ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় চলছেনা ১ ও ২ টাকার কয়েন

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ৫:২৬ অপরাহ্ণ ৫১৬২

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ১ ও ২ টাকার কয়েন অচল হয়ে পড়েছে। কোন দোকান পাটে এই কয়েন চালানো যাচ্ছেনা। দোকানদারদের কয়েন দিলে তারা তা ফেরত দিচ্ছে। এমনকি ভিক্ষুকরাও ভিক্ষা হিসেবে কয়েন নিচ্ছেনা। দোকানদাররা কয়েন নিতে যেমন অনিহা প্রকাশ করছে তেমনই তারা ক্রেতাদেরকে কয়েনের বদলে চকলেট দিয়ে দিচ্ছেন। অপরদিকে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করছেন, দোকানিরা অতিরিক্ত ব্যাবসা করতেই টাকার বদলে চকলেট হাতে দড়িয়ে দিচ্ছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধ্যানে শহরের মঠের গুড়া, টি এ রোড ও ট্যাংকের পাড়সহ একাধিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কোন দোকানিই এই কয়েন নিচ্ছেন না। জানতে চাইলে টেংকের পাড় এলাকার পান দোকানি হিমেল বলেন, ছোট কয়েন কাস্টমারকে দিলে তারা নেন না। তাই আমিও নেইনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন দোকানদার বলেন,সোনালি ব্যাংকে গেলে ১০০ টাকা ও ৫০টাকার নোটই নেয় না, তাহলে আমরা এত কয়েন কোথায় দেবো?

জিদনী ইসলাম নামে একজন কাষ্টমার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোকানিরা যেহেতু কয়েনের বদলে চকলেট দিয়ে দেয় তাই আমাদেরও উচিৎ দোকানিদের টাকার বদলে চকলেট দেওয়া। এছাড়াও সবাইকে এক সুরে আন্দোলন করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

পুলিশের সদস্য আক্তার হোসেন বলেন, সারা বাংলাদেশে এই টাকা চলে কারন কয়েনের গায়ে লিখা আছে চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকিবেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কেন এমন হচ্ছে জানি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, দোকানিরা অতিরিক্ত ব্যবসা এবং ভাংতির ঝামেলা এড়াতেই এই পন্থা অবলম্বন করছেন। ব্যাংকে টাকা জমা দিতে এলে আমরা অবশ্যই নিই। কেউ যদি নিতে না চায় ব্যাংক ম্যানেজার এর কাছে অভিযোগ জানান।

এবিষয়ে সোনালি ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টি এ রোড শাখার ব্যাবস্থাপক আশিক কায়সার তেপান্তরকে বলেন, আমরা সব ধরনের কয়েন এবং ভাংতি টাকা নিচ্ছি। এবং আমাদের ব্যাংকে ১ টাকা,২ টাকা ও পাঁচ টাকার কয়েন এর যথেষ্ট পরিমান মজুদ রয়েছে। আমরা যদি কয়েন না নিতাম তবে এত কয়েন মজুদ থাকে কিভাবে? আমরা নিচ্ছি এবং দিচ্ছি। দোকানিদের অভিযোগ সম্পূর্ন  ভিত্তিহীন।

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ বড়ুয়া তেপান্তরকে জানান,এইটা সরকারি কোন নির্দেশ নয়। যদি  কোন ব্যাংক ভাংতি নিতে অনিহা প্রকাশ করে তবে আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্তা নিব।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।