ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজিএফসিএলে পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম-দূর্নীতি

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ : ৪:৩৬ অপরাহ্ণ ২৭০

তেপান্তর রিপোর্ট: পরিবহন সরবরাহে এক ঠিকাদারকেই বার বার নিয়োগ করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। বেশী দর দিয়ে এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে একই প্রতিষ্ঠানকে বারবার মনোনীত করে লাভবান হচ্ছেন কর্মকর্তারা। এতে সরকারের বিরাট লোকসান হলেও পকেট ভরছে তাদের, এমনই অভিযোগ। কোম্পানীর মহাব্যবস্থাপক পদের এক কর্মকর্তা ছাড়াও একাধিক কর্মকর্তা এই অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজিএফসিএল সুত্র জানিয়েছে, কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা কাজে ব্যবহারের জন্যে ঠিকাদারের মাধ্যমে গাড়ি সরবরাহ নেয়া হয়। প্রতি তিন বছরের জন্যে একজন ঠিকাদার নিয়োগ পান। অভিযোগ মিলেছে, গত ১০ বছর ধরে একই ঠিকাদার পরিবহন সরবরাহের কাজ পাচ্ছে। তার বাইরে অন্য ঠিকাদার কম মূল্যে গাড়ি সরবরাহের জন্যে দরপত্র জমা দিলেও তাদেরকে কৌশল করে বাদ দেয়া হচ্ছে। এবছরও তানুরা এন্টারপ্রাইজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানকে কোন দরপত্র ছাড়াই ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০২০ সালের ৩১জানুয়ারি বিজিএফসিএলের সঙ্গে তার পূর্বের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে গোপনে নিয়মনীতি লঙ্গন করে তার সঙ্গে আবারো চুক্তি করে কোম্পানী।
সুত্র জানায়, কোম্পানীর প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন লোকেশন থেকে সর্বোচ্চ ৭.৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত সরবরাহকৃত মাইক্রোবাস যাতায়াতে মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে ২০১৩ সালের মে মাসে কোম্পানী ৪৫০টাকা দরে চুক্তি করে। চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিলো কোন মাইক্রোবাস ২০০৪ মডেলের নিচে হতে পারবে না৷ ঠিকাদার নিযুক্ত হওয়ার পর মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজ বিভিন্ন মডেলের মোট ১৮টি মাইক্রোবাস সরবরাহ করে। কিন্তু কোম্পানীর কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চুক্তির শর্ত লঙ্গন করে ঠিকাদার পুরাতন মাইক্রোবাস দিয়ে পরিবহন কাজ চালিয়ে যায়। ২০১৭ সালের তানুরা এন্টারপ্রাইজের সাথে চুক্তি শেষ হলে দরপত্র আহবান করে বিজিএফসিএল। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি এমদাদুল হক চৌধুরী সর্বনিম্ন ৭০০টাকা দর উল্লেখ করে দরপত্র জমা দিলেও কোম্পানী তার সঙ্গে চুক্তি না করে আড়াই গুন বেশি দরদাতা মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজের সাথে ১৭০০ টাকায় চুক্তি করে। এতে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ লোকসানের ব্যবস্থা হয়। শুধু তাই নয়, এবারও ২০০৪ মডেলের নিচে পুরাতন মাইক্রোবাস দিয়ে পরিবহন কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদার। ২০২০সালের ৩১জানুয়ারি বিজিএফসিএলের চুক্তি শেষ হলে তার সঙ্গেই আবার গোপনে চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে কোম্পানী। এবার কাজ দিতে ২৫লাখ টাকার গোপন লেনদেন হয়েছে বলে চাউর আছে।

বিগত সময়ে একাজের দরপত্র অংশগ্রহনকারী এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সিঙ্গেল টেন্ডারে কোম্পানীর কর্মকর্তারা ঘুষ খেয়ে ঠিকাদার নিয়োগ দিচ্ছে। আমি এর আগে টেন্ডার দিলে আমাকে ইনফরমাল করা হয়। জোর করে আমাকে বাদ দেয়া হয়। এভাবে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্বসাত করছে তারা।

পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজের মালিক কাজী ইকবাল হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে মেসার্স তানুরা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে আবারো চুক্তি হচ্ছে বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শাহ আলমের আগ্রহে।

এবিষয়ে এই কর্মকর্তা তার বক্তব্যে বলেন, পিপিআর অনুযায়ী আমরা পুরাতন ঠিকাদারের সাথে চুক্তি করতে পারি। যদি তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করে তাহলে বিষয়টি কোম্পানি দেখবে। আমার কাজ শুধু ফাইলে সাক্ষর করা। বিজিএফসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান তপু জানান, নিয়মনীতি লঙ্গন করে কোন কিছু করা হয়নি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।