ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শ্বশানগুলো মাদকের আখরা, পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ

৩১ জানুয়ারি, ২০২০ : ৮:১৯ অপরাহ্ণ ১১০৭

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদরের শ্বশান গুলা এখন হয়ে উঠেছে মাদক সেবীদের অভয়ারন্য।
বিশেষ করে গোকর্ণ ঘাট ও শালগাঁও কালীসীমা গ্রামের মাদকাসক্তদের অন্যতম মাদক স্পট গোকর্ন শ্বশানঘাট। ইয়াবা,ফেনসিডিল,গাজাঁ সহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবনের আস্তানা বসার অভিযোগ পাওয়া গেছে এসব স্থানে। মাকদসেবীদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সেখানকার স্থানীয় মানুষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর শ্বশান এর আশেপাশে মানুষজন কম চলাচল করায় সেখানে গড়ে উঠে মাদকের আস্তানা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতায় এরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ তাদের।
গোকর্ন গ্রামের মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান,শ্বশান ঘাটে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মাদক সেবী এবং মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এখানে বসেই এলাকায় চুরি,ছিনতাই এর পরিকল্পনা করে তারা।আমি দীর্ঘদিন যাবত মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছি,ভিডিও করে ফেসবুকেও দিয়েছি তবু পুলিশ এর নজরে আসছেনা এই ঘটনা।
একই গ্রামের আব্দুল্লাহ পারভেজ বলেন-সন্ধ্যা নামলেই শশান ঘাট এলাকাটি হয়ে উঠে মাদকসেবীদের নেশাখানায়। নেশার টানে দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসে অসংখ্য তরুণ-যুবক। কারণ এখানে এসে সহজেই পেয়ে যায় ইয়াবা ও মাদকদ্রব্যসহ সব উপকরণ।
এখানে পুলিশের নজরদারী বাড়ানোর অনুরুধ করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা শহর এর শিমরাইলকান্দি ও মেড্ডা শ্বশান ঘাটেও ঘটছে একই ঘটনা। শ্বশানের আশেপাশে তাকালেই চোখে পড়ে ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জাম,ফেন্সিডিলের বোতল সহ নানাবিধ উপকরণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদকদ্রব্য।

বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়,প্রতি রাতেই শহরের মধ্যপাড়া , কাজিপাড়া,মেড্ডা সহ প্রায় সব এলাকাতেই মাদক বিক্রেতারা গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। আর তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও পুলিশের নাম ভাংঙ্গিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকায়।পুলিশ আটক করলেও ১০-১৫ দিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। তাই এলাকার মানুষ ভয়ে আর তাদের কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।
মেড্ডা এলাকার সোহেল মিয়া বলেন,
শ্বশান ঘাট এলাকায় মাদক সেবীদের আনাগোনা বেশী হয় রাতে,মাঝে মাঝে আমরা মাদক মুক্ত এলাকা করতে উদ্যোগ নিলে বিভিন্ন ভাবে আমাদের কয়েকটি মহল ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি (অপারেশন) ইশতিয়াক আহমেদ তেপান্তর কে জানান,এই ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। কয়েকবারই ওইসব জায়গায় অভিজান চালিয়েছি এবং আটকও করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদকের ব্যপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন আমাদের।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।