পল এলুয়ারের কবিতা : ‘প্রেয়সী’

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ৩:২৬ অপরাহ্ণ ৬৪৬

পল এলুয়ারের কবিতা আমাকে তারুণ্যে প্রথম আকর্ষণ করেছিল তার অকৃত্রিম মানবিক স্বপ্ন-সাধনার জন্যে। বাস্তবের আগুনে তা উজ্জ্বলতর হয়, যখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ফ্রান্সের প্রতিরোধ আন্দোলনে এলুয়ারের গোপন সক্রিয়তা দেশপ্রেমের কবিতায় উৎসারিত হতে থাকে। অভিন্ন আধার— দেশ ও কাঙ্ক্ষিতা নারী একাকার—আমাদের আবেগও যেন অগ্নিশুদ্ধি পেয়ে আরো পবিত্র হয়ে ওঠে। এলুয়ারকে নিয়ে আমার পক্ষপাতিত্বের আরো একটি কারণ, একাত্তরে অবরুদ্ধ দেশ থেকে উদ্বাস্তু হবার অভিজ্ঞতায় অনুরূপ বোধে উজ্জীবিত হয়ে অশেষ কোমলতায় মগ্ন হতে চাওয়া। তখন ‘তোমায় ভালোবাসি’ মনে মনে উচ্চারণ করতে গেলেও গলা ধরে আসত। এলুয়ারের ‘Lady Love’ কবিতাতে দেশ কি প্রতীকে প্রেমিকা? তবে যেন অনুভবে এ কবিতা ভারি সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর।

সাবালক হবার পর এক লাইন পদ্যও লিখিনি, কবিতা তো লেখার প্রশ্নই ওঠে না। সেখানে স্যামুয়েল বেকেটের ইংরেজি অনুবাদ সহায় করে পল এলুয়ারের এ কবিতার ভাষান্তর বাংলায় হাজির করার স্পর্ধা দেখাচ্ছি! উল্লেখ্য, প্রয়াত আবদুল মান্নান সৈয়দের চমৎকার অনুবাদে এ কবিতা এক সময়ে পড়েছি। অবশ্যই তাঁর অনুবাদ অনেক বেশি যথাযথ ও প্রাণবন্ত। তবু, আমার অক্ষম অনুবাদটি এখানে রইলো ।

ভূমিকা ও অনুবাদ: সনৎকুমার সাহা

প্রেয়সী

আঁখিপল্লব সবটা জুড়ে সে থির
কেশরাশি তাঁর আমার চুলেতে মেশে
তাঁর চোখে আঁকা আমার চোখের রঙ
দেহখানি তাঁর আমার হস্তরেখা
আমার ছায়ায় ঢেকে যায় তাঁর সব
আকাশে যেমন হারায় মণির শোভা

কখনো সে আর বুজবে না তাঁর চোখ
আমাকেও তাই জাগিয়ে রাখবে সে
আলোজ্বালা দিনে স্বপ্নপুঞ্জ তাঁর
মুছে দেয় তেজ সহস্র সূর্যের
এবং আমাকে হাসায় কাঁদায় হাসায়
কথাতে পাওয়ায় যখন থাকে না কথা

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।