আখাউড়া স্থলবন্দরে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

১৫ জানুয়ারি, ২০২০ : ২:০৩ অপরাহ্ণ ৩১৭

আশরাফুল মামুন:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি মুখী স্থলবন্দর এর ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস বিভাগে ব্যাপক হারে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। লাগেজ পার্টির দৌরাত্ম বৃদ্ধির পাশাপাশি কোনরকম ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস চেক ছাড়াই যাত্রী আগমন ও বহির্গমন হচ্ছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি সহ রয়েছে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ ও। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পর তারা কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

দেশের পূর্বাঞ্চলের ভারত-বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত আখাউড়া স্থলবন্দর বিভিন্ন কারণে বিশেষ করে ভারতের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত ত্রিপুরা আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট এবং স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করে থাকে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য, মাছ, পাথর, সিমেন্ট, প্লাস্টিক সামগ্রী, বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ইত্যাদি। উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুবিধার্থে ইতিমধ্যে দু’দেশে সরাসরি রেললাইন স্থাপন ও এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে । বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আখাউড়া স্থল বন্দর চেকপোস্টের অবকাঠামো আশানুরূপ উন্নয়ন না হওয়ায় যাত্রীসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে সক্রিয় রয়েছে লাগেজ পার্টি। সরেজমিনে দেখা গেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ কিংবা কাস্টমস বিভাগ আগত এবং বহির্গমন যাত্রীদের ব্যাগেজ কোন চেক করে না আমদানি নিষিদ্ধ কিংবা রপ্তানি নিষিদ্ধ কোন পণ্য আছে কিনা অথবা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোন অবৈধ পণ্য বহন করছে কিনা উনারা যাচাই করে দেখেন না। এমনকি অনেক যাত্রীকে দেখা গেছে ভারত থেকে ফিরে পাসপোর্ট ভিসা কোন এন্ট্রি না করেই চলে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে তখন ডিউটির এক কাস্টমস কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সব গুলো আমরা চেক করি না করার দরকার নেই শুধুমাত্র সন্দেহ হলেই আমরা চেক করি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ইমিগ্রেশনে তাদের চাহিদা মত টাকা দিলেই দ্রুত কাগজপত্র ওকে হয়ে যায় আর টাকা না দিলেই বিভিন্ন অজুহাতে বিলম্বিত করতে থাকে। অনেক যাত্রী বলতে দেখা গেছে ইমিগ্রেশন এলাকায় বিসিবি চেক করে বিলম্ব করার কোন প্রয়োজন নেই। তারা নতুন একটি স্ক্যানার বসিয়েছে যাত্রীদের মালামাল ও ব্যাগেজ চেক করার জন্য। লাগেজ পার্টি এতটাই বেপরোয়া হয়ে পড়েছে কিছুদিন আগেও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ মোবাইল সহ দুই যুবক পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। কিছুদিন পরপর বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে লাগেজ পার্টি ধরা পড়লেও কাস্টমস এর হাতে ধরা পড়ার সম্প্রতি কোন খবর নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন কাস্টম ইমিগ্রেশন ম্যানেজ করেই লাগেজ পার্টি সক্রিয় রয়েছে তাই তারা ধরা পড়েন না।

চেকপোস্টে হয়রানির স্বীকার এক যাত্রী অভিযোগ করেন , তাদের চাহিদামত টাকা দিলেই দ্রুত সেবা পাওয়া যায় নইলে বিভিন্ন ভাবে পদে পদে হয়রানি করে, বিজিবি সহ ইমিগ্রেশন পুলিশ আমার কাছে ৫শত টাকা বকশিশ চায়, না দিতে চাইলে তাদের সাথে এক প্রকার আমার বার্কেটিং হয়ে যায । তিনি আরো বলেন ইমিগ্রেশনে সিরিয়ালে লাইনে দাঁড়ালে পুলিশকে টাকা দিলেই সিরিয়াল ভেঙে আগে নিয়ে যায় এবং দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায় ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইমিগ্রেশন পুলিশ এর ইনচার্জ জনাব আব্দুল হামিদ প্রতিবেদক কে জানান, লাগেজ পার্টি ভারত থেকে কি আনলো বৈধ-অবৈধ সেটা আমার দেখার বিষয় নয় সেটা দেখবে কাস্টমস বিভাগ, আগমন বহির্গমন যাত্রীর পাসপোর্ট-ভিসা ঠিক আছে কিনা সেটা আমি দেখি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে কোন লাভ নেই।

আখাউড়া চেকপোস্ট কাস্টমস বিভাগের ইন্সপেক্টর জনাব হারুনুর রশিদ এর কাছে যাত্রী হয়রানি সহ মালামাল চেক করার বিষয়টি ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন অফিসে এসে সরাসরি কথা বলার জন্য।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার জনাব আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী ইমিগ্রেশনে নিরাপত্তা ও পাসপোর্ট ভিসার বিষয়টি দেখেন, মালামাল চেক করেন না এগুলো চেক করেন সেখানে কাস্টমস ও বিজিবি রয়েছেন তারা দেখেন। ইমিগ্রেশন পুলিশের টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে আবারো ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন আমি এখন মিটিং এ আছি বলে ফোন কেটে দেন।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।