সার্ভার জটিলতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় জন্ম নিবন্ধন পেতে নাগরিকদের চরম ভোগান্তি

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ : ১:৫৫ অপরাহ্ণ ২৫১২

আসাদুজ্জামান আসাদ: সার্ভার জটিলতায় প্রায় দুই মাস যাবত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় বন্ধ রয়েছে জন্ম-মৃত্যুসহ সব ধরনের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম। ফলে সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে,পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে কিংবা বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ করতে গিয়ে নিবন্ধনের জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নাগরিকরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় এখন পর্যন্ত হাজারের বেশি আবেদন জমে আছে। পৌরসভায় নাগরিকদের সেবাসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি সেবা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন। স্কুলে-কলেজে ভর্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, বিয়ে, জমি বেচাকেনা, পাসর্পোটসহ গুরুত্বপুর্ণ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয় জন্মনিবন্ধন। অধিক গুরুত্বপুর্ণ হওয়ায় নাগরিকবৃন্দগণ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিষদে ভিড় করে থাকেন। শিশুর বয়স ৪৫ দিনের ভেতরে হলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জন্মসনদ দেওয়া হয়। বয়স পাঁচ বছরের নিচে হলে ফি দিতে হয় ২৫ টাকা ও পাঁচ বছরের বেশি হলে দিতে হয় ৫০ টাকা। কিন্তু আবেদন করার পর থেকেই শুরু হয় তাদের বিড়ম্বনা ও চরম ভোগান্তি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় নিবন্ধন সনদের জন্য। পৌরসভায় যোগাযোগ করলেই বলা হয় হচ্ছে না, ক’দিন পর আসেন। এভাবেই কাটে দিন ও মাস। কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে সহজ সরল জবাব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের, তা হলো “সার্ভার স্টেশন খারাপ, কাজ হচ্ছে না”। ফলে জন্ম ও মৃত্যু সনদপত্র নিতে আসা নাগরিকদের চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

সরকারের গুরুত্বপুর্ণ একটি সেবা জন্ম ও মৃত্যু সনদ। অনলাইনের কাজের অবস্থা বেগতিক দেখে হতাশা প্রকাশ করছেন পৌর নাগরিকগণ। জন্মসনদ অফিসে আসা আনোয়ার হোসেন জানান,আমি ১০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছি।আমার আইডি কার্ড না থাকায় পাসপোর্ট নবায়ন করতে জন্ম সনদ প্রয়োজন। আজ দেড় মাস যাবত আমি পৌরসভার এই অফিসে ঘুরাঘুরি করছি কিন্তু ওনারা দিতে পারছে না। জিজ্ঞাসা করলেই সার্ভার সমস্যার কথা বলছে এবং অনেকের সাথে খারাপ আচরণ অ করছে। আমার ছুটি প্রায় শেষের দিকে, বড় বিপদে পড়ে গেছি। কতৃপক্ষকে এইদিকে নজর দেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

জন্ম সনদ নিতে আসা ভাদুঘরের ইসমাইল মিয়া বলেন,আমার বাবা প্রবাসী ছিলেন। ওনার আইডি কার্ড নাই। বাড়ির দলিল এর কাজে জন্ম সনদ লাগবে। কিন্তু ১মাস যাবত আবেদন করেও পাচ্ছি না।

শহরের শেরপুর এলাকার নাসিমা বেগম বলেন,আমার মেয়ের জন্ম সনদের আবেদন করেছিলাম আরো অনেক আগে কিন্তু এখনও পাইনি। দুইদিন পর দিবে জানিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রদান রুমের কম্পিউটার অপারেটর সুমন জানান, পৌর অফিসে প্রতিদিন নিবন্ধনের আবেদন জমা পড়ছে প্রায় অর্ধশত। এখন বিকেলের পর অথবা রাতে কিছু কাজ করা যায় তাও নতুন নিবন্ধন এর ক্ষেত্রে।পুরাতন নিবন্ধন গুলা একেবারেই কাজ করা যাচ্ছে না। এতে করে মানুষ আমার সাথে খারাপ আচরণ করছে। তবে আগামী মাসের শেষের দিকে সার্ভার ঠিক হতে পারে বলে আমাকে জানিয়েছে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।