পীরবাড়ি-নাটাই সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ : ৯:২৫ অপরাহ্ণ ১০১০
তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদরের পীরবাড়ী-নাটাই সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে কম নির্মান সামগ্রী ও বিশেষ করে নিম্নমানের পুরাতন ইট ব্যাবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা যায়,ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর উপজেলার ৮ নং নাটাই উত্তর ইউনিয়নের প্রচুর মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করেন।দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় কিছুদিন আগে এ সড়কটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরে। এলাকাবাসীর দাবির মুখে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি সড়কটি সংস্কারের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অধিক লাভের আশায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং পুরাতন ইটের সুড়কি ব্যাবহার করছে।
স্থানীয়রা বলছেন,এইভাবে সড়ক সংস্কার করলে এই সড়ক আগামী বর্ষার আগেই পুনরায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরবে।যার ফলে এলাকাবাসীকে পোহাতে হবে তীব্র দুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায় সড়কে ব্যাবহার হচ্ছে পুরোনো ইটের কংক্রিট, ময়লা আর ধুলো মাখানো রাবিশ।এগুলোকে ঢাকার জন্য এইগুলোর উপরেই অল্প অল্প করে দেয়া হচ্ছে নতুন ইটের সুড়কি।
এই বিষয়ে জাকির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যাক্তি অভিযোগ করেন,এই ধরনের নিম্নমানের লোকদেখানো কাজ করার চেয়ে না করাই ভাল। কিন্তু এখন এই উন্নয়ন প্রকল্পের টাকাগুলো দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের পকেটে যাবে।সড়কটির পাশে অবস্থিত নাটাই গ্রামের ফাহাদ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মনির মিয়া বলেন,বারবার বাধা দেয়া স্বত্বেও ঠিকাদার কারও কথায় কর্নপাত করছেন না।বরং তিনি জোরপুর্বক তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করতে চাইছেন।
সড়ক মেরামতের দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদার ওয়ালী মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল ফোনে চেস্টা করা হলে উনার ফোনকল সেলিম মিয়া নামক এক ব্যাক্তি রিসিভ করেন এবং নিজেকে সহকারী ঠিকাদার(সাব-কন্ট্রাক্টর) হিসেবে পরিচয় দেন। তার কাছে মানহীন নির্মাণ সামগ্রী ব্যাবহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেস্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন,স্থানীয়দের ম্যানেজ করেই কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, কিছু বলার থাকলে যেন এলজিইডি’তে গিয়ে বলা হয়। আর এমন অনেক সাংবাদিক উনি পকেটে নিয়ে ঘুরেন।বেশি ঘাটাঘাটি করলে চাদাবাজির মামলা দিয়ে দিবেন। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সড়কটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ওসমান গনি বলেন,তিনি এই বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। সরেজমিনে তদন্ত করে তিনি এই বিষয়ে ব্যাবস্থা নেবেন। রাস্তায় পুরোনো, ধুলো-ময়লা মেশানো ইটভাঙা ব্যাবহার করার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে কোন সুদুত্তর দিতে পারেননি। রাস্তা সংস্কারের কাজটি কিভাবে করার কথা রয়েছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রকল্পটির জন্য ৪০ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা বাজেট হয়েছে। রাস্তাটি তৈরিতে প্রথমে ৬ ইঞ্চি উচু বালির বক্স, তার উপর ২ ইঞ্চি কংক্রিটের স্তর, তারপর পানি দিয়ে রোলার করতে হবে, তার উপর ১ ইঞ্চি কার্পেট পিচ হবে, এবং রাস্তার দুইপাশে পুরাতন ইটের ব্লক না থাকলে সেখানে নতুন ইট দিয়ে ব্লক দিতে হবে।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে তার উল্টো চিত্র দেখা যায়।

 

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।