নবীনগরে সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজসে ইজিপিপি প্রকল্পে চেয়ারম্যানের দুর্নীতির অভিযোগ

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ : ৭:৫৯ অপরাহ্ণ ১৩২১
চেয়ারম্যানের ছেলে এরশাদ (লাল গোল চিহ্নিত)

মোঃ রেজাউল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের এই প্রকল্পের ৪০ দিন ২১৪ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিক দিয়ে ২০০ টাকা করে কাজ করানোর কথা থাকলেও সেক্ষেত্রে ১০/১৫ জন নিজস্ব লোক দিয়ে কাজ করিয়ে সব টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ইউপির চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রসাশক বরাবর কুড়িঘর গ্রামের নজরুল ইসলাম ও বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী এই অভিযোগ করেন। একই সাথে এই অভিযোগ পত্রের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা , ডিজিএফআই, কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয় ও দুদকের কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিসে।

অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়,কিছু সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজসে চেয়ারম্যান এই দূর্নিতী করছেন। নাটঘর ইউনিয়নে (ইজিপিপি) প্রকল্পটিতে প্রতিদিন ২১৪ জন লোক দিয়ে ২০০/- টাকা দৈনিক বেতেনে ৪০দিন কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে নিজেদের আত্নীয়-স্বজন ১৫/২০ জন লোক দিয়ে এবং তালিকাভূক্ত ব্যতিত লোক দ্বারা কাজ করানো হচ্ছে। এমনকি চেয়ারম্যানের আপন ভাতিজি ফিরুজা বেগম, পিতা-আশ্রব আলী উক্ত নাম লেবারের তালিকায় ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ উক্ত চেয়ারম্যানের ভাতিজি পিত্রালয়ের দিক দিয়ে এবং শশুরালয়ের দিক দিয়ে অনেক বিত্তবান ও অর্থশালী।

অপরদিকে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত অঞ্জনা রানী সরকার পিতা-মখন্দ সরকার বিগত ১০/১২ বছর যাবৎ ভারতে বসবাস করছে, তাদের নামও একইভাবে হত দরিদ্রদের নামের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে। তারা ২১৪ জনের স্থলে নিজেদের মনগড়া মত ১৫/২০ জন লোক খাটিয়ে ২১৪ জনের নাম দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি.আই.ও) এবং ব্যাংকের ম্যানেজার সম্পূর্ণ যোগসাজসে এই অনিয়ম করা হচ্ছে। তারা সত্যতা জেনেও কোনো এক অজানা কারনে ব্যাংক থেকে সমস্ত টাকা উত্তোলন করে লোপাট করছে বলে অভিযোগ।

এইব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি.আই.ও) মিজানুর রহমানের কাছে মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এবিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

নাটঘর ইউনিয়নের বিদ্যাকুট জনতা ব্যাংক শাখার ম্যানেজার আল আমিনের সাথে মুঠুফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ৪০ দিনের বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। সব লেবার আসেনি। যে সব লেবার আসেনি সে সব লেবারের বেতন চেয়ারম্যান ছেলে এরশাদ ভাই নিয়েছেন। ১০/১২ বছর যাবত ভারত অবস্থানরত অঞ্জনা রানী সরকার বেতন কি ভাবে উত্তোলন করেছেন এমেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি না থাকলেও তার সাক্ষরের ভিত্তিতেই টাকা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে আরো লিখা হয়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন করে সেখানে দুইটি প্রকল্পের নামে কাজ করা হয়েছে। প্রথমে কাবিটা প্রকল্পের কাজ করা হলেও তার কয়েক মাস পর আবার একই রাস্তায় কাবিখা নামে আরেকটি প্রকল্পের কাজ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে নান্দুরা হাজী আশ্রাফ আলীর বাড়ির দক্ষিণ পূর্ব পার্শ্ব হইতে বিল পর্যন্ত পূনঃ নির্মাণ কাজ” এবং একই রাস্তায় রাস্তার নাম পরিবর্তন করে কাবিখা প্রকল্পের অধীন “২য় পর্যায়ে কুড়িঘর পূর্ব পাড়া নব নির্মিত ব্রীজ হইতে গাবুদ্দিনের বাড়ীর মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজ দেখিয়ে ভূয়া প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্ত টাকা লোপাট করেছে। অথচ এই দুইটি প্রকল্পের রাস্তা কিন্তু একটি রাস্তাকে দুইটি প্রকল্পের নাম ব্যবহার করেছে।

এছাড়াও অভিযোগে প্রকাশ, চেয়ারম্যান কাশেম তার অবর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগ না দিয়ে তার ছেলে এরশাদকে সেই দায়ীত্ব দিয়ে রাখেন। ফলে এরশাদ ক্ষমতার অপব্যাবহার করে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টিসহ অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকেন।

এবিষয়ে নাটঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্রমিকরা টাকা উঠাতে গেলে ব্যাংক ম্যানেজার প্রতি লেবারের কাছ থেকে ২০ টাকা করে রেখে দেন। সেই হিসেবে ৪০ দিনে ৮৫৬০ লেবারের কাছ থেকে ১লক্ষ ৭১ হাজার ২০০ টাকা ব্যাংক ম্যানেজার পেয়ে থাকেন বলে জানান চেয়ারম্যান।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।