দেশে ধর্ষণের অনুকূল পরিবেশ তৈরী হয়েছে বলেই সকল ধর্ষক তার সুযোগ নিচ্ছে

১০ জানুয়ারি, ২০২০ : ২:০৮ অপরাহ্ণ ৭০০

জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব: যখন কোন ঘটনা ঘটে আর সেটা আমরা শুনতে কিংবা জানতে পারি তখন সচেতন কিংবা অবচেতন ভাবে আমাদের মস্তিষ্ক সেই ঘটনার একটা চিত্রও মস্তিষ্কের ব্যাক স্টেজে স্থান, কাল, অবস্থানের ভিত্তিতে চিত্রায়ন করে | সেটা প্রায় সময় পূর্বাপর নানান ঘটনার উপর ভিত্তি করেও হতে পারে আবার আমাদের ভালো লাগা না লাগার ভিত্তিতেও হতে পারে | ঘটনা ঘটার পর মানুষ প্রত্যাশা করেছিলো এই ধর্ষণ কাণ্ডের সাথে হাইপ্রোফাইল কেউ জড়িত থাকবে | ঘটনা ঘটার পর থেকেই সচেতন কিংবা অবচেতন যেভাবেই হোক মানুষ নিজের বিশ্বাস ও সত্য এই ফ্লটটাতই তাদের মস্তিষ্কে ধারণ করতে শুরু করেছে |
এরপর যখন ধর্ষকের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে অনুসরণ করে ধরা হলো, নির্যাতিতা নিজেই ধর্ষককে আইডেন্টিফাই করল, ধর্ষক নিজেই সেই ধর্ষণের পূর্বাপর স্বীকার করলো তারপরও কিছু মানুষ এই হাড় জিড়জিড়ে, দাঁত ভাঙা, উস্কোখুস্কো, নেশাখোর মজনুকে ধর্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারছে না | মজনু নামের একজন ভাসমান মানুষ কি ধর্ষণ করতে পারে ? যেহেতু নির্যাতিতা ঢাবি ছাত্রী সেহেতু তাদের মস্তিষ্ক এখানে মজনুর স্থলে তাগড়া জোয়ান কাউকে চিত্রায়ন করেছিলো | এখন সেটা না হওয়াতে তারা মজনুকে ধর্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারছে না ! চিন্তা ও বাস্তবতার এই ফারাক তাদেরকে ধাঁধায় ফেলে দিয়েছে | এই অবিশ্বাসের কারণ হল- নানান সময়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানান ঘটনাকে বিভিন্ন ভাবে ধামাচাপা দিয়েছে তাই মানুষ তাদের কথায় খুব একটা আস্থা বা বিশ্বাস রাখতে পারছে না | তাই তারা ভাবছে মজনু একজন জর্জ মিয়া |

আমার নিজের কথা বলি,আমি খুশি হতাম ধর্ষকের নামের পাশে ছাত্র নেতা, কিংবা পিস্তল হাতে ভয়ংকর কোন পান্ডাকিংবা কোন হুজুর, ট্যাগ থাকলে | সেটা না থাকায় আমি হতাশ তাই মেনে নিতে পারছি না | ঘটনার পর আমার মস্তিষ্ক যেভাবে ভেবেছে রহস্য উদ্ঘাটনের পর সেটা আর মিলছে না তাই আমার ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না | রাষ্ট্র/প্রশাসন আমাদের সাথে অতীতে এত এত ছলচাতুরি করেছে এখন তারা সত্য বললেও আমাদের সত্য বলে আর বিশ্বাস হয় না | আর ধর্ষক শক্তপোক্ত তাগড়া হইলে আবার আরেক দল বলত, “এইটা আসলে ধর্ষিতার পুরোনো প্রেমিক ওর সাথে প্রতারণা করসে বলে উচিত শিক্ষা দিয়ে দিসে |”
র্যাবর হাতে বেতের বাড়ি খাওয়া সাংবাদিকের আর পঞ্চাশটা ক্যামেরা সাম্নে দাঁড়ায়ে র্যাব পরিবেষ্ঠিত ধর্ষকের মুখ এই রকম হাভাগোভা মার্কাই থাকে | মাদকাসক্ত লোকের শরীরে জিদ চাপ্লে কী দানবীয় শক্তি হয় সেইটা মাতাল মজনু আবার প্রমান করলেন | ধর্ষকের কুনো শ্রেণি নাই,ধর্ষকের মনোস্তত্ত্ব শুধুই ধর্ষকের।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।