বিচারাধীন মামলাকে মিথ্যা-বানোয়াট বললেন ডা.আবু সাঈদ

৭ জানুয়ারি, ২০২০ : ৩:০৬ অপরাহ্ণ ৫৩৩

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক ডাক্তার ডিউকসহ ৩ ডাক্তারের বিরুদ্ধে বিচারাধীন প্রসূতি মৃত্যুর মামলাকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বাচিপ নেতা ডা.আবু সাঈদ। গত ৫ জানুয়ারি আবু সাঈদ তার ফেইসবুকে “মিথ্যা বানোয়াট মামলায় আটক তিন ডাক্তারের জামিন হয়েছে, সবাইকে ধন্যবাদ” লিখে একটি পোষ্ট করেন। এরপরই সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত ১ জানুয়ারি জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত জেলে পাঠান ডিউকসহ তিন ডাক্তারকে। পরের দিন ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা একটি সভা করে। সেই সভায় গ্রেফতারকৃত ডাক্তারদের জেলে প্রেরণের প্রতিবাদে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর ঘোষণা করেন। এর প্রেক্ষিতে ৪ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে কর্মবিরতি পালন করে ডাক্তাররা। তার পরের দিন ৫ জানুয়ারি জামিন হয় ডিউকসহ ৩ ডাক্তারের। আর ওই দিনই ডাক্তার আবু সাঈদ মামলাটি মিথ্যা-বানোয়াট লিখে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন। জেল থেকে অভিযুক্ত ডাক্তরারা বের হবার পর তাদেরকে ফুলের মালা গলায় পড়িয়েও বরণ করে নেন ডাক্তার নেতারা।

এদিকে আদালত কতৃর্ক জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর ঘটনাকে অনিয়মতান্ত্রিক বলেছেন “বিএমএ” এর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নেতারা। গত ২ জানুয়ারি “বিএমএ” এর মিটিংয়ের সিদ্ধান্তপত্রে এই কথা লিখা হয়।

এবিষয়ে মামলাটির বাদি পক্ষের আইনজিবী মোঃ মোশারফ হোসেন বলেছেন, জেলে যাওয়ার পর এত দ্রুত কিভাবে অভিযুক্ত ডাক্তাররা জামিন পেলো এই বিষয়টি বোধগম্য নয়। ডাক্তার আবু সাঈদ সাহেবের একটি বিচারাধীন মামলাকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলা ঠিক হয়নি। মামলার চুরান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বুঝা যায়না এটা সত্য নাকি মিথ্যা মামলা। তিনি আরো বলেন, ডিউকের যেই জামিনটি হয়েছে এটি আরো ৮/১০টা জামিনের মতো না। এটি একটি অস্বাভিক জামিন।এর আগে থার্টিফাস্ট নাইটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের করিডরে কনসার্ট করে ও আতশবাজি ফুটিয়ে নববর্ষ উদযাপন করেন স্বাচিপ নেতা আবু সাঈদের নেতৃত্বে জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা । একটি ভিডিওতে দেখা গেছে হাসপাতালের ওই অনুষ্ঠানে ডা. আবু সাঈদ ও সিভিল সার্জন নিজে আতশবাজি ফুটিয়েছেন। তবে সিভিল সার্জন শাহ আলম একটি টিভি টকশোতে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সেই আতশবাজি নাকি বাচ্চারা ফুটিয়েছে। তার এই কথায় হাস্যরস তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।
তাদের আতশবাজি ফুটানোর কারনে হাসপাতালের অনেক রুগীই ভুগান্তিতে পড়ে। তাদের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে নিন্দার ঝড় উঠে জেলার সর্বত্র। সস্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডাক্তারদের এমন সব কর্মকান্ডে হতবাক ও বিরক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।