যথাযোগ্য মর্যাদায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালিত

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ : ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ ৪৬২

 

আসাদুজ্জামান আসাদঃ ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান একুশে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরীর ও জেলা প্রশাসক,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার । এরপর আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,মহিলা আওয়ামীলীগ,সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ,মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ,প্রেস ক্লাব, বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচী পালিত হয়।
এ সময় বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কথা।

আজ শুক্রবার অমর ২১ শে ফেব্রুয়ারী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে বেদনার ও গর্বের দিন। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
গৌরবের আলোয় উদ্ভাসিত মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পূর্ণ হলো । ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিজের জীবন উৎস্বর্গ করে ভাষা শহীদরা জাতিকে দিয়ে গেছেন এক মহৎ ও দুর্লভ অধিকার।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র, যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ শাসক গোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে দৃপ্ত পায়ে রাজপথে নেমে আসে। সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে শহীন হন রফিক, সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ।

তাদের এই আত্মদানের মধ্য দিয়ে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা ভাষা। মায়ের ভাষার মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি বাঙালি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নতুন অনুপ্রেরণা। আর এই বিজয়ের পথ বেয়ে সূচিত হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন যার পরিণতি একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তাই ২১শে ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় পৃথিবীর বুকে অনন্য। বিশ্বে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে।
মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পালিত হচ্ছে দিনটি।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।