গ্যাসের শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই গ্যাস সঙ্কট

২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ : ১:৪৩ অপরাহ্ণ ২৭০৪

তেপান্তর রিপোর্ট: বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ আছে। রান্নাঘরে চুলাও আছে। তবে সেই চুলা জ্বলে না। কারণ, চুলা দিয়ে গ্যাস আসে না।
এই দৃশ্য দেশের কোনো দুর্গম এলাকার নয়। দৃশ্যটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের। অথচ এই জেলায় রয়েছে অন্তত ৩৮টি গ্যাসকূপ। দেশের মোট গ্যাসের ৩৪ ভাগ সরবরাহ করা হয় এখান থেকেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দাতিয়ারা, পুনিয়াউট, শেরপুর,ফুলবাড়িয়া, মুন্সেফপাড়া,পাইকপাড়া, ভাদুঘরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক মাস ধরে চলছে গ্যাসের জন্য হাহাকার। দিনে তো বটেই, এমনকি রাতেও গ্যাসের দেখা পাওয়া যায় না। যাঁদের পক্ষে বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করা সম্ভব, তাঁরা হয়তো করছেন। কিন্তু অনেক পরিবারকেই রান্না করতে না পেরে প্রায় দিনই অভুক্ত থাকতে হচ্ছে।
এসব এলাকায় সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে গ্যাস চলে যায়, আসে রাতে। অর্থাৎ পুরো দিনের রান্নার জন্য এলাকাবাসীকে অপেক্ষা করতে হয় গভীর রাত বা ভোরের জন্য। সারা দিন হাত গুটিয়ে বসে থাকেন গৃহিণীরা।
এ নিয়ে রোববার (২৯ ডিসেম্বর ২০১৯) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নামনে মানববন্ধন করেন মুন্সেফপাড়া সহ কয়েকটি এলাকার মানুষ। তাদের অভিযোগ, এ সংকট নিরসনেও কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।
মাসের পর মাস এ অবস্থা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে গ্রাহকদের মধ্যে।
বলা হয়, তাঁদের এলাকায় দিনের বেলায় নিয়মিত সাত-আট ঘণ্টা একেবারেই গ্যাস থাকে না। কিন্তু বর্তমানে সংকট চরমে উঠেছে। গড়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা গ্যাস পান ওই সব এলাকার মানুষ। সারা দিনই গ্যাস থাকে না। শুধুমাত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরেই রয়েছে প্রায় ২২টি গ্যাসকূপ। এখানকার গ্যাস উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত যাচ্ছে জানিয়ে এলাকাবাসী জানান, তাঁদের দুর্ভাগ্য যে তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন না।

তারা জানান গ্যাস না থাকার সীমাহীন সমস্যার কথা। সকালে রান্নাবান্না হয় না বলে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের না খেয়েই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে হয়। যাঁরা বাড়িতে থাকেন, তাঁদেরও দুপুরের খাবার খেতে খেতে রাত হয়ে যায়। রান্নার সব আয়োজন শেষ করেও বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর রাতে যখন গ্যাস আসে, তখনো চুলা জ্বলে মিটমিট করে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. কাজল মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্যাস যায় সারা দেশে। আর আমরাই গ্যাস ভোগ করতে পারি না। কত বড় দুর্ভাগ্য।’ তিনি জানান, তাঁদের এলাকার গ্যাসের সমস্যা নিরসনে দরখাস্ত দেওয়ার পর এলাকার লোকজন দলবেঁধে কয়েকবার অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না।এবিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অফিসের ডিজিএম জাহিদুর রেজা তেপান্তরকে বলেন, গ্যাস বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। আগে এই বরাদ্দেই চলতো কিন্তু এখন চাহিদা বেড়েছে। সঙ্কট সমাধানের জন্য বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের উপর মহলে চিঠি পাঠিয়েছি। এছাড়াও শীতকালে গ্যাস লাইনের ক্যাপাসিটি কমে যায়, এটাও সমস্যার একটা কারন হতে পারে। আমাদের বরাদ্দকৃত গ্যাস পাই মূলত তিতাস গ্যাস থেকে। তাই আমাদের এমডি’র মাধ্যমে তিতাসের এমডিকে জানানো হয়েছে গ্যাস বাড়ানোর ব্যাপারে। যেহেতু সারা দেশেই গ্যাস বিতরন করা হয় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং সেখানেই এর সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাই দ্রুতই এর সমাধান হয়ত হবেনা। কিন্তু আমরা সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছি, তাই হয়ত আগামী কিছুদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।