করার জন্য তার ছোট ভাই এর মোবাইল নাম্বার 008801918595157।

মালয়েশিয়ার ডাংওয়াঙ্গি জেলা পুলিশ প্রধান এসিপি মোহাম্মদ ফাহমি ভিসুভানাথান আবদুল্লাহ জানান, ওই তরুণ রাস্তায় ছুরি দেখিয়ে লোকজনকে ভয় দেখাচ্ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে কুয়ালালামপুরের পুলিশ সদর দপ্তরের কাছের একটি পথচারী সেতুর দিকে পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘৩০ বছরের ওই ব্যক্তি পুলিশকে এড়াতে জালান বুকিত বিনতাং এলাকায় একটি হোটেলের কাছে থাকা উঁচুতে বিলবোর্ডের ওপর উঠে যায়। ওই তরুণকে সেখান থেকে নামানোর জন্য অগ্নিনির্বাপন কর্মীদের খবর দেয় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে নামানোর সময় অগ্নিনির্বাপন কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের মুখে ও বুকে লাথি মারতে শুরু করে এবং বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করে সে ।

ফাহমি জানান, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। এই তরুণকে দীর্ঘ দিন ধরে মালয়েশিয়ার রাস্তা ঘাটে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। একাধিক প্রবাসীর ফেসবুকে এই যুবকের ছবি দেখা যায়। তবে মালয়েশিয়া পুলিশ সূত্রে জানা যায় তার বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনে তদন্ত করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে ওই তরুণ মানসিকভাবে অসুস্থ।

এ বিষয়ে হারিসের গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তার ছোট ভাই মোবাইলে জানান, আমার ভাই হারিছ মিয়া বিগত দেড় বছর আগে শ্রমিক ভিসায় মালয়েশিয়ায় যায়। দেশটির রাওয়ান নামে এলাকায় কাজ করতো কাজটি পরিশ্রমের বিদায় কাজ করতে পারবে না বলে নিজ দেশে ফেরত আসার কথা আমাদের জানায় । তার দেশে প্রচুর ঋণ থাকায় আমরা সবাই তাকে দেশে আসার কথা নিষেধ করায় পরবর্তীতে বিভিন্ন মানসিক চাপে আমরা জানতে পারি সে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দেশে তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। আমাদের পরিবার দরিদ্র বিদায় তার ঋণ পরিশোধ ও তার দেশে ফেরত আসা ও চিকিৎসা ব্যয় ভার গ্রহণ করতে পারছিনা তাই প্রবাসে সকলের ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছি ।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম )জনাব হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল তেপান্তরকে জানান,মোহাম্মদ হারিস এখন অসুস্থ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে তারপর চিকিৎসায় বিমানে চড়ার উপযুক্ত হলে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।