নাব্যতা সংকটে হুমকির মুখে বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ৬:০৫ অপরাহ্ণ ৮৬১

ফাইল ছবি

মো. আবু রায়হান চৌধুরী: নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে হুমকরি মুখে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কড়িতলা ফেরি ঘাটের প্রবেশ মুখে পলি মাটি জমায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ডুবোচরের কারণে যে কোন সময় ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা ফেরি কর্তৃপক্ষের। পার্শ্ববর্তী ৪টি জেলার  সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণের জন্য বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার নৌরুট-টি ড্রেজিং জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন এ রুটে চলাচলাকারী পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এই নৌরুট টি দিয়ে প্রতিনিয়ত কুমিল্লার হোমনা,মুরাদনগর,কোম্পানীগঞ্জ,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর,বাঞ্ছারামপুর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার,ভুলতা,মাধবদী ও রাজধানী ঢাকার এয়ারপোর্টসহ কয়েক হাজার যানবাহন যাতায়াত করেন বলে তীব্র যানযট ও জ্যামের সৃষ্টি হয়। এর ফলে সাধারণ যাত্রীরা হচ্ছেন চরম ভোগান্তির শিকার,ফেরি ঘাটে অপেক্ষায়মান অবস্থায় বসে সময় কাটাতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। যেখানে    জ্যাম মুক্ত, সহজ-সুন্দর ও দ্রুত সময়ের রাস্তা হিসেবে সব ধরনের যান চলাচল করে থাকে এই ফেরিতে। ড্রেজিংয়ের অভাবে পলি মাটি জমায় ফেরি এখন হুমকির মুখে। এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন সিএনজি,মাইক্রোবাস,মিনিবাস,এম্ব্যাবুলেন্স, পিকআপ,ট্রাক,লড়িসহ কয়েক হাজার যানবাহন উঠানামা করে। এখন মেঘনা নদীতে পানি না থাকায় যে কোন সময় ফেরি আটকে যেতে পারে। বিআইডব্লিউটিএ’এর একজন কর্মকর্তা জানান, শীত মৌসুমে মেঘনার পানি কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে নদীর মধ্যে ডুবোচর। বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর কড়িতলা ঘাটের ১ কিলোমিটার এলাকায় ডুবোচর জেগে ওঠায় ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেনা। এ রুটের ‘কে টাইপের ফেরিগুলো চলাচল করতে ৮ থেকে ১০ ফুট পানির দরকার হলেও ভাটার সময় প্রবশে পথ গুলোতে ৫ থেকে ৬ ফুটের বেশি পানি থাকে না। এতে ফেরির চালকরা বিপাকে পড়েছেন।

বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার নৌরুটের ফেরি চালক আব্দুল মান্নান তেপান্তর প্রতিবেদককে বলেন, নদীতে এখন শুষ্কমৌসুম পলটনের সামনের ৭ শত ফুট প্রায় নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় ফেরি অনেক দূর থেকে ঘুরিয়ে আসতে হয়। অতি জরুরী ভিত্তিতে নদী খননের প্রয়োজন। ফেরি চালাতে গিয়ে প্রতিদিন মাটির সাথে আটকে যাচ্ছে। ফেরি জোয়ারের সময়ও ঘুরিয়ে ধরতে হয়, কিন্তু সেটি আমাদের খুব সমস্যা হয় এবং ভাটার সময় সোজা ধরা যায় ঠিকই, কিন্তু বের হওয়ার সময় আমাদের অনেক সমস্যা হয়।  ডুবোচরের কারণে ফেরির ট্রপি কমে যাওয়ায় বাস-ট্রাক নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে আটকে থাকতে হচ্ছে চালকদের। শুধু ফেরি নয়,এই রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানালেন লঞ্চরে চালকরা।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসির উদ্দিন সরোয়ার তেপান্তরকে বলেন, নদী খননের বিষয়ে আমি আগেও একটা লেখিত আবেদন পেয়েছি। ফেরির ইজারাদারও আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এখন আমি বিআইডব্লিউটি এর সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করবো। নদী খনন অথবা ফেরির পলটন অন্য স্থানে স্থানান্তর করে দিব।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।