নিহত ছাত্রনেতারা একটি সুন্দর দেশের স্বপ্ন দেখতো: এমপি মোক্তাদির

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ : ৩:৫৪ অপরাহ্ণ ৯৯৭

আসাদুজ্জামান আসাদ: ২০১১সালে ফরিপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১১ছাত্রলীগ নেতা সহ ১২ জনের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে নিহত ছাত্রনেতাদের স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভার আগে নিহত ছাত্রনেতাদের স্মৃতিরক্ষায় নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে প্রধান অতিথিসহ আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন অংঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক যুদ্বাহত মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, গোলাম মহিউদ্দিন খান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড.মাহাবুবুল আলম খোকন, শাহ আলম সরকার, সদস্য মাহমুদুল হক ভূইয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন সহ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ, শহর আওয়ামীলীগ,সেচ্ছাসেবকলীগ ও যুবলীগের এর নেতা-কর্মীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সুজন দত্তের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল,সাধারন সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন, সহ-সভাপতি শামিম হোসেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাছুম বিল্লাহ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তাজুল ইসলাম আপন, মেহেদী হাসান লেনিন, মিনহাজ মামুন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এম এইচ ই হিমেল, সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ,সাধারণ সম্পাদক লিমন আল স্বাধীনসহ উপজেলা ছাত্রলীগ,সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্ধ।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, এই দুর্ঘটনা মর্মান্তিক, দুঃখজনক, হৃদয়বিদারক। দূর্ঘটনায় আমরা হারিয়েছি ১২টি তাজা তরুন প্রাণ ও জেলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। তারা কোনো নেশা বা বিভিন্ন অপরাধমূল কাজে জড়িত ছিল না। নিহত ছাত্রনেতারা একটি সুন্দর দেশের স্বপ্ন দেখতো। তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাদের শূন্যতা এবং তাদের স্বপ্ন বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা -কর্মীদের পূরণ করতে হবে।

পরে নিহত ১২ ছাত্রলীগ নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে তবারক বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামীলীগ নেতা র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পির সফর সঙ্গী হয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার সলিলদিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১১ ছাত্রলীগ নেতাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১২ সন্তান।
এরা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী আলম শান্ত-(৩১), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক এজিএস আরিফুল ইসলাম বাবু-(৩০), জেলা ছাত্রলীগ নেতা শওকত হোসেন লিয়েন-(২৮), মোর্শেদ আলম-(২৯), শাহজাহান রহমতুল্লাহ রুমেল-(২৮), অ্যাডভোকেট জিয়াউল আমিন রিয়াদ-(২৯), শেখ রায়হান উদ্দিন-(২৮), হাফেজ আব্দুল্লাহ মাসুদ তানভীর-(২৯), মোঃ ইমরানুর রেজা ইমরান-(২৮), নূরুল আসিফ চৌধুরী-(২৮) ও মিজানুর রহমান-(৩৫)। পরদিন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোঃ আলমগীর-(২৮)।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।