কবর দেওয়ার ৩ মাস পর রাতের আধারে লাশ তোলে বাড়িতে সমাহিত করলো পরিবার

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ : ২:৫৮ অপরাহ্ণ ১১৩৬

তেপান্তর রিপোর্ট: মৃতদেহ কবর দেওয়ার ৩ মাস পর গভীর রাতে গোপনে কবরস্থান থেকে লাশ উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে কবর দিলো মৃতের পরিবার। ব্রাহ্মনবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকার তিতাস পাড়ার ঘটনা এটি। সেই এলাকার সেনু মিয়ার মৃত্যুর ৩ মাস পর গত এক সপ্তাহ আগে তার পরিবার রাতের আধারে মেড্ডা কবরস্থান থেকে লাশটি তুলে তার নিজ বাড়িতে পুনরায় সমাহিত করেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৃত সেনু মিয়ার মেয়ে সাবিনা নিজেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিতাস পাড়ার সেনু মিয়ার বাড়ির এক কোনায় পুনরায় সমাহিত করা হয় লাশ। তবে এই বিষয়টি এখন পর্যন্ত এলাকার আধিকাংশ মানুষ জানেন না।

কি কারনে একাজ করা হলো এবিষয়ে জানতে চাইলে মৃত সেনু মিয়ার কন্যা সাবিনা জানান, তার বাবা মূলত ফকিরি লাইনের মানুষ ছিলেন। সরাইলের নাগ মৌলভীর ভক্ত ছিলেন তিনি।তার বাবার অছিয়ত ছিল তার মৃত্যুর পর যেন তার বাড়িতে কবর দিয়ে সেখানে মাজার করা হয়।কিন্তু মৃত্যুর পর এলাকাবাসীর বাধার কারনে বাড়িতে কবর দিতে পারেননি তারা্। তার পর থেকে তার বাবা পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সপ্ন দেখাতে থাকেন যেন তারা কবরস্থান থেকে লাশ তুলে এনে বাড়িতে পুনরায় সমাধিস্থ করা হয়। একারনে তারা মৃত্যুর  ৩ মাস পর রাতের আধারে লাশ তোলে বাড়িতে আবার কবর দেয়।সাবিনা আরো জানান, ৩ মাস পর লাশ তোলার পর দেখা গেছে সেনু মিয়ার লাশ সর্ম্পূণ তরতাজা ছিল। তার দেহে কোন পচন দরেনি। তার দাড়ি ও শরীরের সব অংশই আগের মতো ঠিক ছিল। এবিষয়ে যে কেউ চ্যারেঞ্জ করলে তারা লাশ তোলে দেখাতেও পারবেন। সেনু মিয়া মৃত্যুর আগে ঘরের দেওয়ালে লিখে গিয়েছেন কি নামে তার দরবার শরীফ হবে।

অছিয়ত করে যাওয়া দেওয়ালে লিখা দরবার শরীফের নাম । ছবি: তেপান্তর

এবিষয়ে তিতাস পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা নিজে কবরস্থানে লাশ দাফন করে দিয়ে এসেছি। আমি শুনেছি তারা লাশ উঠিয়ে এনে বাড়িতে আবার কবর দিয়েছে।তবে সত্য-মিথ্যা জানিনা।কাজটি কতটা শরিয়ত মোতাবেক তা আমার জানা নেই।

তিতাস পাড়া এলাকার সর্দার হাজী শফিকুল ইসলাম বলেন, তারা আমাদেরকে না জানিয়ে লাশ উত্তলন করেছে। আমরা এবিষয়ে বিস্তারিত খোজ খবর নিবো। যদি এটা শরিয়তের বাইরের কোন কাজ হয় তাহলে আমরা ব্যাবস্থা নিবো্। তিনি বলেন, জামিয়া ইসলামিয়া  মাদ্রাসার মুফতি মারুফ সাহেব আমাকে বলেছেন, অছিয়তের উদ্যেশ্য যদি খারাপ হয় তাহলে কাজটি নাজায়েজ কিন্তু যদি সৎ উদ্যেশ্য হয় তাহলে ঠিক আছে।

শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, যদি মাজারের উদ্যেশে এই কাজ করা হয় তাহলে আমি বলবো অবশ্যয় এটা খারপ উদ্যেশ্য। কারন মাজারে সিজদা দেওয়া হয়, নেশা করা হয় ও একসাথে নারী-পুরুষ বসে আড্ডা দেওয়া হয়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।