উৎকণ্ঠার মাঝে ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মার্কেটে চাইনিজ উৎসবে মিলন মেলা

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ : ৫:৩২ অপরাহ্ণ ২২১

আশরাফুল মামুন::দেশের বাহিরে ২য় বৃহত্তম শ্রম বাজার মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বৃহত্তর চায়না জনগোষ্ঠীর সর্ব বৃহৎ উৎসব চায়না হারি (চায়না নববর্ষ) তে তখন সর্বস্তরের জনগোষ্ঠীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।

রাজধানীর কুয়ালালামপুরে কোতারায়া বাংলাদেশি মার্কেট যেন দেশের বাহিরে এক চিলতে “বাংলাদেশ” , এই উৎসবের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করে প্রবাসীদের মনে কারন যে কোন সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ক্ষণিকের এই আনন্দ এক মূহুর্তেই বিলীন করে দিতে পারে। তবু ও থেমে থাকে না বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছাস বাংলাদেশি খাবার, দেশিয় পণ্য, শাক সবজি, মোবাইল সামগ্রী ও নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়, ব্যবসায়ীরাও ফুরসৎ পাচ্ছেন না। সরকারি ভাবে ২৫ জানুয়ারি থেকে ছুটি ঘোষণা করা হলে ও এই মহা উৎসব চলবে কম বেশি সপ্তাহ ব্যাপী।

মালয়েশিয়ায় মালয় মুসলিম জাতি গোষ্ঠী প্রধান দেশ হলেও দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি এই চাইনিজরা। ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে একচ্ছত্র আধিপত্য চায়নাদের হওয়ায় এক সপ্তাহ লম্বা ছুটি টা সার্বজনীন ভাবে পালিত হয়। যদিও এখানে ঈদের ছুটি সরকারি ভাবে মাত্র এক দিন।

মালয়েশিয়ায় বৈধ অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা সঠিক ভাবে কেউ বলতে পারে না তবে ধারণা করা যায় এর সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষের ও উপরে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় দেশটির বিভিন্ন জেলা ও প্রদেশ থেকে হাজার হাজার বাংলাদেশিদের পদচারণায় মুখরিত কোতারায়া বাংলাদেশি মার্কেট টি তে পা ফেলার জায়গা নেই। চলছে বাংলাদেশি পণ্য যেমন মাছ মাংস,শাক সবজি, ওষধ, কাপড় চোপড়, মোবাইল সামগ্রীর যন্ত্রণাংশ বেচাকেনার ধুম। মালয়েশিয়ায় প্রকাশ্যে গরু জবাই করা হয় না তাই ভারত ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ফ্রোজেন প্যাকেট জাত মাংশ খেতে হয় যার কোন স্বাদ বা গন্ধ নেই।

প্রতি রোববার এখানে গরু জবাই করা হয় তখন তাজা মাংস সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখানে আসেন পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি নিয়ে। ভিসা থাকুক আর নাই থাকুক পুলিশের হাতে ধরা পড়লে ঘোষ তাদের বাধ্য হয়ে ই দিতে হবে কারণ না দিলে হাজতে নিয়ে ১৪ দিন আটক রেখে পাসপোর্ট ভিসা যাচাই করবে এটা তাদের আইন। এক কোম্পানির নামে ভিসা নিয়ে অন্য কোম্পানিতে কাজ করা অবস্থায় পাওয়া গেলেই জেলহাজতে প্রেরণ করাসহ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কুমিল্লার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা চায়না হাঁড়ির ছুটি উপলক্ষে কেনাকাটাও বাংলাদেশি খাবার এর স্বাদ নিতে বাংলা মার্কেটে হাজার হাজার বাংলাদেশি এখানে সমবেত হয়, পাশাপাশি একটা সংকোচ থাকে যেকোনো সময় পুলিশ অপারেসি (অভিযান) চালাতে পারে অথবা রাস্তাঘাটে আটক করতে পারে তখন বিভিন্নভাবে হয়রানি স্বীকার হতে হয়।

তিনি এ সময় বলেন, যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে তাদের যেন হয়রানি না করা হয় এজন্য বাংলাদেশের দূতাবাস ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তাহলে প্রবাসীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারতো।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মহ: শহিদুল ইসলাম সম্প্রতি সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাদের যে কাজের উপর বিষয় রয়েছে তারা সেই কাজই করতে হবে যেমন নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে ভিসা করে থাকলে সে কাজই করতে হবে যদি কোন নির্মাণ শ্রমিক রেস্টুরেন্ট কর্মরত অবস্থায় ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিবে। তবে রাস্তাঘাটে কিংবা কোনো কর্মস্থলে বৈধ ভিসা থাকা অবস্থায় যদি কোন পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিরক্ত করে তাহলে বিষয়টি সাথে সাথে দূতাবাসকে অবহিত করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।