আমার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা, আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে কিছুই হবেনা

৫ জানুয়ারি, ২০২০ : ৮:১৬ অপরাহ্ণ ২০৫

মোঃ আবু রায়হান চৌধুরী: কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের কে কুটুক্তি করে এক শিক্ষক বলেছেন, আমার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা ঢাকা ইউনির্ভাসিটিতে মাস্টার্সে পড়ে আমার বিরুদ্ধে যতই লেখালেখি করা হয় না কেন তাতে আমার কিছুই হবে না। বরং বেশি বাড়াবাড়ি করলে ছেলেকে বলবো ছাত্রলীগের পোলাপাইন নিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে। কথা গুলো প্রকাশ্য দিবালোকে বীরদর্পে বললেন, উপজেলার দড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক,বদমেজাজি আব্দুল করিম।
রোববার দুপুরের দিকে সমাজ কণ্ঠ পত্রিকার হোমনা-বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রতিনিধি ওই শিক্ষকের কাছে হোমনায় বিদ্যালয় বন্ধ রেখে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকদের যোগদান এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, আমি শিক্ষা অফিস থেকে ২দিন আগেই ছুটি নিয়ে ছিলাম, ছুটি থাকা অবস্থায়ই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। শুধু আমি নই আমার সাথে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এসময় সাংবাদিক ওই শিক্ষকের কাছে ছুটি নেওয়ার কোনো কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষক আব্দুল করিম বেশ উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং বলেন তোমাদের মত সাংবাদিকরা আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি করে কি করবে। আমার ছেলে ঢাকা ইউনির্ভাসিটিতে পড়ে, সে সেখানকার ছাত্রলীগের অনেক বড় নেতা। তোমরা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করো আমার ছেলেকে বলবো ছাত্রলীগের পোলাপাইন নিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে। যদি ভাল চাও তুমি বা তোমরা কেউই আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি থেকে বিরত থাকও। উল্লেখ্য গত ০৪/০১/২০২০ ইং শনিবার হোমনা চৌরাস্তা-বাগমারা রোডে অবস্থিত অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে আছাদপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ও ভংঙ্গারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদিন বিদ্যালয় বন্ধ রেখে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ পরিচালক মো. সুলতান মিয়া। এব্যাপারে হোমনা উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার দুলালপুর ক্লাস্টার এর (এটিও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ্ওইদিন দড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমসহ আমার ক্লাস্টারের কোনো শিক্ষকেরই ছুটি ছিল না। শুধু মাত্র পাথালিয়াকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষক আমার কাছ থেকে অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তার ব্যক্তিগত দাওয়াত আছে বলে জানালে আমি শুধু তাকেই যোগদান করার অনুমোতি প্রদান করেছিলাম। শিক্ষক আব্দুল করিম কিছুতেই ছুটিতে ছিলেন না। তার ছুটির আবেদন গতকাল ৫ই জানুয়ারি মঞ্জুর করা হয়েছে। সাংবাদিককে কুটুক্তি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা সাংবাদিক সম্মানীত ব্যক্তি যদি কেহ আপনাদের কে অসম্মান করে থাকে তা হলে আপনারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। যদি আমার শিক্ষক অসম্মানজনক কিছু বলে বা করে থাকে তা হলে অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।