কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবিস্মরণীয় মানববন্ধন

২০ জানুয়ারি, ২০২০ : ১:১৬ অপরাহ্ণ ৩৩৪২

তেপান্তর রিপোর্ট: কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে সোমবার স্বরণকালের সবচেয়ে বড় মানববন্ধন হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। শহরের মেড্ডা থেকে কাউতুলী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার লম্বা এই মনববন্ধন পালন করেন জেলার সকল মাদ্রাসার কওমী শির্ক্ষাথী ও আলোম ওলামাগণ। ২০ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপি এই মানববন্ধন চলে। জেলার সকল উপজেলার অন্তত ৩০০ মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় ওই মাদ্রাসা গুলো বন্ধ রেখেই সবাই মানববন্ধনে যোগ দেন বলে জানা গেছে। এসময় কাদিয়ানিদের কাফের ও অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে সরকারের কাছে জোর দাবী জানান তারা। দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয় মানববন্ধনে। এসময় জেলার শীর্ষ আলেম ওলামাগণ মনববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে এত বড় মানববন্ধন কখনো দেখেনি কেউ।


গত ১৪ জানুয়ারি শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় খতমে নবুয়্যত নামে একটি মাদ্রাসা কাদিয়ানীদের দ্বারা দখল চেষ্টার অভিযোগ এনে গত কয়েকদিন যাবৎ শহরের কওমি শিক্ষার্থী ও কাদিয়ানীদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছে। এ নিয়ে ১৪ জানুয়ারি কওমী ও কাদিয়ানীদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। তার দুই দিন পরই কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবী জানিয়ে শহরের মাদ্রাসা ছাত্র ও ইসলাম অনুসারীরা বিক্ষোভ করেন।
যদিও কাদিয়ানীরা তাদের বিরুদ্ধে খতমে নবুয়্যত মাদ্রাসা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


এর মধ্যেই আনোয়ার নামে কাদিয়ানিদেরই একজন ব্যাক্তি যিনি সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন, তিনি গত ১৫ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এসে তারা কাদিয়ানিদের দ্বারা বিভিন্ন মানসিক অত্যাচার ও হুমকি-ধামকির কথা আলেম ওলামাদের জানিয়েছেন। আনোয়ার জানিয়েছেন, তারা ১৭ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার পর থেকেই কাদিয়ানীরা চাপ সৃষ্টি, জুলুম ও নির্যাতন করে তাদের। ফলে থানায় জিডি করতে বাধ্য হোন তারা। ইসলাম গ্রহন করা ১৭ জনই কান্দিপাড়ার বাসিন্দা।

তিনি বলেন যে, আমরা ১৭ জন তওবা করে ইসলাম ধর্মে ফিরে এসেছি। এর পর থেকেই কাদিয়ানিদের দ্বারা আমরা বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি পেতে থাকি। আমাদেরকে তারা একঘরে করে রেখেছে। মুসলিম হওয়ার জন্য কাদিয়ানিদের কেউ আমাদের সাথে ঠিক ভাবে কথা বলেনা।এসময় আনোয়ার কেন কাদিয়ানী ধর্ম থেকে ইসলামে ফিরে এসেছেন এবং তাদের উপর কীভাবে জুলুম নির্যাতন করা হয় এর বর্ণনা দেন।


মানববন্ধনে বিপুল পরিমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ছিল। যেকোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেই দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের এক উর্ধতন কর্মকর্তা।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।