মালয়েশিয়ার ডাস্টবিনে মিললো বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী পরিত্যক্ত পাসপোর্ট

৩০ জানুয়ারি, ২০২০ : ৪:৫৬ অপরাহ্ণ ১৮৩

আশরাফুল মামুন: মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের দামানসারার এমপিআর সিটি মলের একটি রেস্টুরেন্টের পাশের ডাস্টবিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। গতকাল যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট গুলি জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশি প্রবাসী শরিফুল ইসলাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত বাংলাদেশি এক কর্মীর সহযোগিতায় একটি ব্যাগ উদ্ধার করে। এসময় ব্যাগের ভেতর ৯০ টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
পাসপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথে শরিফুল ইসলাম মালয়েশিয়া প্রবাসী সাংবাদিক আশরাফুল মামুনকে অবহিত করেন, তারপর তিনি বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রথম সচিব জনাব হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল এর সাথে যোগাযোগ করে দূতাবাসে জমা দিতে বলেন। তারপর শরিফুল ইসলাম পাসপোর্ট গুলো বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিয়ে গেলেন প্রথমে পাসপোর্ট গুলো রিসিভ করতে বিলম্ব হলেও। দুই ঘন্টা পর এক পর্যায়ে একটি লিখিত আকারে আবেদনের মাধ্যমে জমা নেয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে পরিত্যক্ত শতাধিক পাসপোর্টে কোন ভিসা পাওয়া না গেলেও বিগত দিনে মালয়েশিয়ায় সরকারের দেওয়া বৈধ প্রকল্পের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র এবং মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগের কাগজপত্র ছিলো।
মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিফুল আলম এই প্রতিবেদককে জানান, রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একজন নাগরিক রেস্টুরেন্টের ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট একটি ডাস্টবিনে একটি ব্যাগ ভর্তি কিছু ফেলে যাওয়ার সময় একজন বাংলাদেশী দেখতে পায়। এসময় ঐ বাংলাদেশি কর্মী আরেক বাংলাদেশি কর্মী শরিফুল আলমকে জানায় রবিবার রাতে জানালে সোমবার সকালে ঐ ময়লা ডাস্টবিনের ভেতর থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করে।

পাসপোর্ট গুলো চেক করে দেখা গেছে এগুলো সবই বাংলাদেশী কর্মীর এবং এগুলোত রি হায়ারিং বা ভিসা পূর্ণ বৈধকরণ বেসরকারী এজেন্ট কোম্পানি মাইজি এবং অন্যান্য কোম্পানীর অস্থায়ী স্টিকার লাগানো রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিকরা রিং ফায়ারিং প্রকল্পের আওতায় ভিসা বৈধকরণের জন্য হয়তো এই পাসপোর্টগুলো কোন দালালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। অজানা কারণে দীর্ঘ সময় এই পাসপোর্টধারীদের ভিসা অনুমোদন করতে পারেনি আর এই কারণেই মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাছ থেকে ও আইনি জটিলতা এড়াতে গোপনে এই পাসপোর্টগুলো ডাস্টবিনে ফেলে যায়।
উল্লেখ্য যে, ২০১৬ রি হায়ারিং প্রকল্পে আবেদন করে ৬ লক্ষ বাংলাদেশী বৈধ হয়েছে। আর এই প্রকল্পে আবেদন করে অসংখ্য অভিবাসী শ্রমিক পাসপোর্ট হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন যার সঠিক পরিসংখ্যান কারো জানা নেই। এসময় কৌতুহল জাগলে ব্যাগটি খুলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাসপোর্ট অফিসার জনাব মশিউর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদক কে জানান, এব্যাপারে হাইকমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে করছে । পাসপোর্ট গ্রহণের বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এখানে কোন বিলম্ব হয়নি পাসপোর্ট গুলি কিভাবে কোথায় কি অবস্থায় পাওয়া গেছে বিস্তারিত জেনে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট গুলি শরিফুল ইসলাম থেকে গ্রহণ করা হয়, এবং তাকে হাইকমিশন থেকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।