সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগ

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ : ১:৪৫ অপরাহ্ণ ২০৬৫

আসাদুজ্জামান আসাদ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের চম্পকনগর ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে।

সভাপতি ও সম্পাদক পৃথক ভাবে সেই কমিটিতে একই পদে দুইজন ভিন্ন ব্যাক্তিকে ভিন্ন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন। যা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সাক্ষরিত হলেও তা প্রকাশ পেয়েছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি।

বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের দুই কর্ণধারের এমন কান্ডে উপজেলা এবং ইউনিয়নের কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে নিন্দার ঝড়।

এই নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারন সম্পাদক দুইজনেই দুইবার পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।যা দৃষ্টি এড়াতে পারেনি জেলার নেতা-কর্মীদেরও।

২২ ফেব্রুয়ারি দেয়া নবগঠিত চম্পকনগর ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম রাজভী তার ব্যাক্তিগত ফেইসবুক আইডি থেকে প্রেস রিলিজ দেন যেখানে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মোঃ আলফু মিয়া কে। যেখানে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষরটি স্পষ্ট।

এর কিছু সময় পর নবগঠিত চম্পকনগর ইউনিয়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক পদে মোঃ জাবেদ ওমর নামে চম্পকনগর ইউনিয়ন কমিটিটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেস রিলিজ দেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব হোসাইন।উনার দেয়া প্যাডের মধ্যেও সভাপতি/সাধারন সম্পাদক এর স্বাক্ষর স্পষ্ট।

এর আগেও সিঙ্গারবীল ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তানভীর মিয়া নামে একটি ছেলেকে নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অভিনন্দন জানাল তানভীর মিয়া নামে এক ব্যাক্তিকে। আবার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক অভিনন্দন জানালো আরেকজন তানভীর মিয়াকে।যার সমাধান এখনও হয়নি। ওই পদের আসল সাংগঠনিক সম্পাদক কে এনিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেলো?

এই ব্যপারে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক হৃদয় আহম্মেদ তেপান্তর কে জানান,কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ গতরাতে একই কমিটি সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক আলাদা দুইটি প্রেস দেয়।যা দেখার পর আমরা সবাই হতভাগ।কারন চম্পাকনগর আমার ইউনিয়ন অথচ আমি জানি না। বিষয়টা আমার জন্য লজ্জাজনক।
আমাদের উপজেলার সভাপতি / সম্পাদকের দীর্ঘদিন যাবত মতের অমিল এবং দ্বন্দ্ব চলছে। যা এখন প্রকাশ্য।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তেপান্তরকে বলেন,আমরা সবার অনুমতি নিয়ে আমার প্রেস করা কমিটিতে দুইজনই গত ১৫/০২/২০২০ ইং সই করি।গতকাল হঠাৎ আমার অজান্তেই সে ফ্লুইড দিয়ে সাধারণ সম্পাদক এর নাম পরিবর্তন করে প্রেস দেয়।যার কারনে আমি তাকে অগণিত ফোনকল দিয়েও যোগাযোগ করতে না পেরে আমার কাছে থাকা অরজিনাল কমিটি প্রেস রিলিজ করি। কমিটির প্যাড রিজভীর কাছেই আছে যাতে দেখবেন ফ্লুইড দিয়ে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এই ব্যাপার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিও অবগত আছেন।

এই ব্যপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাজভী তেপান্তর কে বলেন,সভাপতির অনুমতিক্রমেই নাম পরিবর্তন করে চম্পাকনগর কমিটিতে আমি সাক্ষর করি।এবং তা প্রেস দেই।সভাপতি মাহবুব হোসাইন আমার সীল-সাক্ষর নকল করে পরে আরেকটি কমিটি প্রেস করে।আমার কাছে অরজিনাল কপি আছে।

বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়ার সাথে যোগাযোগ করলে উনি জানান,কমিটি দেয়ার আগে ছাত্রলীগ আমার সাথে যোগাযোগ করেছিল আমি তাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাবেদ এর কথা বলেছিলাম কিন্তু ছাত্রলীগের সাধারণত সম্পাদক রাজভী আমার কথা রাখেনি। এইটা সত্যি আমার জন্য বিব্রতকর বিষয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তেপান্তরকে বলেন,ব্যাপারটা জেনেছি। আজকের ভিতর ওদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে।তিন দিনের ভিতর সদোত্তর দিতে না পারলে।দুইজনের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন বলেন,ব্যাপারটা সম্পর্কে অবগত হয়েছি।জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ হতে এই ব্যাপারে বিজয়নগর উপজেলা কমিটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে।
সন্তোষজনক উত্তর না পেলে সাংগঠনিক পন্থায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।