লেবাননে দম বন্ধ হয়ে বাংলাদেশী চাচা-ভাতিজার করুন মৃত্যু

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ : ১২:৩৬ অপরাহ্ণ ৩৪৭

মনির হোসেন রাসেল,লেবানন প্রতিনিধি:: লেবাননে এক মর্মান্তিক দূর্ঘঠনায় মারা গেছেন দুই প্রবাসী বাংলাদেশী চাচা-ভাতিজা। প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচাতে রুমে লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুনের তাপের ব্যবস্থায় অক্সিজেনের ঘাটতির কারনে ঘুমের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় প্রবাসীরা জানিয়েছে। গত বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের দেশটি সবচেয়ে প্রাচীনতম এলাকা সমৃদ্ধ শূর শহরে নিজেদের রুমে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-হবিগঞ্জের জেলার সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে রিপন মিয়া (৩২) ও একই এলাকার আফছার উদ্দিনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (২০),

নিহতদের লেবাননে প্রতিবেশী বাংলাদেশিরা জানায়, প্রায় চার বছর আগে বৈধ ভিসায় লেবাননে আসেন রিপন মিয়া এবং এখানে একটি কোম্পানিতে কাজ পান। পরের বছর তার ভাতিজা মোজাম্মেল কেও লেবানন আনেন। চাচা-ভাতিজা দু’জনেই শূর এলাকায় “লায়লা ইব্রাহিম কোম্পানিতে” একসঙ্গে কাজ করতেন এবং একসঙ্গেই একটি রুমে বসবাস করতেন।

প্রতিবেশীরা আরো জানান, লেবাননে গত ২/৩ সপ্তাহ ধরে প্রচন্ড শীত পড়েছে। সাথে চলছে প্রচুর শিলাবৃষ্টি ও তুষারপাত। শূর জেলায় এই সময়ে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়ে। তাপমাত্রা শূন্য থেকে মাইনাস ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকে।
মঙ্গলবার রাতে চাচা-ভাতিজা রাতের খাবার খেয়ে প্রচন্ড শীতের কারনে রুমের সব দরজা জানালা বন্ধ করে ভিতরে লাকড়ি দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

পরদিন বেলা দুপুর গণিয়ে বিকেল প্রায়। রুমের দরজা বন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হারিছ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষনা করে।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছে, সারারাত রুমে আগুন জ্বালানোর কারনে অক্সিজেনের ঘাটতির কারনে তাদের মৃত্যু হয়। তাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে আছে।

জানা গেছে, এর আগেও শীত মৌসুমে এ ধরনের ঘটনার অারো অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে লেবাননে। শীত আসলেই বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রবাসীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়। তারপর অসচেনতার কারণে এমন দূর্ঘটনা হচ্ছে বলে দূতাবাস জানিয়েছে।

বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব(শ্রম) আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। প্রবাসীরা একটু সচেতন হলেই এ ধরনের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শেষে দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পরিবারের কাছে দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।