কাদিয়ানীদের টাকা খেয়ে কেউ জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়ার সংবাদ বর্জন করার উৎসাহ যুগিয়েছে কিনা?

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ : ৫:৪৩ অপরাহ্ণ ১২৪৬

মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান: জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা শুধু বাংলাদেশে নয় বরং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বলতে গেলে গোটা বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসার নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা। যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় দুইশতাধিক মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠানের সকল সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রেসক্লাব। যা শুধু হহটকারিতা ই নয় বরং বিস্ময়কর।

এই প্রতিষ্ঠানের কেউ যদি সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণ করে ই থাকে তাহলে প্রেসক্লাবের দায়িত্ব ছিলো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের অবহিত করা। এর সুষ্ঠু বিচার না পেলে তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিলে সেটা হতো যুক্তিযুক্ত। সাথে সাথে হেফাজতে ইসলাম এর সংবাদ বর্জন এটাও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ হেফাজতে ইসলাম সম্প্রতি কোনো কর্মসূচী ই দেয়নি যার দ্বারা সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ হবে। আবার সকল কওমী মাদ্রাসার সংবাদ বর্জন করার সিদ্ধান্ত, সকল কওমী মাদ্রাসা প্রেসক্লাবের সাথে কি এমন আচরণ করেছে যে, যার কারণে তাদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? ঠুনকো বিষয়ে এতো বড় একপেশে সিদ্ধান্ত যা বোধগম্য নয়। গ্রহণযোগ্যও নয়।

সাংবাদিকদের সাথে ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার আলেমসমাজের রয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ আন্তরিকতার সম্পর্ক।
এতো ঠুনকো বিষয়ে এতো বড় সিদ্ধান্ত কতিপয় ইসলাম বিদ্ধেষী চেতনা লালন কারীর ই বহিঃপ্রকাশ  কিনা তা ও এখন আলোচনার বিষয়।

নবীর দুশমন কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলনে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, ঠিক তখনই প্রেসক্লাবের এমন সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ দেখছে ভিন্ন চোখে।কাদিয়ানীদের সাথে  কতিপয় সাংবাদিকদের সখ্যতা অথবা ইসলাম বিদ্বেষী কিছু লোকের প্ররোচনায় হয়েছে কিনা, নাকি কাদিয়ানীদের অর্থ নিয়ে কেউ এমন করিয়েছে তা ও বিবেচনার দাবি রাখে।

ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার প্রেসক্লাবের সজ্জন ও সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ রইলো আগামী ৩০,৩১জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

যেখানে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম আসবেন।

আমার মনে হয় এর আগেই  প্রেসক্লাব ও আলেম উলামাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির অবসান করে নিলে মঙ্গলজনক হবে।

ভুল বুঝাবুঝির অবসানে প্রেসক্লাবকে ই এগিয়ে আসতে হবে।

কারণ কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে  জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা,হেফাজতে ইসলাম ও সকল কওমী মাদ্রাসার সংবাদ বর্জনের কর্মসূচী ঘোষণা দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রেসক্লাব ই ।

যাদের সংবাদ বর্জন করা হয়েছে তাদের তো এগিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।

লেখক: মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান

প্রচার সচিব

হেফাজতে ইসলাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।